.jpeg)
গ্রাফিক্স: শুভ্র শর্ভিন
শেষ আপডেট: 27 March 2025 16:39
ঘরোয়া পরিবেশে বিকশিত হয়েছিল সুকুমার রায়ের ‘ননসেন্স ক্লাব’ ও ‘সাড়ে বত্রিশভাজার আসর’ (পড়তে ক্লিক করুন এই লিঙ্ক)। নামে লঘু হলেও কাজকর্ম ছিল গুরুগম্ভীর, গুরুত্বপূর্ণ। সাহিত্য আলোচনা থেকে দেশহিতৈষণা—এক ব্যাপ্ত পরিসরকে আত্মস্থ করতে চেয়েছেন যুবক সুকুমার।
আমরা থেমেছিলাম ১৯১১ সালে। জানিয়েছিলাম: উপেন্দ্রকিশোরের বড়ছেলে বিদেশ যাচ্ছেন। ‘এস এস আরাবিয়া’ নামে একটি জাহাজে অক্টোবর মাসে যাত্রারম্ভ। গন্তব্য লন্ডন। ফিরে আসবেন ১৯১৩-তে৷ এই দু'বছরের মধ্যে শিখে ফেলবেন অনেক কিছু৷ যার মধ্যে অন্যতম: ফোটোগ্রাফি আর প্রিন্টিংয়ের প্রযুক্তিগত হালহকিকতের সঙ্গে হাতেকলমে পরিচিতি৷ এ তো গেল ‘নেওয়া’-র দিক৷ এর পাশাপাশি ছিল ‘দেওয়া’। সেটা কী? না, উপেন্দ্রকিশোর-উদ্ভাবিত উন্নততর হাফটোনের কাজ লন্ডনের বিশেষজ্ঞদের সামনে পেশ করা।
কাঠের উপর খোদাই করা ব্লকে ছাপার বদলে তামা ও দস্তার পাত খোদাই করে ছাপলে যে কোনও ছবি আরও ভালভাবে ফুটে ওঠে—এই মূল সত্যকে কাজে লাগিয়ে হাফটোন ব্লক নির্মাণের নির্দিষ্ট নিয়ম প্রণয়ন করেন উপেন্দ্রকিশোর। তাও এমন একটা সময়ে, যখন ইউরোপে কেউই এ বিষয়ে সেভাবে কোনও তত্ত্ব দাঁড় করাতে পারেননি। যা কিছু হত, সব অনুমানের উপর। উপেন্দ্রকিশোর স্ব-উদ্ভাবিত রীতিকে শুধু নিজের কাজে লাগালেন না, এই নিয়ে ‘পেনরোজ পিকটোরিয়াল অ্যানুয়াল’ নামে একটি পত্রিকা, যাকে মুদ্রণ জগতের বাইবেল বলে মনে করা হয়, সেখানে সাকুল্যে ন'টি গবেষণাধর্মী প্রবন্ধও লিখলেন। সুকুমার চেয়েছিলেন বাবার এই আবিষ্কারকে আরও ব্যাপকভাবে প্রচার করতে। সে কাজে, বলা বাহুল্য, তিনি সফলও হন।
লন্ডনে পৌঁছে সুকুমার ভর্তি হন ‘স্কুল অফ ফোটো এনগ্রেভিং অ্যান্ড লিথোগ্রাফি’-তে। ঘুরে বেড়ান বিভিন্ন কারখানা, ল্যাবরেটরি, স্টুডিও। নেড়েচেড়ে দেখেন ফ্যাক্টরির কাজ। প্রদর্শনীতে অংশ নেন, বুঝে নিতে চান কৃৎকৌশল। পরের বছর নাম লেখান ‘ম্যাঞ্চেস্টার স্কুল অফ টেকনোলজি’-তে। অভিজ্ঞতার কথা, বিদেশযাপনের সুবিধা-অসুবিধার কথা বাবা-মাকে লিখে পাঠান। টাই পরার সমস্যা থেকে কিউ গার্ডেন্স ভ্রমণ—সবকিছু আন্তরিকভাবে তুলে ধরেন চিঠিতে৷
