দুই গ্যাংস্টার আমিরজাদা–আলমজেবের (Amirzada – Alamzeb) চক্রের বিরুদ্ধে যেন সরাসরি সংঘাতে চলে গিয়েছিলেন বলিউডের তৎকালীন মেগাস্টার দিলীপ কুমার (Dilip Kumar)। প্রাক্তন মুম্বই পুলিশ কমিশনার রাকেশ মারিয়ার বই (Rakesh Maria book) ‘হোয়েন ইট অল বিগ্যান’ (When It All Began)’–এ উঠে এসেছে সেই নাটকীয় অধ্যায়।

দিলীপ কুমার।
শেষ আপডেট: 28 November 2025 19:22
দ্য ওয়াল ব্যুরো: মুম্বই আন্ডারওয়ার্ল্ডের (Mumbai underworld) রক্তাক্ত ইতিহাসে ১৯৮২ সালের এক ঘটনা আজও রোমহর্ষক। সেই ঘটনায় দুই গ্যাংস্টার আমিরজাদা–আলমজেবের (Amirzada – Alamzeb) চক্রের বিরুদ্ধে যেন সরাসরি সংঘাতে চলে গিয়েছিলেন বলিউডের তৎকালীন মেগাস্টার দিলীপ কুমার (Dilip Kumar)। প্রাক্তন মুম্বই পুলিশ কমিশনার রাকেশ মারিয়ার বই (Rakesh Maria book) ‘হোয়েন ইট অল বিগ্যান’ (When It All Began)’–এ উঠে এসেছে সেই নাটকীয় অধ্যায়।

মুম্বইয়ের প্রাক্তন পুলিশ কমিশনার রাকেশ মারিয়ার লেখা বই। 'When It All Began'.
১৯৮২ সালের ২৪ সেপ্টেম্বর। দিলীপ কুমারের ঘনিষ্ঠ বন্ধু ও ‘শক্তি’ (Shakti) ছবির প্রযোজক মুশিরকে অপহরণ করে দুষ্কৃতীরা। ‘শক্তি’ (Shakti) মুক্তি পাওয়ার অপেক্ষায় তখন বলিউড (Bollywood)। ঠিক সেই সময়ে হঠাৎই মুশিরকে একটি সাদা অ্যাম্বাসাডর গাড়িতে তুলে নিয়ে গিয়ে অজ্ঞাত স্থানে আটকে রেখে নির্মমভাবে মারধর করা হয়। মুক্তিপণ হিসাবে দাবি করা হয় ২০ লক্ষ টাকা। মুদ্রাস্ফীতির দরে হিসাব করলে আজকের অঙ্কে কম করে সওয়া ৪ কোটি টাকা। মুশির পরে বলেছিলেন, তিনি বেঁচে ফিরেছেন— এটাই অলৌকিক। সম্ভবত, মুক্তিপণ দিয়েই ছাড়া পেয়েছিলেন তিনি।
করিম লালাকে ফোন, তারপর রিবেইরোর দফতরে ছুটলেন দিলীপ কুমার
দিলীপ কুমার প্রথমে খোঁজ নেন আন্ডারওয়ার্ল্ড ডন করিম লালা-র কাছে। মানে বুঝতে চান এটা করিম লালা গ্যাঙের কাজ কিনা। লালা অস্বীকার করেন। এরপর তিনি মুশির ও রিয়াজকে নিয়ে ছুটে যান পুলিশ কমিশনার জুলিও রিবেইরোর কাছে। রিবেইরো সঙ্গে সঙ্গে ক্রাইম ব্রাঞ্চের অফিসার মাধুকর জেন্দে এবং ইসাক বাগওয়ানকে ডেকে পাঠান। এই মধুকর জেন্দেকে নিয়েও সম্প্রতি একটি হিন্দি ছবি হয়েছে। অত্যন্ত সৎ অফিসার বলে পরিচিত ছিলেন জেন্দে। হিন্দি ছবি ‘ইন্সপেক্টর জেন্দে’-তে (Inspector Zende) তাঁর ভূমিকায় অভিনয় করেছিলেন মনোজ বাজপেয়ী (Manoj Bajpayee)।

