রবিবার গৌহাটির রাস্তায় রাস্তায় মানুষের ঢল দেখে বোঝা যাচ্ছিল, শিল্পী মানেই শুধু গান নয়, তিনি হয়ে ওঠেন এক পরিবারের অঙ্গ। দিল্লি থেকে আনা জুবিনের মরদেহ ঘিরে হাজার হাজার ভক্ত চোখের জলে ভিজিয়ে দিলেন শেষ মুহূর্ত।

শেষ আপডেট: 21 September 2025 18:26
দ্য ওয়াল ব্যুরো: অসম, বাংলা, গোটা উত্তর-পূর্ব তো বটেই—দেশজুড়ে তাঁর গানেই প্রেমে পড়েছিলেন অসংখ্য শ্রোতা। ‘ইয়া আলি’, ‘ও মরুমি তুমার লগত’, কিংবা মঞ্চ কাঁপানো ফোক টিউন— এ সব কিছুর মধ্যেই ছিল জুবিন গর্গের প্রাণস্পর্শী কণ্ঠের জাদু। সেই মানুষটা আজ আর নেই। সিঙ্গাপুরে স্কুবা ডাইভিং দুর্ঘটনায় ১৯ সেপ্টেম্বর মাত্র ৫২ বছর বয়সে শেষ হয়ে গেল এক অসামান্য জীবনের পথচলা।
রবিবার গৌহাটির রাস্তায় রাস্তায় মানুষের ঢল দেখে বোঝা যাচ্ছিল, শিল্পী মানেই শুধু গান নয়, তিনি হয়ে ওঠেন এক পরিবারের অঙ্গ। দিল্লি থেকে আনা জুবিনের মরদেহ ঘিরে হাজার হাজার ভক্ত চোখের জলে ভিজিয়ে দিলেন শেষ মুহূর্ত। কেউ মোমবাতি জ্বালালেন, কেউ নিঃশব্দে গাইলেন তাঁর প্রিয় গান।
এই শোকের সময়ে স্ত্রী গরিমা শইকিয়া গর্গ ভক্তদের উদ্দেশে ভিডিও বার্তায় আবেদন করলেন শান্ত থাকার। বললেন,“জুবিন এবার ঘরে ফিরছে। জীবনে যেমন আপনাদের অগাধ ভালবাসা পেয়েছে, আজও চাই তার শেষযাত্রা হোক শান্তিপূর্ণ। আমি একা সামলাতে পারব না—আমার চারপাশে দরকার আপনাদের মতো আপনজনদের।”

সম্প্রতি তাঁর ম্যানেজার সিদ্ধার্থ শর্মার বিরুদ্ধে এফআইআর হওয়া নিয়েও মুখ খুললেন গরিমা। স্পষ্ট জানিয়ে দিলেন—এমন পরিস্থিতি তিনি চান না। তাঁর কথায়, “সিদ্ধার্থ আমাদের পরিবারের মতো। ২০২০ সালে জুবিনের বড় অসুখের সময়ে ও-ই সব দায়িত্ব নিয়েছিল। তাই আজও চাই সে পাশে থাকুক। ভক্তদের কাছে অনুরোধ, কোনও নেতিবাচকতা না ছড়িয়ে এই শেষযাত্রাকে মর্যাদার সঙ্গে সম্পন্ন করুন।”
অসম সরকার তিন দিনের রাজ্য শোক ঘোষণা করেছে। মুখ্যমন্ত্রী হিমন্ত বিশ্ব শর্মা এবং কেন্দ্রীয় প্রতিমন্ত্রী পবিত্র মার্ঘেরিটা ব্যক্তিগতভাবে শ্রদ্ধা জানিয়েছেন কিংবদন্তিকে। রবিবার সারুসজাইয়ের অর্জুন ভূগেশ্বর বড়ুয়া ক্রীড়াঙ্গনে সকাল থেকে সন্ধ্যা পর্যন্ত রাখা হবে তাঁর দেহ, যাতে অসংখ্য মানুষ শেষবারের মতো দেখতে পারেন প্রিয় জুবিনকে। অসমের আকাশে তাঁর গান যেন ভেসে বেড়াবে অনন্তকাল, মনে করিয়ে দেবে—একজন শিল্পীর বিদায় মানে কেবল শূন্যতা নয়, অমর হয়ে থাকা।