ততদিনে উপেন্দ্রকিশোর ‘সন্দেশ’ পত্রিকা সম্পাদনা শুরু করেছেন (১৯১৩)। সুকুমার প্রবাসে বসেই লিখতেন ছড়া, আঁকতেন ছবি৷ তারপর ডাকযোগে সে সব পাঠিয়ে দিতেন।
ইতিমধ্যে কাজের মেয়াদ ফুরলো। অভিজ্ঞতার ভাঁড়ারও ততদিনে ভরে উঠেছে। ডিগ্রির লিস্টিতে জুড়েছে নতুন একটি নাম: ‘এফআরপিএস’। সেই সময় আর কোনও ভারতীয় এই উপাধি লাভ করেননি।
যাই হোক। দেশে ফিরে বাবার হাতে তৈরি ‘ইউ রায় অ্যান্ড সন্সে’র কাজে নিজেকে নিয়োজিত করেন সুকুমার। কিছুদিন বাদে সুপ্রভাদেবীকে বিবাহ। সপরিবারে ১০০ নং গড়পার রোডের বাড়িতে চলে আসা। দু'বছর বাদে উপেন্দ্রকিশোরের মৃত্যু।
আঠাশ বছরের সুকুমারের কাঁধে তখন অনেক দায়িত্ব। একদিকে পরিবার। অন্যদিকে বাবার প্রতিষ্ঠিত ছাপাখানা, পত্রিকা সম্পাদনা। পাশাপাশি ব্রাহ্ম সমাজের সঙ্গেও নিবিড়ভাবে যুক্ত তিনি—সেই ‘ননসেন্স ক্লাবে’র সময় থেকেই কিশোর, যুবকদের সঙ্গে হাতে হাত মিলিয়ে ব্রাহ্ম সমাজের যুবশাখার পুনরুজ্জীবন ঘটিয়েছিলেন।
ততদিনে ‘প্রবাসী’র মতো পত্রিকার সঙ্গেও আন্তরিক যোগ তৈরি হয়েছে। লিখছেন। আসরে যোগ দিচ্ছেন। সেই সুবাদে নিজের চারদিকেও তৈরি হচ্ছে বলয়। জমে উঠছে রসচক্র—সেই আগের মতোই৷ যোগ দিচ্ছেন শিল্প-সংস্কৃতির একাধিক ব্যক্তিত্ব৷ কেউ সংগীতানুরাগী, কেউ সাহিত্যিক, কেউ চিত্রশিল্পী। কালিদাস নাগ, অজিতকুমার চক্রবর্তী, সুনীতিকুমার চট্টোপাধ্যায়, কিরণশঙ্কর রায়, চারুচন্দ্র বন্দ্যোপাধ্যায়—গুণীসমাগমে গড়পার রোডের বাড়িটি প্রতিদিন সরগরম। গানবাজনা, কবিতাপাঠ, দেশি-বিদেশি সাহিত্যালোচনা, অভিনয়, রসালাপ—নানান রসে ভরে উঠত আড্ডাচক্র৷