দাউদ ইব্রাহিমের বিয়েতে আমিরজাদা ও আলমজেব
বন্ধ চোখে শোনা, আর গন্ধের স্মৃতি
মুশির চোখ বাঁধা অবস্থায় কোথায় নিয়ে যাওয়া হয়েছিল, তা প্রথমে বোঝা যায়নি। কিন্তু পুলিশ তাঁকে সব খুঁটিয়ে মনে করতে বলেন। এবং চমকপ্রদভাবে অনেক ক্লু বেরিয়ে আসে—গাড়ি থামার পর কাঠের তক্তার মতো কিছুর উপর দিয়ে হাঁটা, নাকে আসা তীব্র নর্দমার গন্ধ, ডান পাশে রেলিং ধরে সিঁড়ি বেয়ে ওঠা, প্রথম তলায় ডান দিকে মোড় নিয়ে করিডরের মতো জায়গা, পাশে শিশুদের কোরান পাঠ, ঘরে কেবল দু’টি চেয়ার আর দরজার ওপরে মক্কা–মদিনার ছবি, জানলা থেকে দেখা আহমেদ উমর অয়েল মিল–এর লম্বা চিমনি। এই বর্ণনা শুনে বাগওয়ান বুঝে ফেলেন— জায়গাটি নিশ্চয়ই নাগপাড়ার কাছাকাছি। তদন্তে মেলে সুনির্দিষ্ট ঠিকানা—নাগপাড়ার কাদের বিল্ডিং। এখানেই ছিল আমিরজাদা–আলমজেব গ্যাংয়ের ইন্টারোগেশন রুম।
ধরা পড়ল আমিরজাদা— এক চুলের জন্য বাঁচল আলমজেব
পুলিশের হানায় একের পর এক সূত্র মিলতে থাকে। অবশেষে গুজরাতের দারিয়াপুরে বিকেলের আজানের ঠিক আগে পুলিশ পৌঁছে যায়। আলমজেব নামাজ পড়তে মসজিদে ঢুকে পড়ায় সে পালিয়ে যায়। তবে আমিরজাদা পুলিশের হাতে গ্রেফতার হয়।
কেন মুশিরকে টার্গেট করেছিল দুই গ্যাংস্টার, বিভীষণ কে?
জেরায় আমিরজাদা স্বীকার করে— তাঁদের খবরি ছিল বলিউডের এক প্রোডাকশন ম্যানেজার। তাঁর নাম আহমেদ সৈয়দ খান। গ্যাংটি বলিউডে টার্গেট খুঁজছিল— যাঁদের টাকার দরকার বা যাঁদের কাছে কালো টাকা মজুত আছে। আহমেদ জানান— ‘শক্তি’ ছবির প্রচারের জন্য মুশির নাকি ৯০ লাখ টাকা নগদ দিয়েছিলেন। সেই তথ্য থেকেই তারা অপহরণের পরিকল্পনা করে।
২০ লাখের জায়গায় মাত্র ২ লাখ, দিলীপ কুমারের শত্রু হয়ে গেল গ্যাং
এই অপহরণ শুধু ব্যর্থ হয়নি— ভয়ঙ্কর ভুলও প্রমাণিত হয়। কারণ আমিরজাদা ও আলমজেব শত্রু বানিয়ে ফেলেছিল দিলীপ কুমারকে, যিনি আবার ছিলেন করিম লালার ঘনিষ্ঠ বন্ধু। তাঁর চাপে পুলিশের অভিযান আরও কঠোর হয়। দেড় বছর ধরে পালিয়ে বেড়ানো আমিরজাদার গর্ব এক ঝটকায় ভেঙে পড়ে। গ্যাংয়ের সুনাম, শক্তি— সবই তলানিতে গিয়ে ঠেকে।
মুম্বই আন্ডারওয়ার্ল্ডে আমিরজাদা–আলমজেব চক্রের পতনের সূচনাও সেদিন থেকেই। রাকেশ মারিয়ার বই ‘When It All Began’–এর বইয়ে রয়েছে এই রুদ্ধশ্বাস কাহিনি— যেখানে এক তারকার সাহসিকতা মুম্বইয়ের আন্ডারওয়ার্ল্ডকে নাড়িয়ে দিয়েছিল।