.jpg)
কী ঘটে মেলার মাঠে?
শেষ আপডেট: 13 January 2025 16:56
নিজস্ব সংবাদদাতা: কালনা তৃণমূল বিধায়ক দেবপ্রসাদ বাগের উদ্যোগে কয়েক দিন ধরেই চলছে পিঠেপুলি মেলা। আর সেখানেই রবিবার রাতে ঘটল অঘটন। প্রবল ভিড় সামলাতে রীতিমতো হিমশিম খেল পুলিশ। আহত বেশ কয়েক জন। রবিবার সঙ্গীতশিল্পী জোজো ও পলক মুচ্ছলের অনুষ্ঠান ছিল। স্বাভাবিকভাবেই দর্শকমহলে এই অনুষ্ঠান নিয়ে উত্তেজনা ছিল তুঙ্গে।
সন্ধের পর থেকেই ভিড় বাড়তে শুরু করে। জোজো যখন মঞ্চে ওঠেন ততক্ষণে মাঠে তিলধারণের জায়গা নেই। আয়োজক-পুলিশ বারংবার বাকিদের ঢুকতে নিষেধ করেও লাভ হয়নি। কী ঘটে এরপর?
'
দ্য ওয়াল' যোগাযোগ করে জোজোর সঙ্গেই। তিনি বলেন, "আমার অনুষ্ঠানে অতিরিক্ত ভিড় হওয়া খুব স্বাভাবিক ব্যাপার। প্রথম থেকেই যদি পুলিশ-প্রশাসনের যদি ব্যাপারটা নজরে আসে তাঁরা খালি করার চেষ্টা করেন। তবে গতকাল কালনার ওই মাঠে এত ভিড় হয়েছিল যে আমি বলে বোঝাতে পারব না। পরশুদিনও হাওড়ার ফুলমেলায় অনুষ্ঠান ছিল। সেটাতেও খুব ভিড় হয়। উদ্যোক্তারা বুঝতে পেরে বাঁশের ব্যারিকেডের বদলে লোহার ব্যারিকেড লাগান যাতে গণ্ডগোল না হয়। কালকে যেটা হল তার দু'টি কারণ আছে বলে মনে হয়। প্রথমত, আমি বহুদিন পর কালনায় গেলাম, তার একটা ক্রেজ তো ছিল। আর দ্বিতীয়ত, আমি ছাড়াও পলক মুচ্ছলও ছিলেন। বলিউডের শিল্পীর তো একটা চাহিদা রয়েছেই। গতকাল মাঠটা কিন্তু বিশাল বড় ছিল, সেই মাঠও ভর্তি। এত ভিড়! মনে হল জনসমুদ্র। কালনার বুকে যে অত মানুষ আছেন সেটাই আমি আশা করতে পারিনি। উদ্যোক্তারা মাঠের গেট বন্ধ করে দেন। গেটের বাইরেও থিকথিক করছে মানুষ। একটা সময় দেখি পাঁচিল-দেওয়াল কিছুই ফাঁকা নেই। সেখানেও লোক। অনুষ্ঠান শেষ হওয়ার পর আমার নিরাপত্তারক্ষীকে পুলিশ এসে বলছে, দিদিকে শিগগির বার করুন। একজন মহিলা পাঁচিলের উপর উঠে বসে আছে। জোজোদি না এলে তিনি নামবেন না। আমরা নামাতে পারছি না। তড়িঘড়ি পাঁচিলের সামনে যাই, হাত নাড়ি। তারপর উনি নামেন।"
উদ্যোক্তাদের নিয়ে ক্ষোভ নেই তাঁর। বললেন, "অনুষ্ঠান চলাকালীনই ওঁরা বারবার এসে বলছিলেন, আপনারা বাড়ি চলে যান। আমরা কথা দিচ্ছি আগামী বছর আবার জোজোকে আনব। আমাদের আর জায়াগ নেই। জায়েন্ট স্ক্রিনেরও ব্যবস্থা হয়। কিন্তু কেউ কথা শোনার অবস্থাতেই ছিলেন না। এরকম সময়েই মনে হয় পুলিশ তাড়া করে। আর তখনই মনে হয় কিছু মানুষ আহত হয়েছেন। তবে মারাত্মক কিছু ঘটেনি। পদপিষ্ট হয়নি বলেই খবর। শিল্পী হিসেবে আমি সব সময় চাইব যেন সবাই আসেন গান শুনতে। তবে কেউ আহত হন এটা কাম্য নয়। যাদের লেগেছে তাঁরা যেন সুস্থ হয়ে বাড়ি ফেরেন, সেটাই চাইব।"
অনুষ্ঠান শেষে বিধায়ক দেবপ্রসাদ বাগ আহতদের দেখতে হাসপাতালে আসেন। তিনি বলেন, "বারবার মাইকে প্রচার করা হচ্ছিল মাঠের ভেতর প্রবেশ না করার জন্য। গেটও বন্ধ করে দেওয়া হয়েছিল। তাতেও বাইরের মানুষকে ঠেকানো যাচ্ছিল না। মহিলাদের ভিড় ছিল চোখে পড়ার মতো। তাদেরও সরানো যাচ্ছিল না। ভিড়ে হুড়োহুড়িতে পড়ে গিয়ে বেশ কিছু লোক আহত হয়েছে। কয়েকজনের পা ভেঙে গেছে। আনন্দ অনুষ্ঠানে এই ধরনের ঘটনা কাম্য নয়।"