
শেষ আপডেট: 3 November 2023 19:47
দ্য ওয়াল ব্যুরো: গত ২৭ অক্টোবর বড়পর্দায় মুক্তি পেয়েছে ‘টুয়েলভথ ফেল’। বিধু বিনোদ চোপড়া পরিচালিত এই ছবিটি ধীরে ধীরে বেশ ভালই ব্যবসা করছে বক্স অফিসে। ‘পরিন্দা’, ‘১৯৪২: আ লাভ স্টোরি’, ‘মিশন কাশ্মীর’-এর মতো ছবির পরিচালক বিধু বিনোদ বহুদিন পর আবার পরিচালনায় ফিরলেন। আর ফিরেই অল্প বাজেটে রীতিমতো বাজিমাত করলেন তিনি। দর্শক থেকে শুরু করে সমালোচক, সকলেই ‘টুয়েলভথ ফেল’-এর প্রশংসায় পঞ্চমুখ। এই একইদিনে মুক্তি পেয়েছিল কঙ্গনা রানাউতের ‘তেজস’। তবে সেটি বক্স অফিসে মুখ থুবড়ে পড়েছে।
বিধু বিনোদ চোপড়া এই ছবিটি তৈরি করেছেন লেখক অনুরাগ পাঠকের একই নামের একটি বহুল পঠিত এবং চর্চিত গল্প অবলম্বনে। গল্পের প্রেক্ষাপট মধ্যপ্রদেশের চম্বল গ্রাম। যেই জায়গা ডাকাতের জন্য কুখ্যাত। যেখানে আইন-কানুন সত্যিই সর্বনেশে! সেই গ্রামেরই ছেলে মনোজ কুমার শর্মা (বিক্রান্ত ম্যাসে)। তাঁর স্বপ্ন সিভিল সার্ভিস পরীক্ষায় পাশ করে পুলিশ অফিসার হবে। চম্বলের মনোজের কি পুলিশ হওয়ার স্বপ্ন সত্যি হবে? এই নিয়েই ‘টুয়েলভথ ফেল’ সিনেমার গল্প। এই সিনেমা দেখে রীতিমতো মুগ্ধ ভারতের সিনেমা সমালোচকরা।
সিনেমা বিশ্লেষকরা বলছেন, বহুদিন পর এমন কোনও ছবি বলিউডে মুক্তি পেল, তা একেবারে ভারতের শিকড়ের গল্প বলেছে। সঙ্গে হৃদয়ছোঁয়া গল্প, বিধু বিনোদ চোপড়ার দুর্দান্ত পরিচালনা আর অভিনেতা-অভিনেত্রীদের দুরন্ত অভিনয়ের গুণে দর্শকরা ‘টুয়েলভথ ফেল’-এর সঙ্গে নিজেদের সংযোগ করতে পারছেন। একটা সময় হিন্দি ছবিতে যে ‘জিরো থেকে হিরো’ হওয়ার গল্প বলা হতো, যার সঙ্গে মানুষ খুব সহজেই কানেক্ট করতে পারতেন, এ ছবির ক্ষেত্রেও তাই হয়েছে। আর এই কারণেই কোনওরকম প্রত্যাশা ছাড়াই এই ছবিটি দর্শক মহলে বেশ জনপ্রিয় হয়েছে।
এই নিয়ে সম্প্রতি সংবাদমাধ্যমে মুখ খুলেছেন পরিচালক বিধু বিনোদ চোপড়া। নয়ের দশকে একটার পর একটা হিট সিনেমা পরিচালনার পরেও এই শতাব্দীর গোড়া থেকেই পরিচালনার কাজ কমিয়ে দিয়েছিলেন তিনি। শেষ ছবি ‘শিকারা’র বিষয়বস্তু ভাল হলেও, সিনেমাটি একেবারেই চলেনি। তাহলে কোন জাদুতে ‘‘টুয়েলভথ ফেল’ মুগ্ধ করল সবাইকে? পরিচালকের কথায়, “আগের ছবিগুলি চলেনি বলে নিজেকে বিক্রি করে দিইনি। সততার সঙ্গে দেশের শিকড়ের গল্প বলতে চেয়েছিলাম। মানুষ পছন্দ করেছেন। আর তাই আবার সাফল্য পেয়েছি।”