শেষ আপডেট: 9 November 2020 07:13
তবে আশার কথা এই যে, ভারতে এই 'ফ্যাট ট্যাক্স' নিয়ে ইদানীং অনেক ডিজাইনারই মুখ খুলেছেন। বর্তমানে অন্যান্য দেশের পাশাপাশি ভারতের ফ্যাশন ইন্ডাস্ট্রিতেও প্লাস সাইজের মডেলদের দেখা মেলে। সৌন্দর্যের প্রচলিত ভাবধারার ভিতকে নাড়িয়ে দিতে পেরেছেন এই সব সাহসিনীরা। এই মুহূর্তে নেট দুনিয়ায় রীতিমতো ঝড় তুলেছে তাঁদের ছবি।
'ফ্যাট ট্যাক্স' কী? আপনার শারীরিক গঠন যদি অন্যদের থেকে একটু আলাদা হয়, বা আপনার পোশাকের সাইজ যদি 'প্লাস' হয় তাহলে পোশাক কেনার সময় আপনাকে অতিরিক্ত টাকা দিতে হবে - এটাই হল 'ফ্যাট ট্যাক্স'। বিষয়টি ডায়েট সাব্যার নজরে এলে তিনি এই নিয়ে তাঁর ইনস্টাগ্রামে পোস্ট করেন। ফ্যাশন দুনিয়াতে তাঁর বক্তব্য নিয়েও যথেষ্ট তোলপাড় হয়।
তিনি বলেন যে লম্বা লোকেদের জুতোর জন্য নির্দিষ্ট দামের বাইরে গিয়ে কি দাম দিতে হয়? কিংবা ছোটোখাটো রোগা মানুষদের জুতো কেনার ক্ষেত্রে কি ভর্তুকি দেওয়া হয়? যদি তা না হয়, তাহলে পোশাকের ক্ষেত্রেই বা কেন এরকম হবে! সাব্যা আরও বলেন, "এই বিষয়টি নিয়ে ইন্টারনেটে কথা বলার পর বহু মানুষের প্রতিক্রিয়া পেয়েছি। ডিজাইনার স্টোরগুলোও এক্সএল বা এক্সএক্সএল বিক্রি করতেই বেশি আগ্রহী, তাতে ৬০হাজারেরও বেশি টাকা অতিরিক্ত লাভ থাকে। তাই প্লাস সাইজের পোশাক বিক্রি নিয়েই অতিরিক্ত উৎসাহ দেখায় স্টোরগুলো।"
পোশাক তৈরি করতে কেমন খরচ হয়, সেই নিয়ে ক্রেতাদের মনে হামেশাই প্রশ্ন তৈরি হয়। অনেক ডিজাইনারই ক্রেতাদের এটা বোঝান যে, অতিরিক্ত ফেব্রিক এবং এমব্রয়ডরি কাজের জন্য পোশাকের দাম বেশি হয়। কিন্তু বিশেষজ্ঞদের মতে সবক্ষেত্রে এমন হয়না। ইকাইয়ের মালিক রাগিনী আহুজা বলেন, "আমরা নির্দিষ্ট আকারের উপর কোনও রকম বাড়তি চার্জ যুক্ত করিনা। আমরা মূলত একরকম সাইজের পোশাক বানাতে চেষ্টা করি, যার ফলে অতিরিক্ত টাকা দেওয়ার প্রশ্নই ওঠেনা।"
পোশাক কতটা আরামদায়ক, তার রঙ-ডিজাইন কেমন, তা কতটা টেকসই - তার ওপর ভিত্তি করে ঠিক হয় পোশাকের দাম। আহুজা বলেন, "অতিরিক্ত এমব্রয়ডরি এবং ফেব্রিকের জন্যে খুব বেশি হলে ১০ শতাংশ খরচ হয়। এখানে শুধুমাত্র পণ্যেরই দাম নেওয়া হয়, এমনটা নয়। পোশাকের সঙ্গে জড়িত নান্দনিকতা, ব্র্যান্ডভ্যালু বা জিনিসের কোয়ালিটি, সব কিছুর ওপরেই নির্ভর করে দাম।"
ডিজাইনার জুটি গৌরী এবং নৈনিকা ডায়েট সাব্যাকে লেখেন যে অতিরিক্ত বড় পোশাক বা প্লাস সাইজের জন্যে তাঁরা আর কোনও অতিরিক্ত টাকা নেবেননা। নৈনিকার কাছে এই বিষয়ে জানতে চাওয়া হলে, তিনি বলেন যে, "এটা দুমিনিটের ফোন কলে নেওয়া সিদ্ধান্ত নয়। আমি গৌরীকে ডাকি এবং তারপর প্লাস সাইজের পোশাকের ওপর অতিরিক্ত টাকা নেওয়ার ব্যাপারে সাব্যার যে মতামত তা নিয়ে নিজেদের মধ্যে আলোচনা করি। তারপরই আমরা দুজন মিলে এই সিদ্ধান্ত নিই যে প্লাস সাইজের পোশাকের ওপর আর কোনও অতিরিক্ত টাকা নেওয়া হবেনা।"
ভবিষ্যতে সামনের দিকে এগিয়ে যাওয়ার পথটা কেমন জানতে চাওয়া হলে, আহুজা বলেন," আমার নিজেরই পোশাক কিনতে যাওয়ার সময় নানা সমস্যা হতো। আমার সাইজের পোশাক পাওয়া যেত না। বাবার বা ভাইয়ের এক্সএল সাইজের শার্টই আমাকে পরতে হতো,আমি চাইনা সবার সঙ্গে এরকম হোক!" বর্তমানে বিভিন্ন ফ্যাশন শো বা রানওয়েতেও দেখা যাচ্ছে প্লাস সাইজের মডেল। যাঁরা আত্মবিশ্বাসের সঙ্গে নিজেদের মেলে ধরছেন এবং সকলের চোখে তাক লাগিয়ে দিচ্ছেন।