রাজার ছেলে রাজা হবে, ডাক্তারের ছেলে ডাক্তার--এই ট্রেন্ডের গা ভরা নাম 'নেপোটিজম' অর্থাৎ কিনা স্বজনপোষণ। অনেকেই ভাবতে পারেন, সেই নেপোটিজমরই 'ফসল' বোধহয় গৌরব।
.jpg.webp)
গৌরব চট্টোপাধ্যায়
শেষ আপডেট: 10 June 2025 17:50
দ্য ওয়াল ব্যুরো: দাদু ছিলেন মহানায়ক। বাবা গৌতম চট্টোপাধ্যায় অভিনয় জগতে আসেননি। অথচ রক্তকে অস্বীকার করবে সে দায় কার! ঠাকুরদাদের লিনিয়েজ অক্ষুণ্ণ রেখে গৌরব এলেন ছবির দুনিয়ায়। প্রথম ছবি 'ভালবাসার অনেক নাম'। পরিচালক তরুণ মজুমদার। হালকা গোঁফের রেখায় তাঁর লিপে 'আমি অল্প নিয়ে থাকতে পারি, যদি পাই একটু ভালবাসা' আজও ভোলেনি ৯-এর দশকে ছেলেমেয়েরা।
রাজার ছেলে রাজা হবে, ডাক্তারের ছেলে ডাক্তার--এই ট্রেন্ডের গা ভরা নাম 'নেপোটিজম' অর্থাৎ কিনা স্বজনপোষণ। অনেকেই ভাবতে পারেন, সেই নেপোটিজমরই 'ফসল' বোধহয় গৌরব। এও ভাবতে পারেন, সোনার চামচ মুখে নিয়েই জন্ম যাঁর, তাঁর আবার স্ট্রাগল কীসের?

ছোটবেলাটা খুব একটা মসৃণ ছিল না গৌরবের। ২০০৫ সালে মারা যান গৌতম চট্টোপাধ্যায়। তিনি অভিনয় জগতে আসেননি। সম্বল বলতে একটি ওষুধের দোকান। প্রথম স্ত্রী থাকাকালীনই আরও এক বিয়ে করেন গৌতম। দুই স্ত্রী, তিন ছেলে মেয়ে নিয়ে যখন কার্যত নাজেহাল অবস্থা তাঁর ঠিক এমনই এক সময় গৌতমের মৃত্যু।
দ্য ওয়ালকে গৌরব বলছিলেন, "কেউ বিশ্বাস করে না কতটা কষ্ট করে বড় হয়েছি আমরা। ধারদেনাও করতে হয়েছিল একটা সময়। আমাকে ওই সময়টার কথা কেউ জানতে চাইলে আমি কিন্তু সত্যিটাই বলি। তবে তা নিয়ে কোনও কথা হয় না। অনেকে আবার ছাপাতে চান না। একটা দুর্গাপুজোয় জামা পেলে, পরের পুজোয় আদৌ জামা পাব কিনা তা নিয়ে সন্দেহ ছিল। পুজোর জামাটা তো একটা বড় ইমোশনের জায়গা, সেটাও পাব কিনা জানতাম না। অনেক সময়েই দেখা যায় বাচ্চাদের থেকে অনেক কিছু লুকিয়ে রাখেন বাবা-মায়ের। হাজার কষ্টেও বার্তা দেন 'সব ঠিক আছে'। তবে বুঝতে তো পারা যায় সবটাই, তাই না?"

একটু থেমে আবার বললেন, "প্রত্যেকের নিজস্ব সংগ্রাম আছে। আমারও আছে। আজকাল নেপোটিজম নিয়ে অনেক কথা হয়। কিন্তু সবটাকে এক লাইনে বসিয়ে দেওয়া বোধহয় ঠিক নয়। সবাইকে বোঝাতে পারব না। চাইও না। তবে আমি আমার স্ট্রাগল সম্পর্কে অবগত।
প্রশ্ন হল, কেন এত ধারদেনা হয়েছিল পরিবারে? শোনা যায় 'ছোটি সি মুলাকাত' ছবি করতে গিয়ে কার্যত নিঃস্ব হয়েছিলেন মহানায়ক। গৌতমবাবুও ব্যবসা বিশেষ দাঁড় করাতে পারেননি। এরই মধ্যে মদ্যপান, একাধিক বিয়ে, বেহিসেবি জীবন...প্রত্যক্ষদর্শীরাই বলেন, সংগ্রাম চলেছিল বেশ কিছু বছর। তবে চিরদিন কাহারও সমান নাহি যায়। তাঁদের ক্ষেত্রেও সমান যায়নি। ঘুরে দাঁড়িয়েছেন গৌরব। ঘুরে দাঁড়িয়েছে গোটা পরিবারটিই। ব্যক্তিগত ও পেশাগত জীবনে আজ তিনি সফল। ছেঁড়া কাঁথায় শুয়েও লাখ টাকার স্বপ্ন দেখা অপরাধ নয়! শুধু তা সত্যি করতে জানতে হয়।