প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদী (Narendra Modi) থেকে শুরু করে দেশের প্রথম সারির রাজনৈতিক নেতৃত্ব তাঁকে শুভেচ্ছা জানিয়েছেন, কামনা করেছেন দীর্ঘ ও সুস্থ জীবন। জন্মদিন উপলক্ষে তাঁর জীবনের এমন কিছুর দিকে ফিরে দেখা যাক, যা অনেকেরই অজানা।
.jpeg.webp)
চটপটে জবাব, ধারাল যুক্তি আর স্পষ্ট কূটনৈতিক অবস্থানের জন্য বরাবরই সংবাদমাধ্যমের শিরোনামে থাকেন জয়শঙ্কর।
শেষ আপডেট: 9 January 2026 13:16
দ্য ওয়াল ব্যুরো: আজ, শুক্রবার, ৯ জানুয়ারি ভারতের বিদেশনীতি ও কূটনীতির (Indian foreign policy) অন্যতম মুখ, বিদেশমন্ত্রী ডঃ সুব্রহ্মণ্যম জয়শঙ্করের (Dr S Jaishankar) জন্মদিন। এই বিশেষ দিনে প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদী (Narendra Modi) থেকে শুরু করে দেশের প্রথম সারির রাজনৈতিক নেতৃত্ব তাঁকে শুভেচ্ছা জানিয়েছেন, কামনা করেছেন দীর্ঘ ও সুস্থ জীবন। জন্মদিন উপলক্ষে তাঁর জীবনের এমন কিছুর দিকে ফিরে দেখা যাক, যা অনেকেরই অজানা।
চটপটে জবাব, ধারাল যুক্তি আর স্পষ্ট কূটনৈতিক অবস্থানের জন্য বরাবরই সংবাদমাধ্যমের শিরোনামে থাকেন জয়শঙ্কর (S Jaishankar news)। তবে ব্যক্তিগত জীবনের গল্পও কম আকর্ষণীয় নয়। ভালবাসার পথে দু’বার হৃদয় হারিয়েছেন ভারতের এই কড়া ধাঁচের বিদেশমন্ত্রী। প্রথমবার স্ত্রী শোভা (Shobha Jaishankar)-র কাছে, আর দ্বিতীয়বার জাপানের কিয়োকো সোমেকাওয়ার (Kyoko Somekawa) কাছে।
জয়শঙ্করের প্রথম বিয়ে হয়েছিল জওহরলাল নেহরু বিশ্ববিদ্যালয়ে (JNU) পড়াশোনার সময়। সেখানেই তাঁর আলাপ শোভার সঙ্গে। অল্পদিনের মধ্যেই বন্ধুত্ব প্রেমে বদলায়, তারপর বিয়ে। কিন্তু সুখ দীর্ঘস্থায়ী হয়নি। বিয়ের কিছুদিন পরই শোভার ক্যানসার (cancer) ধরা পড়ে। দীর্ঘ লড়াইয়ের পর তিনি প্রয়াত হন। সেই সময় জয়শঙ্করের কর্মস্থল ছিল টোকিও-র ভারতীয় দূতাবাস (Indian Embassy in Tokyo)। স্ত্রীর মৃত্যুর পর একাকিত্ব গ্রাস করেছিল তাঁকে। ঠিক সেই সময়ই জীবনে আসেন কিয়োকো সোমেকাওয়া। আগে থেকেই পরিচয় ছিল, কাজের সূত্রেই যোগাযোগ। ধীরে ধীরে বন্ধুত্ব গভীর হয়, সেখান থেকেই প্রেম।
১৯৯৬ থেকে ২০০০ সাল। জয়শঙ্কর টোকিওতে ডেপুটি চিফ অফ মিশন (Deputy Chief of Mission, Japan) হিসেবে কর্মরত ছিলেন। সেই সময়েই তাঁর সঙ্গে ঘনিষ্ঠতা বাড়ে কিয়োকোর। সংস্কৃতি, ভাষা, পারিবারিক পটভূমি— সব দিক থেকেই দুই মেরুর মানুষ হয়েও তাঁদের বন্ধন ছিল দৃঢ়। মজার বিষয়, কিয়োকোর জন্মদিনও জয়শঙ্করের মতোই ৯ জানুয়ারি। ভালবাসা এতটাই গভীর ছিল যে সমস্ত পার্থক্য ছাপিয়ে তাঁরা সিদ্ধান্ত নেন বিয়ের। অত্যন্ত গোপনে, শুধু পরিবার ও ঘনিষ্ঠদের উপস্থিতিতে তাঁদের বিয়ে সম্পন্ন হয়।
