
শেষ আপডেট: 19 February 2023 12:20
রাজনীতির আঙিনাকে বিদায় জানিয়ে পর্দায় আবার ফিরেছেন রূপা গাঙ্গুলি। এক সময় অভিনয়কেই দূরে ঠেলে জনসাধারণের জন্য কাজ করতে রাজনীতির ময়দানে নেমেছিলেন রূপা। কিন্তু শিল্পীর আসল ময়দান তো তাঁর শিল্প। বহুদিন ধরে দর্শকরাও চাইছিলেন তাঁদের দ্রৌপদী আবার অভিনয়ে কামব্যাক করুন। কথা রেখেছেন রূপা গঙ্গোপাধ্যায়।
স্টার জলসা চ্যানেলে 'মেয়েবেলা' ধারাবাহিকে (Meyebela Serial) কামব্যাক করলেন রূপা। অনেকদিন তিনি ছোট পর্দায় কাজ করেননি। টলিপাড়ার হালচাল অনেক বদলে গেছে কিন্তু সব কিছুকে আপন করে রূপা ফিরলেন স্বমহিমায়। কিন্তু রূপা অসাধারণ অভিনয় করলেও টিআরপিতে এগোচ্ছে না 'মেয়েবেলা'। অন্য ধারার গল্প, সিরিয়াস চিত্রনাট্য হওয়াতেই কি টিআরপি তালিকায় উপরের দিকে জায়গা পেল না মেয়েবেলা? দর্শক মনে কিন্তু এই সিরিয়াল বড় আদরের।

'মেয়েবেলা' নামের থেকেই সিরিয়ালের ভাবার্থ বোঝা যায়। বাড়ির মেয়ে-বৌদের সংসারের গল্প। রূপার চরিত্রের নাম বীথি। বাড়ির মেজো বৌ। বীথি যথার্থ বৌ হলেও সে মুখ বুজে সব সহ্য করে নেয় না। হয়তো ছোট বয়সে পেরে ওঠেনি শাশুড়ির কথার প্রতিবাদ করতে, কিন্তু এখনকার পরিণত বীথি অনেক বেশি সরব। বীথির বড় জায়ের চরিত্রে রত্না সরকার, যিনি বিধবা এবং খুব সহজ সরল। ছেলে বিদেশে সেটল হলেও মায়ের খোঁজ রাখে না। বাড়ির মাথা শাশুড়ি মায়ের চরিত্রে চিত্রা সেন। বীথির ছেলে নির্ঝরের বিয়ে ঘিরে এগোয় সিরিয়ালের গল্প। নির্ঝরের সঙ্গে চাঁদনির বিয়ের ঠিকঠাক। কিন্তু আকস্মিক পরিস্থিতি সব ওলোট-পালোট করে দেয়। বীথির ছেলে নির্ঝরের সঙ্গে বিয়ে হয় বীথির প্রাক্তন বান্ধবীর মেয়ে মৌয়ের। বীথি তাঁর বান্ধবীর থেকে বড় আঘাত পেয়েছিল তাই বান্ধবীর মেয়েকে পুত্রবধূ বলে মেনে নিতে পারে না বীথি।

হাল আমলের আর পাঁচটা চেনা ছকের গল্পের থেকে উল্টো স্রোতেই হাঁটছে মেয়েবেলা। গল্পের প্লট বেশ সিরিয়াস এবং দুর্দান্ত অভিনয় করছেন চিত্রা সেন, রূপা গাঙ্গুলি, রত্না সরকার, শুভ্রজিৎ দত্তদের মতো অভিনেতারা। বিশেষ করে চিত্রা সেন ও রূপা গাঙ্গুলির জোরালো টক্কর সিরিয়ালের প্রাণশক্তি।

