গাড়ির নষ্ট অংশ ব্যবহার করে নতুন পোশাক! পরিবেশ বাঁচাতে উদ্যোগ ফ্যাশন ইন্ডাস্ট্রির
দ্য ওয়াল ব্যুরো:পুরনো গাড়ির নানা অংশ সারিয়ে আবার নতুন করে ব্যবহার করে অনেকেই। কিন্তু এমন কিছু জিনিস, যেমন সিটবেল্ট, গাড়ির ভিতরের সিটের চামড়া, এয়ারব্যাগ এগুলো সারিয়ে দ্বিতীয়বার ব্যবহার করা যায় না। আবার এমনি ফেলে দিলে জিনিসটা তো নষ্ট
শেষ আপডেট: 13 October 2020 08:17
দ্য ওয়াল ব্যুরো:পুরনো গাড়ির নানা অংশ সারিয়ে আবার নতুন করে ব্যবহার করে অনেকেই। কিন্তু এমন কিছু জিনিস, যেমন সিটবেল্ট,
গাড়ির ভিতরের সিটের চামড়া,
এয়ারব্যাগ এগুলো সারিয়ে দ্বিতীয়বার ব্যবহার করা যায় না। আবার এমনি ফেলে দিলে জিনিসটা তো নষ্ট বটেই, সেই সঙ্গে তা পরিবেশের ভয়ানক ক্ষতি করে। এবার পুরনো গাড়ির সেই সমস্ত ফেলে দেওয়া জিনিসগুলোকে সারিয়ে জামা-কাপড় তৈরি করার কথা ভাবছেন ফ্যাশন ডিজাইনাররা।
বিশ্বের প্রথম সারির বেশ কিছু ফ্যাশন ডিজাইনার হুন্ডাই কোম্পানির সাথে জোটবদ্ধ হয়ে এই কাজটিই শুরু করতে চলেছেন। তাঁদের মূল উদ্দেশ্য ফ্যাশন তো বটেই, সেই সঙ্গে পরিবেশকে ক্ষতির হাত থেকে রক্ষা করা। পোশাকেও যে নতুনত্ব আসবে তা বলাই বাহুল্য। গাড়ির যে সমস্ত অংশ ফেলে দিলে মাটির সঙ্গে মিশবে না, পরিবেশের দূষণ বাড়াবে কেবল, তাই দিয়েই তাঁরা কাজে লাগাচ্ছেন নতুন ফ্যাশন-আইডিয়া।

ডিজাইনাররা বলছেন, পুরনো ফেলে দেওয়া জিন্সের কাপড় দিয়ে এর আগেও জাম্পস্যুট তৈরি হয়েছে ফ্যাশন দুনিয়ায়। পুরনো লেদার নতুন ভাবে জামা কাপড়ে বা ব্যাগে ব্যবহারের চলও অনেক দিনের। কিন্তু গাড়ির অব্যবহৃত জিনিস এর আগে কখনও ব্যবহার করতে দেখা যায় নি। পাশাপাশি তাঁরা জানান, শুধু ফ্যাশনের কথা ভাবলেই চলবে না,
ফ্যাশনের মাধ্যমে পরিবেশ সচেতনতার বার্তাও পৌঁছতে হবে সাধারণ মানুষের কাছে।

তাই শুধু জামা-কাপড় নয়,
মেয়েদের ও ছেলেদের জুয়েলারিও তৈরি হচ্ছে পুরোনো গাড়ির ফেলে দেওয়া অংশ দিয়ে। গলার হার,
চোকার,
কানের দুল,
ব্রেসলেট ইত্যাদি তৈরি করার কথা ভাবছেন তাঁরা। গাড়ির কাচ,
সিটবেল্টের কাপড়,
সিটের কাপড়,
চামড়ার এয়ারব্যাগ—এগুলো থেকে গয়না ও পোশাক নতুন ভাবে তৈরি করবেন তারা।

গাড়ির যে অংশগুলো লোহা বা অন্য ধাতুর তৈরি, সেগুলো অন্য গাড়িতে খুব সহজেই ব্যবহার করা যায়। কিন্তু ভাঙা কাচ,
প্লাস্টিক,
লেদার—এগুলো আর গাড়িতে ফেরে না। ডিজাইনাররা জানান, তাঁরা পরিবেশ দূষণ ও বিশ্ব উষ্ণায়নের বিষয়টি নিয়ে সচেতন। তাই সে কথা ভেবেই এই অংশগুলোকে জ্যাকেট,
শার্ট,
ড্রেসে ব্যবহার করে অভিনবত্ব আনার চেষ্টা করছেন। বোঝাই যাচ্ছে, তাঁরা যেমন নতুন ফ্যাশনের কথা ভাবছেন,
তেমনই প্রকৃতিকে ভালবাসতেও শেখাচ্ছেন।
এই উদ্যোগে যেসব ব্র্যান্ড সামিল হয়েছে তাদের মধ্যে অন্যতম হল অ্যালিঘেরি,
ই.এল.ভি,
ডেনিম,
প্লাবিক স্কুল,
পুশবটন,
রিচার্ড কুউন,
রোজি অ্যাসোউলিন। এই সংস্থাগুলির তরফে জানানো হয়েছে, গাড়ি থেকে তৈরি এই সমস্ত পোশাক কেবল পাওয়া যাবে লন্ডনের সেল্ফব্রিজের পপ আপ স্টোর এবং তাদের অনলাইন সাইটে।

হুন্ডাই মোটর কোম্পানির এক্সিকিউটিভ ভাইস প্রেসিডেন্ট ওয়াংহু চু জানান এই উদ্যোগে আরও অনেকেরই সামিল হওয়া উচিত। পুরনো জিনিস থেকে নতুন কিছু সৃষ্টি করায় শুধুমাত্র যে পরিবেশই ভাল থাকবে তাই নয়,
দেশের সাধারণ মানুষের আর্থিক উন্নতিও হবে এই নতুন পথে।