ওঁরা কনফিডেন্ট, ক্যানসারও হার মানাতে পারেনি ওঁদের
দ্য ওয়াল ব্যুরো: ক্যানসার। এই মারণব্যাধির নাম শুনলেই শিউরে ওঠেন সবাই। আর একুশ শতকে এই সমস্যা তো ঘরে ঘরে। আম জনতা থেকে সেলিব্রিটি। নিস্তার নেই কারোর। আচমকাই ক্যানসার ধরা পড়ছে শরীরে। এক ঝটকায় শরীরের পাশাপাশি মানসিক ভাবেও ভেঙে পড়ছেন ক্যানসার আ
শেষ আপডেট: 31 July 2018 08:47
দ্য ওয়াল ব্যুরো: ক্যানসার। এই মারণব্যাধির নাম শুনলেই শিউরে ওঠেন সবাই। আর একুশ শতকে এই সমস্যা তো ঘরে ঘরে। আম জনতা থেকে সেলিব্রিটি। নিস্তার নেই কারোর। আচমকাই ক্যানসার ধরা পড়ছে শরীরে। এক ঝটকায় শরীরের পাশাপাশি মানসিক ভাবেও ভেঙে পড়ছেন ক্যানসার আক্রান্তরা।
তবে যাঁরা হার মানেননি এ গল্প তাঁদের নিয়ে। শত অসহায়তার মধ্যেও তাঁরা যেনতেনপ্রকারেণ পরিস্থির সঙ্গে নিজেদের খাপ খাইয়েছেন। মনোবল না হারিয়ে মোকাবিলা করেছেন সব সমস্যার। শরীরের পাশাপাশি মানসিক ভাবেও যুঝেছেন পরিস্থিতির সঙ্গে। তাঁরা বলিউডের কয়েকজন নামজাদা সেলেব। কেউ অভিনেতা। কেউবা পরিচালক। কিন্তু সমস্যাটা সবার ক্ষেত্রে একই। আচমকাই সবাই জানতে পেরেছিলেন ক্যানসার বাসা বেঁধেছে তাঁদের শরীরে। কেউ রয়েছেন জটিল পর্যায়ে। কেউবা তার চেয়ে একটু কম।
তবে তাঁরা কোনও পরিস্থিতিতেই হার মানেননি। বরং লড়াই করে ঘুরে দাঁড়িয়েছেন। ফিরে পেয়েছেন নতুন জীবন। এমনকী দাপিয়ে বেড়াচ্ছেন সিলভার স্ক্রিন।
অনুরাগ বসু- সময়টা ২০০৪ সাল। অনুরাগ একদিন আচমকাই জানতে পেরেছিলেন প্রোমাইলোসাইটি লিউকেমিয়ায় আক্রান্ত তিনি। এটা এক ধরণের ব্লাড ক্যানসার। চিকিৎসকরা বলেছিলেন বেশ জটিল পর্যায়ে রোগ ধরা পড়েছে অনুরাগের। পরিচালককে মাত্র দু'মাস সময় দিয়েছিলেন তাঁরা। অনুরাগের অসুস্থতার খবর পেয়ে খুব ভেঙে পড়েছিলেন মহেশ ভাট। কিন্তু না অনুরাগ হার মাননি। বরং ব্লাড ক্যানসারের সঙ্গে লড়াই করে জিতে গিয়েছেন তিনি। আর দর্শকদের উপহার দিয়েছেন অসামান্য কিছু ছবি।
মনীষা কৈরালা- দীর্ঘদিন পর্দায় দেখা যাচ্ছিল না নেপালের এই রাজবংশীয়কে। সবাই বলেছিলেন বরাবরই বড্ড অহঙ্কারী তিনি। তাই বোধহয় স্বেচ্ছা অবসর নিয়েছেন। কিন্তু নাহ। বিষয়টা মোটেও তেমন ছিল না। ওভারিয়ান ক্যানসারে আক্রান্ত হয়েছিলেন অভিনেত্রী। ২০১২ সাল থেকেই শুরু হয় চিকিৎসা। তাঁর ঘনিষ্ঠরাও একসময় আশা ছেড়ে দিয়েছিলেন। কিন্তু মনীষা হাল ছাড়েননি। বরং সফল অস্ত্রোপচারের পর সহাস্যে বলেছিলেন, "ক্যানসারের বিরুদ্ধে আমি একজন লড়াকু যোদ্ধা। নিজের এই পরিচয়ে আমি খুশি। এটাও এক ধরণের অ্যাটিচিউড।" সম্প্রতি 'সঞ্জু' ছবিতে নার্গিসের চরিত্রেও দারুণ অভিনয় করেছেন মনীষা। আর দর্শকরা বলছেন, বোধহয় একেই বলে ক্যামব্যাক।
লিসা রে- ২০০৯ সালে মাল্টিপল মাইলোমা-এক প্রকারের ব্লাড ক্যানসারে আক্রান্ত হয়েছিলেন লিসা। তবে এখন তিনি সুস্থ। নিজেকে বলেন, "ক্যানসার গ্র্যাজুয়েট"। তবে সুস্থ হওয়ার পরেও কিন্তু ক্যানসার নিয়ে ভাবা ছেড়ে দেননি এই ক্যানাডিয়ান অভিনেত্রী। বরং ক্যানসার সম্পর্কে বিভিন্ন সচেতনতা মূলক প্রচার করেন লিসা।
সম্প্রতি ক্যানসারে আক্রান্ত হয়েছেন বি টাউনের আরও দুই অভিনেতা। মাস খানেক আগে সোশ্যাল মিডিয়ায় জানা গিয়েছিল নিউরোএন্ডোক্রাইন ক্যান্সারে আক্রান্ত ইরফান খান। আপাতত লন্ডনে চিকিৎসা চলছে তাঁর। প্রিয় অভিনেতার এই জটিল অসুখের কথা শুনে স্বভাবতই ভেঙে পড়েছিলেন তাঁর ফ্যানেরা। চমকে গিয়েছিল গোটা বলিউড। তবে সবাইকে আশ্বাস দিয়েছেন ইরফান। ক'দিন আগেই একগাল হাসি দিয়ে ছবিও শেয়ার করেছেন টুইটারে। ইরফানের কাছের বন্ধু পরিচালক বিশাল ভরদ্বাজ জানিয়েছেন, আজকাল অবসরে গানও গাইছেন তিনি। সব মিলিয়ে ফ্যানদের উদ্দেশে ইরফানের মেসেজ একটাই----তিনি হার মানেননি। লড়াই করছেন। চিকিৎসা চলছে। খানিকটা ওজনও কমে গিয়েছে। কিন্তু তাও তিনি হাসছেন। গান গাইছেন।

ইরফান খানের পর পরই প্রকাশ্যে আসে সোনালি বেন্দ্রের অসুস্থতার খবর। জানা যায় হাই গ্রেড ক্যানসারে আক্রান্ত তিনি। চিকিৎসকরা জানিয়েছেন, রোগ ধরাও পড়েছে বেশ জটিল পর্যায়ে। নিউ ইয়র্কে চিকিৎসা চলছে সোনালির। আচমকাই নিজের এমন অসুখের কথা শুনে প্রথমে খানিকটা হতবাক হয়ে গিয়েছিলেন অভিনেত্রী। তবে এখন তিনি কনফিডেন্ট। পরিবার, ফ্যান আর ছোট্ট ছেলের সাপোর্টে এখন শ্যুটিং ফ্লোরে ফেরার দিন গুনছেন সোনালি।