দ্য ওয়াল ব্যুরো: স্কুলের এক নাটক প্রতিযোগিতার জন্য যখন প্রথম নাটক লিখেছিলেন, তখন স্বপ্নেও ভাবেননি নিজের সিনেমার জন্য চিত্রনাট্য লিখবেন।
কলকাতার এই মেয়ে যখন মুম্বইয়ে পা রেখেছিলেন তখন হিন্দিটাও ভালভাবে বলতে পারতেন না। রোজ মুম্বই লোকালের ধাক্কা সামলে কাজে অবিচল থেকেছেন। যা তাঁর সাফল্যের পথে বড় পাওনা। ২৪ বছর বয়সেই সিনেমায় সহকারি পরিচালক হিসেবে প্রশংসা কুড়িয়েছেন। সম্প্রতি অ্যামাজন মিনি টিভির জন্য নিজেই বানিয়ে ফেললেন একটি স্বল্প দৈঘ্যের সিনেমা। যা ইতিমধ্যেই সাড়া ফেলেছে মানুষের মনে।
কথা হচ্ছে জোয়া পারভিনের। সম্প্রতি অ্যামাজন মিনি টিভির জন্য তিনি বানিয়েছেন 'ক্লিন' নামে এক শর্টফিল্ম। ভাইবোনের সম্পর্কের মধ্যে যে জটিলতা আছে তা সূক্ষ্মভাবে অনুসন্ধান চালানো হয়েছে এই সিনেমায়। এই সিনেমা সম্পর্কে জোয়া পারভিন বলেন, 'এখানে প্রতিটি বিষয় খুব সূক্ষ্মভাবে উপস্থাপনা করা হয়েছে। যা এইসব জটিলতা কাটিয়ে তার বাইরে বেরিয়ে সম্পর্ক নিয়ে চিন্তা করতে পারবেন।'
তিনি তাঁর সিনেমার চিত্রনাট্য নিয়ে বলতে গিয়ে বুঝিয়েছেন, দুই বোন, একজন নেশামুক্তির জন্য আপ্রাণ চেষ্টা চালাচ্ছে। অন্যজনকে তার পরিণতির সঙ্গে যুঝতে হয়েছে নিরন্তর। কিন্তু দুই বোনের সম্পর্ক তো একে অপরকে ভালবাসারই, তারাও সেই বাধ্যবাধকতায় আবদ্ধ।
কিশোর বয়স থেকেই গল্প বলতে ও গল্প লিখতে ভালবাসতেন এই বঙ্গতনয়া। তবে সেই গল্প বলার দক্ষতা যে তাঁকে সিনেমা নির্মাণের পেশার দিকে টেনে নিয়ে যাবে তা স্বপ্নেও ভাবেননি তিনি। তাঁর কথায়, 'যদি ১২ বছর বয়সেই বুঝতে পারতাম যে ভবিষ্যতে সিনেমা তৈরি করব, তাহলে সেইসময় জীবনে প্রথম ফোনটি পেয়েছিলাম সেটা দিয়েই ছবি নেওয়া শুরু করতাম।'
ইন্টার্ন হিসেবে যখন তিনি জীবনে প্রথম কাজ করতে কলকাতা ছেড়ে মুম্বইয়ে পা দিয়েছিলেন তখনকার অভিজ্ঞতা আজও ভাবায় তাঁকে। তাঁকে বলা হয়েছিল 'অভিনেতাদের সঙ্গে সবসময় তাঁকে থাকতে হবে', প্ৰথমে বুঝতেই পারেননি কী কাজ? ধীরে ধীরে শিখেছেন। এমনকি 'কল শিট' তৈরি করার ব্যাপারও আয়ত্ত করতে বেগ পেয়েছেন তিনি।

তবে সেই অভিজ্ঞতা পরে তাঁকে ২৪, গাল্লি বয়, রইসের মত সিনেমায় দ্বিতীয় সহকারি পরিচালক হিসেবে এবং সেক্রেড গেমস, চোকড এন্ড দ্য ঘোস্ট স্টোরিজ ভিনটেজে প্রথম সহকারি পরিচালক হিসেবে কাজ করতে সাহায্য করেছে। তিনি জানান যে, তিনি এমন সব কাজ করতে ভালবাসেন যেখানে গভীর চিন্তা ও পরিশ্রম দিয়ে কাজ করতে হয়। তিনি যে সৃজনশীল কাজের প্রতি বেশি আগ্রহী তা তাঁর সিনেমা চয়নের মধ্যে দিয়েই বোঝা যায়।
অনুরাগ কাশ্যপের উৎসাহেই নিজের সিনেমা বানানোর প্রতি জোর জন্মায় জোয়ার। এমনকি তাঁর সিনেমার জন্য সংলাপ লিখেছেন অনুরাগ। তাঁর প্রথম সিনেমার চিত্রনাট্য মাত্র তিনদিনে শেষ করেন তিনি। তাঁর কথায়, 'এমন সিনেমাই আমি বানাতে চাই। এমন গল্পই আমি তৈরি করতে চাই।'
সহ পরিচালক থেকে পরিচালক হয়ে কাজ করার আগে প্রথমেই তাঁকে ছাড়তে হয়েছিল একটি গুরুত্বপূর্ণ অভ্যাস। তা হল সহ পরিচালক হিসেবে কাজ করা। কারণ এতদিন তিনি অন্যের জন্য কাজ করেছেন, সেই অভ্যাস কাটিয়ে নিজের জন্য কাজ করার অভ্যাস তৈরি করা ছিল বড় চ্যালেঞ্জ তাঁর কাছে।
আজও কলকাতা ও কলকাতায় তাঁর বেড়ে ওঠা দিনগুলো মনে পড়ে। দিনের শেষে যখন একা সময় কাটান তখন চোখের সামনে তাঁর ভেসে ওঠে লরেটো হাউস, তার লাগোয়া গির্জা, গোল্ডেন স্পুনের রোল, ঘরের খাবার--- যা তাঁকে নস্টালজিয়ার দুনিয়ায় টেনে নিয়ে যায়।