শুধু আলাপ-বিলাপ নয়, আসরের আলোচ্য বিষয়ও ছিল বহুধাবিভক্ত। ‘বাংলার পাট শিল্প’ থেকে ‘স্বামী বিবেকানন্দ’। ‘আঞ্চলিক ভাষা’ থেকে ‘প্লেটোর নন্দনতত্ত্ব’—সবকিছু অক্লেশে ঠাঁই পেত। আর উড়ে এসে জুড়ে বসত প্রচুর খাবার। বাঙালির আড্ডা সুখাদ্য ছাড়া বেমানান, অসম্পূর্ণ। তেলেভাজা, মিষ্টি, চা—ভেতর রায়বাড়ির হেঁসেল থেকে থেকে সরবরাহ হত। এতটাই অফুরান ছিল তার পরিমাণ যে, আদিতে রাখা আড্ডার নাম ‘মানডে ক্লাব’ (যেহেতু সোমবার বসত) অপভ্রষ্ট হয়ে দাঁড়ায় ‘মন্ডা ক্লাবে’। খাবার আর খবর—দুই-ই চলত সমানুপাতে। তাই ‘মানডে’ নামের পানসে ব্যাপারটি সুকুমার মেনে নিতে পারেননি, তাকে ‘মন্ডা'-য় মিঠে করে তোলেন।
গভীর তাত্ত্বিক আলোচনার পাশাপাশি আড্ডাজুড়ে ছিল ভরপুর বিনোদন। আর এই বিনোদনের অন্যতম মাধ্যম হয়ে উঠেছিল প্যারোডি। আমাদের প্রথাগত ও পরিচিত ‘সিরিয়স’ ক্লাব কিংবা সংঘে যে-মর্মে নোটিশ জারি হয়, সেই ভঙ্গিটিকে ব্যঙ্গ করে মন্ডা ক্লাবের মুখপত্র ‘সাড়ে বত্রিশভাজা’য় বিজ্ঞপ্তি ছাপা হত। একবার সম্পাদক শিশিরকুমার দত্ত কোনও একটি সংখ্যায় লেখেন:
“সম্প্রতি ক্লাবের সর্ব্বজনস্বীকৃত সম্পাদকরূপে আমি ‘অধিকারী’ উপাধি গ্রহণ করিয়াছি। ইহাতে কোন কোন ঈর্ষাপরায়ণ ‘সভ্য’ অসঙ্গতভাবে আপত্তি করিতেছেন। কালিদাসবাবু আপত্তি করিতে চান করুন, কিন্তু আমি স্বোপার্জ্জিত উপাধি ছাড়িব না।
এইরূপ অন্যায় আপত্তির বিশেষ প্রতিবাদ বাঞ্ছনীয়। অনেক হিসাব করিয়া দেখিলাম, আগামী মঙ্গলবার ২১শে আগষ্ট, বাংলা তারিখ জানি না, আমাদের ক্লাবের জন্মদিন, অর্থাৎ প্রায় জন্মদিন। ঐ দিনই সন্ধ্যার সময় ১০০নং গড়পার রোড, অর্থাৎ কালাবোবা ইস্কুলের পশ্চাতে, সুকুমারবাবু নামক ক্লাবের একজন আদিম ও প্রাচীন সভ্যের বাড়ীতে সভার আয়োজন হইয়াছে। বক্তা প্রায় সকলে, সভাপতি আপনি, বিষয় গম্ভীর – সুতরাং খুব জমিবার সম্ভাবনা।
আসিবার সময় একখানা সেকেন্ডক্লাস গাড়ী সঙ্গে আনিবেন – আমায় ফিরিবার পথে নামাইয়া দিতে হইবে। খাওয়া গুরুতর হইবার আশঙ্কা আছে।
ইতি
শশব্যস্ত –
শ্রীশিশিরকুমার দত্তাধিকারী
সুযোগ্য সম্পাদক”
(পুরোনো বানান অপরিবর্তিত)”
বাইরের ধাঁচাটি সাবেকি ‘নোটিসে’র আদলে গড়া। কিন্তু ভেতরে মজা ও কৌতুকের লাবণ্য ছড়ানো!