জয়শঙ্কর ও কিয়োকোর তিন সন্তান—মেধা জয়শঙ্কর (Medha Jaishankar), ধ্রুব জয়শঙ্কর (Dhruva Jaishankar) এবং অর্জুন জয়শঙ্কর (Arjun Jaishankar)। ছেলেদের সম্পর্কে খুব বেশি তথ্য না মিললেও, মেয়ে মেধা পেশায় একজন ক্যামেরা পার্সন (cameraperson)। একাধিক খবর অনুযায়ী, তিনি বিবিসির (BBC) জনপ্রিয় শো Talking Movies-এ ক্যামেরা অপারেটর হিসেবে কাজ করেছেন।
২০২৩ সালের জি-২০ সম্মেলনে (G20 Summit 2023) নয়াদিল্লিতে বিদেশি রাষ্ট্রনেতাদের স্ত্রীদের আতিথেয়তার দায়িত্বে ছিলেন কিয়োকো সোমেকাওয়া। তিনি তাঁদের নিয়ে যান ইন্ডিয়ান এগ্রিকালচারাল রিসার্চ ইনস্টিটিউট (IARI), দেখান ভারতের সবুজ বিপ্লবের (Green Revolution) ঝলক। এরপর ন্যাশনাল গ্যালারি অফ মডার্ন আর্ট (National Gallery of Modern Art)-এ নিয়ে গিয়ে অতিথিদের পরিচয় করান ভারতের সাংস্কৃতিক ঐতিহ্যের সঙ্গে।
এক সম্ভ্রান্ত কূটনৈতিক পরিবারে জন্ম জয়শঙ্করের। তাঁর বাবা কে সুব্রহ্মণ্যম (K Subrahmanyam) ছিলেন ভারতের অন্যতম প্রখ্যাত কৌশলগত রূপকার ও আমলা। সেন্ট স্টিফেনস কলেজ (St Stephen’s College) থেকে পড়াশোনা, তারপর জেএনইউ থেকে আন্তর্জাতিক সম্পর্ক বিষয়ে পিএইচডি (PhD in International Relations)। শিক্ষাজীবন থেকেই বিশ্ব রাজনীতির প্রতি গভীর আকর্ষণ তৈরি হয় জয়শঙ্করের। ১৯৭৭ সালে IFS-এ যোগ দিয়ে প্রায় চার দশকের কূটনৈতিক জীবন। আমেরিকা (US), চিন (China), সিঙ্গাপুর (Singapore), চেক রিপাবলিকের মতো গুরুত্বপূর্ণ একাধিক দেশে ভারতের রাষ্ট্রদূত হিসেবে দায়িত্ব পালন করেছেন। ২০১৫ থেকে ২০১৮ পর্যন্ত ছিলেন ভারতের বিদেশসচিব (Foreign Secretary)।
২০১৯ সালে সক্রিয় রাজনীতিতে প্রবেশ করেন জয়শঙ্কর। একই বছরে মোদী সরকারের বিদেশমন্ত্রী (External Affairs Minister) হিসেবে শপথ নেন। রাজ্যসভায় (Rajya Sabha) ভারতের অবস্থান তুলে ধরা হোক বা আন্তর্জাতিক মঞ্চ—সব জায়গাতেই তাঁর কূটনৈতিক দৃষ্টি স্বচ্ছ, তথ্যভিত্তিক ও দৃঢ়। ইউক্রেন যুদ্ধ (Ukraine crisis), চিন সীমান্ত (India-China border dispute) বা পশ্চিমী দেশগুলোর সঙ্গে সম্পর্ক—সব ক্ষেত্রেই দৃঢ়তার সঙ্গে তিনি পা ফেলেছেন। ২০১৯ সালেই তিনি পান পদ্মশ্রী (Padma Shri) সম্মান।
সম্প্রতি পুনেতে এক অনুষ্ঠানে জয়শঙ্করের মন্তব্য ঘিরে শুরু হয় জোর চর্চা। প্রধানমন্ত্রী মোদীর (PM Modi) নেতৃত্ব নিয়ে প্রশ্ন করা হলে তিনি বলেন, কূটনীতিকরা হনুমানের মতো। আমরা রামের সেবায় কাজ করি। নিজেকে হনুমানের সঙ্গে তুলনা করে, প্রধানমন্ত্রীকে রাম বলায় রাজনৈতিক মহলে ব্যাপক আলোড়ন তোলে।
জন্মদিনে তাই শুধু শুভেচ্ছাই যথেষ্ট নয়, আলোচনার কেন্দ্রে থেকেও এস জয়শঙ্কর কখনও কূটনীতির মঞ্চে, কখনও ব্যক্তিগত জীবনের গল্পে, আবার কখনও তাঁর নিজস্ব ভাষায় দেওয়া এক ‘হনুমান’ মন্তব্যে উজ্জ্বল নক্ষত্রের মতো।