
শেষ আপডেট: 27 September 2023 15:01
বলিউডের রোম্যান্টিক ছবি বললেই যাঁর ছবির কথা আগে মাথায় আসে তিনি হলেন যশ চোপড়া। হিন্দি ছবির জগতে রুপোলি পর্দায় রোম্যান্সের রাজা তিনি। পরিচালক ও প্রযোজক যশ চোপড়া চলচ্চিত্র প্রযোজনা ও পরিবেশনা সংস্থা 'যশ রাজ ফিল্মস'-এর প্রতিষ্ঠাতা। কর্মজীবনে একাধিক পুরস্কার অর্জন করেছেন যশ চোপড়া, যার মধ্যে উল্লেখযোগ্য হল ৬টি জাতীয় চলচ্চিত্র পুরস্কার এবং ১১টি ফিল্মফেয়ার। আজও তাঁকে ভারতের অন্যতম সেরা চলচ্চিত্র নির্মাতা হিসেবে গণ্য করা হয়। সিনেমায় তাঁর অবদানের জন্য ভারত সরকার তাঁকে ২০০১ সালে দাদাসাহেব ফালকে পুরস্কার এবং ২০০৫ সালে ভারতের তৃতীয় সর্বোচ্চ বেসামরিক সম্মাননা পদ্মভূষণ পুরস্কারে ভূষিত করে (Yash Chopra-Mumtaz love story)।
একের পর এক রোম্যান্টিক প্রেমের সুপারহিট ছবি বানিয়েছেন যশ চোপড়া। 'দাগ', 'কভি কভি', 'সিলসিলা', 'দিওয়ার', 'চাঁদনি', 'দিল তো পাগল হ্যায়', 'লমহে', 'দিলওয়ালে দুলহানিয়া লে যায়েঙ্গে', 'ডর'- আরও কত কী। সেগুলির কোনওটিতে তিনি পরিচালক, কোনওটিতে তিনি প্রযোজক। তাঁর ছবিতে বলিউডের অভিনেতা-অভিনেত্রীদের রোম্যান্টিক নায়ক-নায়িকা হিসেবে দেখার জন্য মুখিয়ে থাকতেন দর্শকরা। বড়পর্দায় রোম্যান্সের সংজ্ঞা একা হাতে বদলে দিয়েছিলেন যশ চোপড়া।

যে যশ চোপড়ার প্রযোজনা, পরিচালনায় রোম্যান্টিক ছবি সুপারহিট হত, সেই মানুষটির নিজের জীবন কতটা রোম্যান্টিক ছিল?
১৯৬৯ সালের মুক্তি পায় 'আদমি অর ইনসান'। এই ছবির পরিচালক ছিলেন যশ চোপড়া। এই ছবির শ্যুটিংয়ের সময়েই মমতাজের প্রেমে পড়েন যশ। 'আদমি অর ইনসান' ছবির নায়িকা হওয়ার কথা ছিল সায়রা বানুর। মমতাজ সহনায়িকা। কিন্তু মমতাজের প্রেমে পড়ে তাঁকে ছবির মুখ্য নায়িকা বানিয়ে দেন যশ চোপড়া। সায়রার অংশ বাদ দিয়েও মমতাজের অংশ ছবিতে বাড়ানো হয়। সম্পাদনার সময় সায়রার সঙ্গে ধর্মেন্দ্রর অনেক অংশ ছবি থেকে বাদ দেওয়া হয়। এতে অত্যন্ত ক্ষুব্ধ হন সায়রা এবং ধর্মেন্দ্র। রীতিমতো ক্ষোভ প্রকাশও করেন তাঁরা।

