বাংলাতেও কার্বাইড গানের হিড়িক লেগেছে। মালদহে কার্বাইড বন্দুকের বিস্ফোরণে চোখের দৃষ্টি হারাতে বসেছেন, এমন ১০ জনের সন্ধান মিলেছে।

গ্রাফিক্স: দ্য ওয়াল
শেষ আপডেট: 25 October 2025 18:39
দ্য ওয়াল ব্যুরো: দীপাবলির (Diwali) আলোয় ঝলমল করেছিল গোটা মধ্যপ্রদেশ (Madhya Pradesh)। কিন্তু আনন্দের সেই রাতই যেন অন্ধকারে ঢেকে গেল শতাধিক পরিবারের জীবনে। মাত্র তিন দিনে রাজ্যের বিভিন্ন জেলায় চোখে মারাত্মক চোট নিয়ে হাসপাতালে ভর্তি হয় ১২২ জন শিশু। তাদের মধ্যে অন্তত ১৪ জন দৃষ্টিশক্তি হারিয়েছে। কারণ— ‘কার্বাইড গান’ (Carbide Guns), স্থানীয় ভাষায় যাকে বলে ‘দেশি ফায়ারক্র্যাকার গান’ (Desi Firecrackers Gun)।
চিন্তার বিষয়, এই পরিস্থিতি বাংলাতেও কার্বাইড গানের হিড়িক লেগেছে। মালদহে কার্বাইড বন্দুকের বিস্ফোরণে চোখের দৃষ্টি হারাতে বসেছেন, এমন ১০ জনের সন্ধান মিলেছে।
কী এই কার্বাইড গান?
এটি আসলে কোনও খেলনা নয়, এক ধরনের বিপজ্জনক রাসায়নিক বিস্ফোরক যন্ত্র। সাধারণত লোহার বা পিভিসি পাইপ দিয়ে বানানো হয়। এর ভিতরে ব্যবহৃত হয় ক্যালসিয়াম কার্বাইড, যা জলের সংস্পর্শে এলে অ্যাসিটিলিন গ্যাস তৈরি করে। গ্যাসটি আগুনের সংস্পর্শে এলে প্রচণ্ড শব্দে বিস্ফোরণ হয়, ঠিক আতশবাজির মতো।
মাত্র ২০০ টাকায় স্থানীয় হাটবাজার বা মেলায় মিলছে এই ভয়ংকর যন্ত্র। অনেক ক্ষেত্রেই কোনও নিরাপত্তার মাপকাঠি নেই, নেই সতর্কীকরণ লেবেলও। পুলিশের মতে, এগুলি “মিনি ক্যানন” নামে বিক্রি হচ্ছে রাস্তাঘাটে।
বিপদের উৎসবে পরিণত দীপাবলি
ভোপাল, গোয়ালিয়র, ইন্দোর— সব জায়গা থেকেই এসেছে ভয়াবহ দুর্ঘটনার খবর। একাধিক চক্ষু বিশেষজ্ঞ জানিয়েছেন, এত গুরুতর চোখের আঘাত তাঁরা সাম্প্রতিক বছরগুলোয় দেখেননি। কেউ একচোখে অন্ধ, কেউ বা দু’চোখেই দৃষ্টিশক্তি হারিয়েছেন। অনেকের কানের পর্দাও ফেটে গিয়েছে বিস্ফোরণের চাপে।
চিকিৎসকদের কথায়, “এই কার্বাইড গান আসলে ছোট বোমা। শিশুরা বুঝতে না পেরে খেলার ছলে জীবনভর অন্ধকার ডেকে আনছে।
কেন চিন্তিত হবেন অভিভাবকরা
বেশির ভাগ ভুক্তভোগীই ৮ থেকে ১৪ বছরের। তারা ইন্টারনেটে দেখা ভিডিও দেখে বানাচ্ছে বা ব্যবহার করছে এসব 'বাজি' বা গান। অনেকেই ভাবে, বাজারে বিক্রি হচ্ছে মানেই নিরাপদ। কিন্তু বাস্তবে এসব যন্ত্রের কোনও মান নিয়ন্ত্রণ বা অনুমোদনই নেই।
কীভাবে সন্তানকে রক্ষা করা যাবে?
দুর্ঘটনা হলে দ্রুত চিকিৎসা নিন– চোখে বা মুখে আঘাত পেলে ঘষবেন না, পরিষ্কার কাপড়ে ঢেকে সঙ্গে সঙ্গে হাসপাতালে যান।
প্রশাসনের উদ্যোগ
দুর্ঘটনার পর গোয়ালিয়র-সহ একাধিক জেলায় কার্বাইড গান বিক্রি ও ব্যবহারে নিষেধাজ্ঞা জারি করেছে প্রশাসন। পুলিশের পক্ষ থেকে বাজেয়াপ্ত করা হয়েছে শতাধিক ডিভাইস, গ্রেফতারও হয়েছেন একাধিক বিক্রেতা। হাসপাতালগুলিতে আলাদা আই ওয়ার্ড খোলা হয়েছে, জরুরি অস্ত্রোপচার টিমও প্রস্তুত।
স্কুল, পাড়া কমিটি এবং অভিভাবকদের উদ্দেশে প্রচার শুরু হয়েছে— এই যন্ত্র খেলনা নয়, ছোট্ট বিস্ফোরক। সামান্য অসাবধানতাই সারাজীবনের অন্ধকার ডেকে আনতে পারে।