
শেষ আপডেট: 23 January 2022 08:09
ছবির কাহিনির মূল প্রতিপাদ্য বিষয় নেতাজি অন্তর্ধান রহস্য। উত্তরপ্রদেশের গুমনামি বাবাই কি নেতাজি? ছবির নাম ‘সন্ন্যাসী দেশনায়ক’। পরিচালনা করেছেন অম্লানকুসুম ঘোষ।
সৃজিতের 'নেতাজি' যদি প্রসেনজিৎ চট্টোপাধ্যায় হন, তাহলে এই নতুন ছবিতে অম্লানকুসুমের নেতাজির ভূমিকায় দেখা যাবে প্রখ্যাত অভিনেতা ভিক্টর বন্দ্যোপাধ্যায়কে। ভিক্টরের স্বর্গীয় সৌন্দর্য্যে অসাধারণভাবে ফুটে উঠেছে এই সন্ন্যাসী চরিত্রটি।
বহু বাধা পেরিয়ে, কোভিডঝড় এড়িয়ে আগামী ফ্রেব্রুয়ারী মাসেই ছবিমুক্তির কথা কথা চলছে।
ছবির গল্প শুরু হচ্ছে একদম অন্যরকমভাবে। গল্প সরাসরি প্রবেশ করেছে নেতাজি অন্তর্ধান রহস্যে। কয়েকজন পড়ুয়া নেতাজি সুভাষচন্দ্র বোসের অন্তর্ধান রহস্য নিয়ে একটি তথ্যচিত্র বানানোর পরিকল্পনা করে। নেতাজি বিষয়ক গবেষণা শুরু করে তারা। তারপর থেকেই ঘটতে থাকে আশ্চর্য সব ঘটনা। তারা জানতে পারে উত্তর ভারতের এক সন্ন্যাসী সম্পর্কে। যিনি গুমনামি বাবা। তিনিই কি নেতাজি? এই প্লটের ভিত্তিতেই এগোতে থাকে গল্প। কিছু ঘটনাকে কখনও ফ্ল্যাশব্যাকে, আবার কিছু ঘটনা বর্তমান প্রেক্ষাপটে সাজানো হয়েছে।
এই ছবিতে প্রমাণ মিলতে পারে গুমনামিবাবাই নেতাজি। গভীর গবেষণা করেছেন পরিচালক। পরিচালক অম্লানকুসুম বছরখানেক আগে ‘ব্ল্যাক বক্স অফ হিস্ট্রি’ নামে নেতাজি-কেন্দ্রিক এক তথ্যচিত্র বানান। তারপর সেই সম্পর্কিত এক বইও লিখেছেন। যার নাম ‘জ্ঞাতজনের অজ্ঞাতবাস’। নিজের লেখা সেই বইয়ের ভিত্তিতেই তৈরি করেছেন ‘সন্ন্যাসী দেশনায়ক’ ছবিটি। ছবির কাজ শুরু হয়েছে বছর তিনেক আগে। মুখার্জি কমিশনের রিপোর্টও বিস্তারিতভাবে ঝালাতে হয়েছে তাঁকে। কীভাবে নেতাজি অন্তর্ধান হওয়ার নির্দেশ দেন তারও প্রমাণ মিলবে ছবিতে। পরিচালক সেভাবে প্রচারে বিশ্বাসী নন বলে তাঁর ছবিটি শিরোনামে আসেনি, কিন্তু ছবিটি নিয়ে যে গভীর গবেষণা রয়েছে তাঁর, সেটা অন্তত দর্শকদের নিরাশ করবেনা।
https://youtu.be/x5eU7gKLLGc
ভিক্টর বন্দ্যোপাধ্যায় এমনিতেই খুব কম কাজ করেন, বেছে কাজ করেন। তাঁকে নেতাজি ও গুমনামি বাবারূপে দেখে দর্শক উচ্ছ্বসিত।
ভিক্টরের প্রস্থেটিক মেক-আপ করেছেন উল্লাস আগনেকর। যিনি বলিউড তথা হলিউডেও মেক-আপ আর্টিস্ট হিসেবে বেশ জনপ্রিয়।
তবে নেতাজিই কি সত্যি গুমনামি বাবা? এই ঝড় তোলা তর্কের হয়তো সঠিক দিশা পাওয়া যাবে ছবিটি দেখলেই।
ভিক্টর ছাড়াও ছবিতে অভিনয় করেছেন বিশেষ চরিত্রে শাশ্বত চট্টোপাধ্যায়, লকেট চট্টোপাধ্যায়।
ছবির সংগীত পরিচালনা করেছেন দেবজ্যোতি মিশ্র। রাঘব চট্টোপাধ্যায়ের কণ্ঠে ছবির শীর্ষসঙ্গীতটি অনবদ্য। সম্পাদনা করেছেন অর্ঘ্যকমল মিত্র।
বহু প্রতীক্ষিত ছবি এখন শুধু মুক্তির অপেক্ষায়। খুব শীঘ্রই মুক্তি পাবে ছবিটি। আশার আলো দেখাচ্ছে প্রোডাকশান হাউস। ফেব্রুয়ারি মাসেই ছবিটিকে প্রদর্শন করার চেষ্টা চলছে।