মেয়েবেলার নায়ক ডোডো ওরফে নির্ঝরের চরিত্রে অভিনয় করছেন থিয়েটারের ছেলে অর্পণ ঘোষাল। ইন্ডাস্ট্রিতে কিন্তু এটাই তাঁর প্রথম কাজ নয়। এর আগেও ধারাবাহিক এবং ওটিটি সিরিজে অভিনয় করেছেন তিনি। তবে প্রথম লাইমলাইট পেলেন ডোডো হয়েই। অসাধারণ অভিনয়ে কিস্তিমাতও করলেন। মৌয়ের চরিত্রে স্বীকৃতি মজুমদারের স্নিগ্ধ রূপ এবং অভিনয়ও মন ছুঁয়ে যাচ্ছে।
অনেক ধারাবাহিকের ক্ষেত্রে দেখা গিয়েছে, নতুন শুরু হয়েও, এমনকি হেভিওয়েট তারকা থাকা সত্ত্বেও সেভাবে জায়গা করে উঠতে পারছে না টিআরপির তালিকায়। পুরনো অভিনেত্রী দেবশ্রী রায়, পাপিয়া অধিকারীরা অভিনয়ের জোরে সিরিয়ালে এলেও সেসব সিরিয়াল ফ্লপ হয়েছে। রূপার মেয়েবেলাও কী সেই পথে হাঁটবে? অথচ নিজের সবটা দিয়েই অভিনয় করছেন রূপা-সহ প্রত্যেক অভিনেতা।

তাহলে কি এখনকার দর্শক মোটা দাগের গল্প, উদ্ভট চিত্রনাট্য বা হিন্দি থেকে নকল করা সিরিয়াল দেখতেই অভ্যস্ত?
এই কারণেই এক সময় বন্ধ হয়ে গেছিল 'গানের ওপারে'র মতো সিরিয়াল।
টিআরপি-তে না থাকার বড় কারণ অবশ্য আরও একটা আছে। প্রচুর দর্শক ফোনে বা ল্যাপটপে আজকাল বাংলা সিরিয়াল দেখেন। টেলিভিশন যেন আজকাল ব্রাত্য বাঙালির অন্দরমহলে। টিভি থাকলেও ঘরে সেটা চালিয়ে দেখার অভ্যেস চলে যাচ্ছে মানুষের। ফোনে দেখলে নির্দিষ্ট সময় দেখতে হয় না বা বিজ্ঞাপন দেখে সময় যায় না। তাই দর্শকরা ফোনে বা অ্যাপে দেখায় অভ্যস্ত আজকাল বেশি। কিন্তু টেলিভিশন টিআরপি-র ওপর সিরিয়াল কতদিন চলবে, তা নির্ধারণ করে। তাহলে কি মেয়েবেলার পথ চলা শুরুতেই থমকে যাবে?

রূপা গাঙ্গুলি এ বিষয়ে জানাচ্ছেন, 'এই সমস্ত টিআরপি-র ব্যাপারে আমার খুব একটা ধারণা নেই। তবে হটস্টার বা অন্যান্য অ্যাপে খুব ভাল চললেও, সেখান তো আর টিআরপি দেখা যায় না। দেশ-বিদেশের এমন অনেক মানুষ আছেন, যাঁরা এই সব অ্যাপের মাধ্যমেই ধারাবাহিক দেখে থাকেন। নাহলে অনেকেই এই বিনোদন থেকে বঞ্চিত থাকতেন। তার উপর আমাদের মত কর্মরত ব্যক্তিরাও এই মোবাইলেই সিরিয়াল দেখেন।’
প্রশ্ন উঠেছে, তাহলে এই টিআরপি-র হিসেব দিয়ে সিরিয়ালের মান ও স্থায়িত্ব আর কতদিন বিচার করা হবে!
বিয়ের পরে প্রথম পিরিয়ড, ‘সতী মঙ্গল ব্রত’ পালন নববধূর! বিতর্ক ‘নিম ফুলের মধু’ সিরিয়াল নিয়ে