বিজ্ঞপ্তির পাশাপাশি আমন্ত্রণপত্রেও প্যারোডি-র ছোঁয়া। বিগগ্ধ কবি ও গীতিকারদের প্রসিদ্ধ কবিতা ও গানই মূলত টার্গেট। আর সেই ছন্দে গাঁথা হত ব্যঙ্গকৌতুক। রবীন্দ্রনাথের ‘আমাদের শান্তিনিকেতনে'র সুরে গান বেঁধেছিলেন ‘মন্ডা ক্লাবে’র অন্যতম সভ্য সত্যেন্দ্রনাথ দত্ত:
“মন্ডা-সম্মিলন
আমাদের মন্ডা-সম্মিলন।
আরে না–তা’ না, না–
আমাদের Monday সম্মিলন।
আমাদের হল্লারই কুপন।
তার উড়ো চিঠির তাড়া
মোদের ঘোরায় পাড়া পাড়া,
কভু পশুশালে হাসপাতালে আজব আমন্ত্রণ।
(কভু কলেজ-ঘাটে ধাপার মাঠে ভোজের আকর্ষণ)…”
প্যারোডি চলছে আর সুকুমার রায় নেই—এটা কখনও হতে পারে? মজার ছলে বেশ কয়েকটি রসসিক্ত আমন্ত্রণপত্র লিখেছিলেন তিনি। নিশানা সেই রবীন্দ্রনাথ। পূজা পর্যায়ের বিখ্যাত গান ‘মেঘ বলেছে যাব যাব'-র আদলে সুকুমার লেখেন:
“কেউ বলেছে খাবো খাবো,
কেউ বলেছে খাই
সবাই মিলে গোল তুলেছে–
আমি তো আর নাই।
ছোটকু বলে, রইনু চুপে
ক’মাস ধরে কাহিল রূপে!
জংলি বলে ‘রামছাগলের
মাংস খেতে চাই’।
যতই বলি ‘সবুর কর’—
কেউ শোনে না কালা,
জীবন বলে কোমর বেধে,
কোথায় লুচির থালা?
খোদন বলে রেগেমেগে
ভীষণ রোষে বিষম লেগে—
বিষ্যুতে কাল গড়পারেতে
হাজির যেন পাই।”
ক্লাবের আসর মাঝেমধ্যে নিস্তরঙ্গ হত। হয়তো ব্যক্তিগত কাজের চাপে কেউ কেউ আসতে পারছেন না। তখনও বকাঝকা নয়, প্যারোডির চিমটি কেটেই আড্ডার আসর তরঙ্গ তুলতেন সুকুমার। একবার যেমন সম্পাদক শিশিরকুমার দত্তের অনুপস্থিতি নিয়ে বেঁধেছিলেন বিজ্ঞপ্তির ছড়া:
“সম্পাদক বেয়াকুব
কোথা যে দিয়েছে ডুব—
এদিকেতে হায় হায়
ক্লাবটি তো যায় যায়।
তাই বলি সোমবারে
মদগৃহে গড়পারে
দিলে সবে পদধূলি
ক্লাবটিরে ঠেলে তুলি।
রকমারি পুঁথি কত
নিজ নিজ রুচিমত
আনিবেন সাথে সবে
কিছু কিছু পাঠ হবে
করজোড়ে বারবার
নিবেদিছে সুকুমার।”
এর প্রত্যুত্তরে শিশিরকুমারও ছুড়ে দেন যোগ্য জবাব:
“আমি, অর্থাৎ সেক্রেটারি,
মাস তিনেক কলকাতা ছাড়ি
যেই গিয়েছি অন্য দেশে,
অমনি কি সব গেছে ফেঁসে!
বদলে গেছে ক্লাবের হাওয়া,
কাজের মধ্যে কেবল খাওয়া,
চিন্তা নেই কো গভীর বিষয়,
আমার প্রাণে এ-সব কি সয়?
