
শেষ আপডেট: 14 October 2024 13:12
দ্য ওয়াল ব্যুরো: শনিবার রাতে বান্দ্রায় ছেলে জিশান সিদ্দিকির অফিস থেকে বেরোনোর সময় গুলিবিদ্ধ হন মহারাষ্ট্রের প্রাক্তন মন্ত্রী তথা এনসিপি নেতা বাবা সিদ্দিকি। রবিবার সকালে তাঁর মৃত্যুর দায় নেয় লরেন্স বিষ্ণোই গ্যাং। তারপরই উঠে আসে একাধিক চাঞ্চল্যকর তথ্য। সলমনের খানের সঙ্গে যোগসূত্র নিয়েও জল্পনা শুরু হয়। বেলা গড়াতেই খুনের দায় স্বীকার করার পাশাপাশি ফের হুমকি দেয় গ্যাংয়ের সদস্যরা। 'সলমন খানকে যে বাঁচাবে, তার পরিণতি এমনই হবে' একথা বলতেও শোনা যায়।
১৯৯৮ সালে কৃষ্ণসার হরিণ শিকারকাণ্ডে সলমন খানের নাম জড়ায়। বদলা নিতে অভিনেতাকে খুনের হুমকি দেয় লরেন্স বিষ্ণোই গ্যাং। গত বছর এনআইএ জানায়, জেলবন্দি গ্যাংস্টার বিষ্ণোই যে ১০ জনকে খতমের তালিকায় রেখেছেন, তার মধ্যে প্রথমেই রয়েছে সলমনের নাম। তার পর থেকেই একাধিক হুমকি পান অভিনেতা। চলতি বছর অভিনেতার বাড়ির সামনে গুলিও চলে। গ্রেফতার হয় ছয় জন।
বাবা সিদ্দিকির সঙ্গে সলমনের ঘনিষ্ঠতার কথা আজানা নয়। সলমনের বাড়ির বাইরে গুলি চলার পর বাবা সিদ্দিকি তাঁকে নির্ভয় দেন এবং নিরাপত্তাও দেন। মনে করা হচ্ছে, এরপর থেকেই বিষ্ণোই গ্যাংয়ের হিটলিস্টে উঠে আসেন তিনি।
লরেন্স গ্যাংয়ের তরফে শুবু লঙ্কার ওরফে শুভম রামেশ্বর লঙ্কার-এর তরফে যে ফেসবুক পোস্ট করা হয়, তাতেও সলমনের কথা উঠে আসে। এই ব্যক্তিই খুনের দায় স্বীকার করে ও রবিবার জানায়, যে সলমনকে বাঁচাবে বা নিরাপত্তা দেবে, তারই পরিণতি এমন হবে।
পুলিশের তরফে জানানো হয়েছে, এই শুবু লঙ্কার বর্তমানে জেলে রয়েছে। ফলে পোস্টটি তার ভাই প্রবীণ লঙ্কার করে থাকতে পারে। এই সম্ভাবনা থেকেই জিজ্ঞাসাবাদের জন্য রবিবার গ্রেফতার করা হয়েছে প্রবীণকে।
তবে, পোস্ট অনুযায়ী, শুধু সলমনকে বাঁচানোর দায়ে মরতে হয়েছে বাবা সিদ্দিকিকে, এমন নয়। ভারতের মোস্ট ওয়ান্টেড দাউদ ইব্রাহিম, সলমন খান ও অনুজ থাপান, যাকে সলমনের বাড়ির সামনে গুলি চালানোর ঘটনায় গ্রেফতার করা হয় ও পরে মৃত্যু হয়, সেজন্যও বাবা সিদ্দিকিকে মরতে হয়েছে।
প্রসঙ্গত, মুম্বই ক্রাইম ব্রাঞ্চের লক আপে ১লা মে উদ্ধার হয় অনুজ থাপানের মৃতদেহ। পুলিশ জানায়, আত্মঘাতী হয়েছে সে। কিন্তু অভিযুক্তর পরিবার দাবি করে, পুলিশের অমানবিক অত্যাচারের ফলে মৃত্যু হয়েছে তার। শুবু লঙ্কারের পোস্টে লেখা হয়, 'কারও সঙ্গে আমাদের কোনও শত্রুতা নেই। কিন্তু দাউদ ইব্রাহিম ও সলমন খানকে যে সাহায্য করবে তারা বুঝে নিন। হিসাবপত্র করে রাখবেন।'
এই ঘটনা প্রথম নয়, এর আগে সলমনের প্রশংসা করার জন্য বিখ্যাত গায়ক গিপ্পি গ্রেওয়ালের কানাডার বাড়ির সামনে গুলি চালায় বিষ্ণোই গ্যাংয়ের সদস্যরা। গত মাসে এপি ধিলঁর বাড়ির সামনেও গুলি চলে। দায় স্বীকার করে বিষ্ণোই গ্যাং। জানা যায়, একটি গানের ভিডিও রিলিজ করেছিলেন সংগীত শিল্পী, যাতে সলমনকে দেখা যায়।
শনিবারের এই ঘটনা ও পর পর এমন সব তথ্য উঠে আসায় নিরাপত্তা বাড়ানো হয়েছে ভাইজানের বাড়ির সামনে। মোতায়েন করা হয়েছে অতিরিক্ত পুলিশ।