২৫ জুলাই, এক ঐতিহাসিক দিনে, যশ রাজ ফিল্মস প্রকাশ করল বছরের সবচেয়ে প্রতীক্ষিত ছবি ‘ওয়ার ২’র ট্রেলার। আর সেই মুহূর্তেই যেন ইন্টারনেট জ্বলে উঠল।

যশ রাজ ফিল্মস প্রকাশ করল বছরের সবচেয়ে প্রতীক্ষিত ছবি ‘ওয়ার ২’র ট্রেলার
শেষ আপডেট: 25 July 2025 14:42
দ্য ওয়াল ব্যুরো: ২৫ জুলাই, এক ঐতিহাসিক দিনে, যশ রাজ ফিল্মস প্রকাশ করল বছরের সবচেয়ে প্রতীক্ষিত ছবি ‘ওয়ার ২’র ট্রেলার। আর সেই মুহূর্তেই যেন ইন্টারনেট জ্বলে উঠল। হৃতিক রোশন বনাম জুনিয়র এনটিআর—দুই সুপারস্টার মুখোমুখি! ট্রেলারে শুধু অ্যাকশন নয়, আছে আত্মচিন্তা, আত্মত্যাগ আর যুদ্ধের গভীর দর্শন। আর এইসবের মাঝে, এক ঝলক সৌন্দর্যের প্রতীক হয়ে উঠেছেন কিয়ারা আদবানি।
এ ছবির মাধ্যমে যশ রাজ ফিল্মস উদযাপন করছে বলিউডের দুই ব্যক্তিত্ব হৃতিক রোশন ও জুনিয়র এনটিআর-এর ২৫ বছরের অভিনয়জীবন। পরিচালনায় আছেন অায়ান মুখার্জি। ট্রেলারই বলে দিচ্ছে, এই ‘ওয়ার’ শুধু শরীরের নয়, মনেরও।
ট্রেলারের শুরুতেই দুই যোদ্ধা নিজেদের পরিচয় দেন। হৃতিকের চরিত্র কবির বলেন, “আমি ছায়া হতে চাই, যেখানে সম্পর্ক নেই, ভালোবাসা নেই, আমি নিজেও নেই।” অন্যদিকে এনটিআর বলেন, “আমি এমন এক অস্ত্র হতে চাই, যা কেবল ধ্বংস করতেই জানে। হয় আমি মরব, নয়তো মেরে ফেলব।”
একজন বলেন, "মরণ আগে অপমান নয়", অন্যজন বলেন, "নিজের আগে দেশ"। দুই দর্শনের সংঘর্ষ শুরু হয়ে যায়, যার কেন্দ্রবিন্দুতে থাকে ‘ভারত’। এখানেই আবির্ভাব কিয়ারার—কখনও অ্যাকশন হিরোইনের মতো ধ্বংস করে যাচ্ছেন, আবার কখনও হৃতিকের সঙ্গে রোম্যান্সে মেতে উঠেছেন। স্মৃতিতে ফিরে আসে ২০১৯-এর ‘ওয়ার’, যেখানে কবির বলেছিল, “যুদ্ধ শেষ হয়নি।” এবার সেই যুদ্ধের ময়দান আরও রক্তাক্ত, আরও গভীর, আরও ব্যক্তিগত।
ট্রেলারের একদম শেষে শোনা যায় গীতা-র অমোঘ বাণী, যা যেন মনে করিয়ে দেয়, ধর্মের পথে যুদ্ধ কখনও শেষ হয় না।
সিনেমাটি মুক্তি পাচ্ছে আগস্ট ১৪, স্বাধীনতা দিবসের আগের দিন, তিন ভাষায়—হিন্দি, তেলুগু, তামিল।
এ শুধু একটি সিনেমা নয়, এ এক চেতনার উৎসব। একদিকে নিজের অস্তিত্ব মুছে দিয়ে দেশের সেবা, অন্যদিকে দেশের জন্য নিজের অস্ত্র হয়ে ওঠার সংকল্প—এই দুই দর্শনের মেলবন্ধনই ‘ওয়ার ২’-এর আসল রূপ। শেষ দৃশ্য যেন এক প্রশ্ন রেখে যায়—“বীর কি যোদ্ধার জন্য আত্মবলিদান দেবে?” হৃতিক ও এনটিআর যেন একসঙ্গে বলে ওঠেন—“জয় সেই যোদ্ধার, যে নিজের পরিচয় ভুলে দেশকে বেছে নেয়।” এই ট্রেলার শুধু সিনেমার নয়, আত্মত্যাগ আর দেশভক্তির কাব্য—যা দেখতে গেলে বুক কেঁপে উঠবেই।