এখন থেকে সমঝে রাখো,
এ-সমস্ত চলবে না কো,
আমি আবার এইছি ঘুরে,
তান ধরেছি সাবেক সুরে,
মংগলবার আমার বাসায়,—
আর থেকো না ভোজের আশায়—
শুনবে এসো সুপ্রবন্ধ
গিরিজার বিবেকানন্দ।”
শুধু পদ্য নয়, বিশুদ্ধ গদ্যেও চলত ঠাট্টাতামাশা। কোনও একটি সংখ্যায় ছাপা হয়:
“শুভ সংবাদ
সম্পাদক জীবিত আছেন
আগামী সোমবার
২৫ নং সুকিয়া স্ট্রীটে
৬ ঘটিকার সময়
তাঁহার শ্রীমুখচন্দ্র দর্শনার্থ
ভক্তসমাগম হইবে।”
এই ক্লাবের থিম সং ছিল রবীন্দ্রনাথের ‘আমরা লক্ষ্মীছাড়ার দল’। গড়পারের দোতলায় বসার ঘরে আসর শুরুর আগে এই গানের তালে সকলে মিলে একচোট নেচে নিতেন। আর নীচে খাবারের রেবাক সাজাতে সাজাতে রায়বাড়িত বউদের মাথায় ঘনাত দুশ্চিন্তা: সমবেত নৃত্যের চোটে ছাদটাই না ভেঙে পড়ে!
আসরে অন্ত:পুরের মেয়েরা সরাসরি যোগ না দিলেও উপলক্ষ হয়ে উঠেছিলেন। সুবিনয় রায়ের বিয়ে ঠিক হল মধ্যপ্রদেশের নামজাদা ডাক্তার লক্ষ্মীনারায়ণ চৌধুরির মেয়ে পুষ্পলতা বা পুষুর সঙ্গে৷ ততদিনে সুকুমার বিবাহিত৷ স্ত্রী সুপ্রভা দেবীর ডাকনাম ছিল টুলু। তাই দুই বউয়ের নাম মিলিয়ে লেখা হল নিমন্ত্রণপত্র:
“আসছে কাল, শনিবার
অপরাহ্ন সাড়ে চার,
আসিয়া মোদের বাড়ি,
শুভ পদধুলি ঝাড়ি,
কৃতার্থ করিলে সবে
টুলুপুষু খুশি হবে।”
তাঁর লেখা গান, কবিতা ‘মন্ডা ক্লাবে’র মার্কেটে বিদ্ধ হচ্ছে দেখেও রবীন্দ্রনাথ কিন্তু এতটুকু অপ্রসন্ন হননি। উল্টে ১৯১৭ সালে সম্মিলনের পক্ষ থেকে দেওয়া সংবর্ধনা তিনি প্রসন্নচিত্তেই গ্রহণ করেছিলেন৷
১৯১৯ সাল পর্যন্ত এই ক্লাব জমজমাট ছিল। এরপর কালাজ্বরে আক্রান্ত হন সুকুমার রায়। দীর্ঘ আড়াই বছর রোগশয্যায় থাকেন৷ মোটা তাকিয়ায় ভর দিয়ে উপুড় হয়ে শুয়ে আঁকতেন, লিখতেন৷ ওই অবস্থাতেই ঘরটিকে করে তুলেছিলেন ‘সন্দেশে'র প্রাণকেন্দ্র। বিছানায় শুয়ে-বসে ভাই সুবিনয়ের সঙ্গে চালাতেন আলোচনা৷ কখনও ইউ রায় অ্যান্ড সন্স নিয়ে৷ কখনও জটিল বৈষয়িক সমস্যা নিয়ে৷
শরীর ভাঙছিল৷ প্রাণের আরাম জোগাতেন ক্ষিতিমোহন সেন৷ শোনাতেন ভক্তিকথা। আর গান শোনাতে আসতেন স্বয়ং রবীন্দ্রনাথ৷ শেষদিন গেয়েছিলেন: ''দুঃখ এ নয়, সুখ নহে গো,/গভীর শান্তি এ যে।”
এরপরের প্রথম প্রভাবেই সূর্য অস্ত যায়। ঘনিয়ে আসে ঘুমের ঘোর। গানের পালাটিও সাঙ্গ হয়৷ সুকুমারের মৃত্যুর পর রবীন্দ্রনাথ সুপ্রভাকে পাঠান স্বহস্তে লেখা একটি কবিতা:
“শেষ নাহি যে, শেষ কথা কে বলবে?/ আঘাত হয়ে দেখা দিলে,/ আগুন হয়ে জ্বলবে।”