কিন্তু মমতাজের প্রেমে পাগল যশ চোপড়া মমতাজকে পার্শ্বনায়িকা থেকে মুখ্যনায়িকা বানিয়েই ছাড়েন। ছবি মুক্তির পর মমতাজের সঙ্গে যশের প্রেম আরও বাড়তে থাকে। মমতাজ ভেবেছিলেন যশরাজ ফিল্মসের নায়িকা হতে পারলে তাঁর কেরিয়ার সুদূরপ্রসারী হবে। কিন্তু ওখানেই ছিল বিপদের ইঙ্গিত। পিতৃতন্ত্রের খেলা। যশ চোপড়া শুধু ফিল্মের নায়িকাই নয়, মমতাজকে নিজের ঘরণী করতে চাইলেন।
'আদমি অর ইনসান' রিলিজের কদিন পর যশের দাদা মিষ্টি নিয়ে ভাইয়ের সঙ্গে বিয়ের প্রস্তাব নিয়ে হাজির হয়েছিলেন মমতাজের বাড়ি। মমতাজ রাজিও হয়েছিলেন যশকে বিয়ে করতে।
কিন্তু সেখানেও গোলমাল বাঁধল। যশের পরিবার মমতাজকে শর্ত দেয় বিয়ের পর তাঁকে ছবির জগতকে বিদায় জানাতে হবে। এই শর্তে রাজি থাকলে তবেই বিয়ে সম্ভব। এরপরেই যশকে বিয়ে করার প্রস্তাব মমতাজ নাকচ করে দেন। বড় ব্যানারে নায়িকা হবার লক্ষ্যেই চোপড়া পরিবারের বউ হতে রাজি হয়েছিলেন মমতাজ। কিন্তু ছবি করায় যদি তাঁকে ছাড়তে হয়, তাহলে এই বিয়ে করে লাভ কী? তাই নির্দ্বিধায় মমতাজ ফিরিয়ে দেন যশ চোপড়াকে।
ব্যর্থ প্রেমিক যশ তার কিছু বছর পরই পামেলা চোপড়াকে বিয়ে করেন। মমতাজের কথা যশের কাছে জানতেও চান পামেলা। 'নেহাতই বন্ধু' বলে সেই প্রসঙ্গ উড়িয়ে দিয়েছিলেন যশ। যদিও পামেলা ভালভাবেই জানতেন মমতাজ যশের প্রাক্তন প্রেমিকা। আসলে পামেলা-যশের বিয়ে ছিল সমঝোতার সম্পর্ক। সেই বোঝাপড়া নিয়েই দু'জনে দীর্ঘ দাম্পত্য জীবন কাটিয়ে গেলেন।

এদিকে যশকে ফিরিয়ে দিয়ে মমতাজ কয়েক বছর পর গুজরাতি ব্যবসায়ী ময়ূর মাধবনীকে বিয়ে করেন। এই বিয়ের পরও অভিনয় ছাড়তেই হয় মমতাজকে। বিয়ের পর লন্ডনে চলে যান একসময়ের দাপুটে অভিনেত্রী। স্বামী ভালবেসে তাঁকে বিলাসবহুল মার্সিডিজ গাড়ি উপহার দেন। কিন্তু প্রথম ভালবাসা অভিনয় ছাড়তে বাধ্য হয়ে মমতাজ সত্যিই ভাল ছিলেন কি? সেই প্রশ্নের উত্তর মেলেনি। যশের ভালবাসায় সাড়া দিয়ে মমতাজ বিয়েতে রাজি হলে আজ হয়তো তিনি যশরাজ ফিল্মসের মালকিন হতেন।
১৯৭৪ সালে কেরিয়ারের মধ্যগগনে থাকাকালীন ময়ূরকে বিয়ে করেছিলেন মমতাজ। ছোটবেলা থেকেই মাধবনীদের সঙ্গে পরিচয় ছিল তাঁর পরিবারের। ফলে তা দাম্পত্যের সম্পর্কে গড়াতে দেরি হয়নি। কিন্তু তা সত্ত্বেও সেই অভিনয় ছাড়তেই হয় মমতাজকে।

ময়ূর মাধবনীও পরকীয়াতেও জড়ান। শোনা যায়, সেই সময় একাকীত্বে ভুগতে ভুগতে মমতাজও অন্য পুরুষের সঙ্গে সম্পর্কে জড়িয়ে পড়েন। কিন্তু সময়ের স্রোতে সব পরকীয়া ভাসিয়ে দীর্ঘ দাম্পত্য কাটিয়ে চলেছেন মমতাজ-ময়ূর।
যশের পর যাঁর প্রেমে পড়েছিলেন মমতাজ, সেই সম্পর্ক কেমন ছিল?
মমতাজ বলেন 'ওই সম্পর্কটা ক্ষণিকের জন্য ছিল। তেমন গুরুতর নয়। তাই ফুরিয়ে যেতেও সময় লাগেনি। আমার কপাল ভাল যে ময়ূরের মতো স্বামী পেয়েছি। এখনও এত ভালবাসে।'
বম্বে পাড়ায় শরৎচন্দ্র, যুগে যুগে সুপারহিট তাঁর কাহিনি বলিউডে