
চুমু দিবস।
শেষ আপডেট: 13 February 2025 16:13
ঠোঁটে আমার অযুত চুমুর (Kiss Day) দাগ। আমার গালে, আমার মুখে, কপালে, চিবুকে। দুই ভুরুর ঠিক মাঝখানে। ভোরে চুমু, রাতগভীরে চুমু, ভরদুপুরে চিলেকোঠার গোপন ঘর থেকে দিনের আলোয় প্রকাশ্যে চুমু। চুমু কি কারও একলার! প্রেমিক-প্রেমিকারই ভালবাসার সই! যা লেখা হয় একমাত্র ঠোঁটের কাগজে।
স্কুলের ফিজিক্যাল এডুকেশন শিক্ষক মনোজবাবু একবার আমার ব্রহ্মতালুতেও চুম্বন করেছিলেন। ইন্টার স্কুল ফুটবলের এক খেলায় ছিলাম একস্ট্রা প্লেয়ার। ৫ মিনিট আগে নেমে শেষ মিনিটে গোল শোধ করায় মাঝবয়সি মনোজবাবু ছুটে এসে কোলে তুলে নিয়েছিলেন। তারপর কোল থেকে নামানোর পর আমার মাথায় চুমু খেয়ে বলেছিলেন, জিও বাচ্চা! তোমার চুম্বনের তো স্থান-কাল-পাত্র জ্ঞান নেই। কংসাবতীর তীর থেকে ইটখোলার আড়াল, লামাহাট্টার কাঠের কুঁড়ে থেকে ব্রিগেডের জনসমুদ্রে চুমুর ঢিল ছোড়া।

আমার প্রথম চুমু বিনিময়, সে আমার প্রথম প্রেমিকা। আমার মায়ের সঙ্গে। আধঘুমে দেয়ালা করার সময়, স্তন্যপানের কালে, ল্যাংটো হয়ে চান করানোর সময়। ঘুমপাড়ানোর সময় আমার কপালের উপর নিজের উষ্ণ গালটা ঠেকিয়ে মা বলত, এবার ঘুমো সোনা। বলে আমার গালে চকাস করে একটা চুমু খেত।

গ্রীষ্মের ভরদুপুরে মা ঘুমোলে, গলিতে ড্যাংগুলি খেলতাম। পাশের বাড়িতে বিকেলের রান্নার উনুন ধরালে ঘুম ভেঙে মা যখন দেখত, পাশে সোনার চাঁদ উধাও, তখন চপেটা-চুমু দিতে দিতে ঘরে ঢোকাত। কাঁদলে ঠোঁট ঠেকাত গালে, কী জ্বালা সেই চুম্বনে! চড়ের চেয়েও বেশি জ্বালা সেই অপমানে!
মাধ্যমিকের রেজাল্ট বেরল। রাস্তায় গেজেট দেখে বাড়িতে ছুটে এসে বললাম। বাবার প্রশ্ন, পুরো পাশ, নো ব্যাক। অঙ্কে? না। সেকেন্ড ডিভিশন। খাট থেকে লাফিয়ে উঠে বোধহয় ৩-৪টে চুমু খেয়েছিল বাবা। আমার অঙ্কে ব্যাক পাওয়া নিয়ে যিনি বাজি ধরেছিলেন। চুমু খেয়েছিলেন ৫০ টাকা সহ শিক্ষকের কাছে হেরে যাওয়ার জন্য। আমার বাবা অন্য একটি স্কুলের অঙ্কের শিক্ষক ছিলেন।

বিজয়া দশমীতে প্রণামের পর মুখের সর্বাংশে চুমু জমা পড়ত। পিসিমা, বউদিরা, পাড়ার জেঠু, বন্ধুদের মায়েরা। ওষ্ঠরঞ্জনীহীন সেই চুমুর দাগ আজও রোমকূপে লেগে আছে। আমার এক দিদা, নাতি-নাতনি মহলে যাঁর ডাক ছিল কালো দিদা। কেউ তাঁর চুমু চাইত না। আমিও না। তিনি খয়ের-দোক্তা দিয়ে পান খেতেন। চুমু খেলেই মুখ ধুতে যেতে হতো।
তখন তার প্রেমে আমি হাবুডুবু। একদিন ধুম জ্বর! সে এল। আমার গরম তাওয়ার মতো কপালে ঠান্ডা হাত রাখল। ঘরে কেউ নেই। আমিও তাকে আই লাভ ইউ বলার জন্য তার হাতের চেটো আমার ঠোঁটের কাছে আনতে যাচ্ছি…এমন সময় সে বলেছিল, আমি তোকে ভাইয়ের মতো দেখি। ওটাই আমার একমাত্র অসমাপ্ত চুমু। তারপর আর তার সঙ্গে দেখা হয়নি।

সেদিন প্রবল বৃষ্টি। কলকাতা ডুবুডুবু। তোমার মুখ থেকে চূড়ান্ত উত্তর শোনার অপেক্ষা সবে মিটেছে। আমার ঘরে। অন্ধকার। ক্রমশ…। তারপর…নার্সিংহোমের ঘরে। বেবি কটে ঘুমিয়ে থাকা সন্তানের কপালে। আমাদের ঝগড়ার শেষ দৃশ্য তো চুম্বনের। শ্লীল-অশ্লীলের সীমানা রোহিত।
এত চুম্বনের পরও আজ আমি চুমু খেতে চাই। এখনও অনেক চুমুর প্রতীক্ষায় রয়েছি। কারণ, আমি চুমুর কাঙাল। তবে শেষবার। নিয়তির কপালে চুমু খাব। সন্তানের হাতের একগোছা জ্বলন্ত পাটকাঠির চুম্বন আঁকা হবে আমার ঠোঁটে। শেষ চুম্বন জ্বলে উঠবে আমার আগুনখেকো মুখে।
