
জাকির হুসেন
শেষ আপডেট: 13 December 2024 13:10
দ্য ওয়াল ব্যুরো: ৭৩ বছর বয়সে না ফেরার দেশে চলে গেছেন জাকির হুসেন। ফুসফুসের সমস্যা নিয়ে আমেরিকার সান ফ্রান্সিসকোর এক হাসপাতালে আইসিইউতে চিকিৎসাধীন ছিলেন উস্তাদ। সেখানেই তিনি প্রয়াত হন। হাসপাতাল সূত্রে খবর, ফুসফুসের এক জটিল রোগে আক্রান্ত হয়েছিলেন জাকির হুসেন। সেই রোগের নাম ইডিওপ্যাথিক পালমোনারি ফাইব্রোসিস বা আইপিএফ।
জাকির হুসেনকে চেনেন না এমন মানুষের সংখ্যা পৃথিবীতে কম। বিশ্ব ধ্রুপদী সঙ্গীতবাদ্যের জগতে তিনি এক নক্ষত্রের নাম। শিল্পীর আচমকা এমন পরিণতিতে শোকের ছায়া সব মহলেই। তবে তাঁর মৃত্যু হতেই আইপিএফ রোগ নিয়ে চর্চা শুরু হয়েছে।
কী এই ইডিওপ্যাথিক পালমোনারি ফাইব্রোসিস রোগ?
আমেরিকার ন্যাশনাল হার্ট, লাং এবং ব্লাড ইনস্টিটিউট বা এনআইএইচ বলছে, এটি এমন একটি রোগ যা ফুসফুসের টিস্যুগুলির ক্ষতি করে। অজ্ঞাত কারণেই এই রোগ হয় মানুষের যা ফুসফুসের ওই টিস্যুগুলি পুরু এবং শক্ত করে দেয়। ফলে রোগীর শ্বাস নিতে সমস্যা হয়।
দীর্ঘদিন ধরে এই ধরনের সমস্যা চলতে থাকলে তখন তাকে ফাইব্রোসিস বলা হয়। এই সময়ে রোগীর শ্বাসকষ্টের সমস্যা মারাত্মক হারে বৃদ্ধি পায়। এই রোগের মূল কারণ সম্পর্কে সঠিক কোনও তথ্য না মিললেও বিশেষজ্ঞরা বলছেন, বহু বছর ধরে লাগাতার সিগারেট খেলেও বা পরিবারের কারও এই রোগের ইতিহাস থাকলে কেউ সহজেই আক্রান্ত হতে পারে আইপিএফ-এ।
সাধারণ মানুষের ক্ষেত্রে ফুসফুসের টিস্যুগুলি দিয়ে খুব সহজেই অক্সিজেন পাস করে সারা শরীরের রক্তে মিশতে পারে। কিন্তু কেউ আইপিএফ-এ আক্রান্ত হলে অক্সিজেন ফুসফুসে ঢুকলেও তা পুরু এবং শক্ত হয়ে যাওয়া টিস্যুর কারণে বেরিয়ে আসতে পারে না। তখনই শুরু হয় শ্বাসকষ্ট।
এনআইএইচ-এর গবেষণা বলছে, ৬০ থেকে ৭০ বছর বয়সিদের মধ্যেই সবথেকে বেশি এই রোগের প্রভাব দেখা যায়। আর মহিলাদের থেকে পুরুষদের এই রোগ হওয়ার সম্ভাবনা বেশি থাকে।
এই রোগের উপসর্গ
এনআইএইচ বলছে, রোগে আক্রান্ত হওয়ার পর থেকেই রোগীর শ্বাসকষ্টের অনুভূতি হতে পারে। ধীরে ধীরে তার পরিমাণ বাড়বে। এছাড়া দীর্ঘ সময় ধরে শুকনো কাশি হলেও তা এই রোগের উপসর্গ হতে পারে। শ্বাসকষ্টের মতো এই কাশিও একাধিক ওষুধে না কমে দিনদিন বেড়ে যেতে পারে। পাশাপাশি শরীরের বিভিন্ন গাঁটে গাঁটে ব্যথা, খুব তাড়াতাড়ি ক্লান্ত হয়ে পড়া এবং অল্প সময়ের মধ্যে ওজন কমে যাওয়াও এই রোগের অন্যতম উপসর্গ।
এখনও পর্যন্ত ইডিওপ্যাথিক পালমোনারি ফাইব্রোসিস রোগের কোনও নিশ্চিত চিকিৎসা নেই। যদিও এনআইএইচ জানিয়েছে, কিছু ওষুধ ফুসফুসকে নিয়মিত সচল রাখতে সাহায্য করতে পারে। তাছাড়া অক্সিজেন থেরাপি করে শ্বাসকষ্টে সমস্যা কমানো যেতে পারে। তবে পুরোপুরি এই রোগ থেকে মুক্তি মিলবে এমন কোনও ওষুধ এখনও বের হয়নি।