
শেষ আপডেট: 25 April 2023 06:52
দ্য ওয়াল ব্যুরো: কল্পনাতেও কখনও কেউ ভেবেছেন, রামধনু নদীর জলে নেমে আসবে বলে? কাব্যের খাতিরে অবশ্য নানা কাল্পনিক উপমাই ব্যবহার করেন কবি-সাহিত্যিকরা, সেখানে প্রকৃতির কত রূপই হয়! কিন্তু তাই বলে 'তরল রামধনু'! বয়ে যাচ্ছে কুলকুল করে! না, এ কিন্তু আদৌ কোনও কবির কল্পনা নয়। নয় রূপকথার কোনও গল্প। এ নদী সত্যিই রয়েছে, বাস্তবে। কলম্বিয়ার (Colombia) সেরেনিয়া দে লা ম্যাকারেনা প্রদেশের একটি পাহাড়ি নদী 'কানো ক্রিস্টালস' (Cano cristales)

বৃষ্টির পর আকাশ, সূর্যের আলো, তারপর খোলা আকাশে সাতরঙা একটা অর্ধবৃত্ত-- রামধনু (rainbow)। এই মুগ্ধতার সাক্ষী তো নানা সময়েই হয়েছে মানুষ। কিন্তু ঠিক সেই আকাশের রামধনুর নিজের শরীরে ধারণ করে বয়ে চলেছে কলম্বিয়ার আশ্চর্য সেই নদী। এই নদী সারা পৃথিবীতে সৌন্দর্যের দিক থেকে শ্রেষ্ঠত্বের শিরোপা অর্জন করেছে। নদীর প্রতিটি স্রোতে প্রকৃতি নিজের খেয়াল মতো রঙ মাখিয়েছে। কখনও তাতে লাল রঙের ছটা, কখনও হলুদ, কিংবা নীল, আবার কখনও সব রঙ মিলেমিশে একাকার। স্থানীয়রা বলেন, এই নদী নাকি স্বর্গ থেকে নেমে এসেছে!

কেউ একে বলেন ‘দ্য রিভার অব ফাইভ কালার’ আবার কেউ বলেন ‘লিকুইড রেনবো'। ভৌগোলিক দিক থেকে দেখতে গেলে এই নদীর চারপাশে ঘিরে রয়েছে আন্দিজ পর্বতমালা। বোগোটা থেকে ১৭০ কিলোমিটার দক্ষিণে মধ্য কলম্বিয়ার ঘন জঙ্গলের ভিতরে এই নদীর অবস্থান। দৈর্ঘ্যে ১০০ কিলোমিটার ও প্রস্থে ২০ মিটার বিস্তৃত নদীটি জংলা পাতায় মোড়া ঘন বনানীর মাঝে নিশ্চুপে বয়ে চলেছে।

কী এই নদীর বিশেষত্ব? কেন এত রং তার জলে!
গবেষকরা বলছেন, জলজ উদ্ভিদের আধিক্যই এর প্রধান কারণ। ম্যাকেরেনিয়া ক্ল্যাভিগেরা (Macarenia Clavigera) নামে এক গুল্মের রাজ্য এই নদী। আর এই উদ্ভিদই নদীর জলের রঙের বদলের অন্যতম কারণ। পিক অ্যান্ডিমিক জলজ উদ্ভিদ এই ম্যাকেরেনিয়া ক্ল্যাভিগেরা। সঠিক জলের স্তর ও সূর্যালোকের আলোর প্রতিফলনে ফলে এই নদীর রূপ রং বদলায়। কখনও লাল, কখনও হলুদ, মাঝেমাঝে শ্যাওলার কারণে সবুজ লাগে। যেখানে সূর্যের আলো প্রবেশ করতে পারে না সেখানে গাঢ় নীল রং মনে হয় জলের। জলে ভাসমান বালুকণার কারণেও রঙের তারতম্য হয় বলে জানিয়েছেন গবেষকরা। এখানে প্রাণীরও বৈচিত্র্য আছে।

তবে নদীর স্রোতে মিশে থাকা এই রংগুলি শুধুমাত্র জুন থেকে ডিসেম্বর পর্যন্ত দেখা যায়। জানুয়ারি থেকে মে মাস শুকনো থাকে মরশুম। তবে এই অঞ্চলটিকে দূষণমুক্ত রাখার জন্য একদিনে বেশি সংখ্যক মানুষকে প্রবেশের অনুমতি দেওয়া হয় না। তবে উপরি পাওনা, একটা নির্দিষ্ট জায়গায় সাঁতার কাটার সুযোগও দেওয়া হয়।

কলম্বিয়ার সবুজ ফুসফুসের মধ্যে এভাবেই এক পাহাড়িয়া নদীর প্রতিটি প্রবাহে ঘর বেঁধেছে রামধনু! প্রকৃতির খামখেয়ালিপনায় নদীর ক্যানভাস সেজে উঠেছে রং মেখে, হয়ে উঠেছে বিশ্বসেরা কানো ক্রিস্টালস!
লেক ভিক্টোরিয়ায় ভাসছে কুখ্যাত দ্বীপ ‘রেম্বা’, যৌনকর্মী, ড্রাগ ও মদের স্বর্গরাজ্য