
প্রতীকী ছবি
শেষ আপডেট: 19 March 2025 14:43
দ্য ওয়াল ব্যুরো: সত্যজিৎ রায় ও মাধবী মুখোপাধ্যায়— বাংলা চলচ্চিত্রের দুই উজ্জ্বল নক্ষত্র। বাংলা সিনেমাকে আন্তর্জাতিক পর্যায়ে পৌঁছে দিতে দু’জনেরই ছিল অনন্য ভূমিকা। তাঁদের কাজের প্রতি মুগ্ধ দর্শক, কিন্তু তাঁদের ব্যক্তিগত সম্পর্কও বহুবার আলোচনার কেন্দ্রবিন্দু হয়েছে। আজকের মতো সোশ্যাল মিডিয়া, পাপারাৎজির দৌরাত্ম্য তখন ছিল না। তাই অনেক সম্পর্ক নীরবেই শুরু হয়ে নিভৃতেই শেষ হয়ে যেত। সত্যজিৎ ও মাধবীর সম্পর্কও কি তেমনই এক অধ্যায় ছিল?
১৯৯২ সালে ‘ইলাস্ট্রেটেড উইকলি’ পত্রিকার সাংবাদিক এস এন এম আবদি-কে দেওয়া এক সাক্ষাৎকারে মাধবী মুখোপাধ্যায় নিজেই প্রকাশ করেছিলেন এক চমকপ্রদ সত্য। তিনি বলেছিলেন, একসময় সত্যজিৎ রায়ের প্রতি তাঁর গভীর প্রেম জন্মেছিল, কিন্তু পরিচালকের তখন ঘরসংসার জমিয়ে চলছিল স্ত্রী বিজয়া রায়ের সঙ্গে।

প্রেম করেও সেই সম্পর্ককে সামাজিক স্বীকৃতি দিতে চাননি মাধবী, কারণ তিনি কখনোই অন্য এক নারীর সংসার ভাঙতে চায়নি। সেই যন্ত্রণাতেই একবার আত্মহত্যার চেষ্টা করেছিলেন তিনি। মাধবীর কথায়, “একজন নারী হয়ে আরেক নারীর ক্ষতি কীভাবে করব? তাই নিজেকে শেষ করার সিদ্ধান্ত নিয়েছিলাম। একবার ৬০টি ঘুমের ওষুধ খেয়ে আত্মহত্যার চেষ্টা করি। হাসপাতালে চার দিন অচৈতন্য ছিলাম। বিষয়টি গড়িয়েছিল থানা-পুলিশ পর্যন্ত।”
একতরফা ভালবাসা, নাকি সত্যজিতেরও টান ছিল?
এ সম্পর্ক কি কেবল মাধবীর একতরফা অনুভূতি ছিল, নাকি সত্যজিৎও তাঁকে ভালোবাসতেন? মাধবীর বিশ্বাস, সত্যজিতের মনেও তাঁর প্রতি টান ছিল, কিন্তু নিজের বিবেকের কাছে তিনি বাঁধা ছিলেন। তাই তিনি কখনো সেই সীমা অতিক্রম করেননি। মাধবীও সরে এসেছিলেন নিজে থেকেই, কারণ ‘হোম ব্রেকার’ তকমা তিনি কোনওদিনও নিতে চাননি।
সত্যজিৎ রায় ও মাধবীর সম্পর্ক নিয়ে তাঁরা কেউই প্রকাশ্যে মুখ খোলেননি, কিন্তু সত্যজিতের স্ত্রী বিজয়া রায় তাঁর আত্মজীবনী ‘আমাদের কথা’ বইয়ে লিখেছিলেন, এই গুঞ্জন তাঁকে ব্যথিত করেছিল। যদিও তিনি কোনও অভিনেত্রীর নাম উল্লেখ করেননি। কয়েকদিন আগেই ছিল মাধবী মুখোপাধ্যায়ের জন্মদিন। বয়সের ভারে তাঁর শরীর এখন বেশ দুর্বল, ঠান্ডায় অসুস্থ হয়ে পড়েছেন তিনি। অতীত ফিরে দেখার অভ্যাস তাঁর কোনওদিনই ছিল না। হয়তো সে কারণেই আজও তিনি ‘চারুলতা’-র মতোই ত্যাগের মন্ত্রে দীক্ষিত।