Date : 14th Apr, 2026 | Call 1800 452 567 | info@thewall.in
‘ভূত বাংলো’য় সেন্সর বোর্ডের কাঁচি! বাদ গেল ৬৩টি দৃশ্য, ছবির দৈর্ঘ্য কমতেই চিন্তায় অক্ষয়ভোটের ডিউটিতে কড়া নিয়ম! প্রিসাইডিং ও সেক্টর অফিসারদের জন্য একগুচ্ছ নির্দেশিকা কমিশনের'বন্ধু' মোদীকে ফোন ট্রাম্পের! ৪০ মিনিট ধরে হরমুজ প্রণালী নিয়ে কী আলোচনা হল?লোকাল ট্রেনের টিকিটে বিরাট ছাড়! ৫ টাকার টিকিট এখন কত পড়বে? জেনে নিন বিস্তারিতTB Vaccine: যক্ষ্মা প্রতিরোধে কতটা সফল নতুন টিকা? ট্রায়ালের রিপোর্টে আশার আলোর পাশাপাশি উদ্বেগের সুর বিজ্ঞানীদের'বাঙালি ব্রিটিশদের সামনে মাথা নত করেনি, আর এই বহিরাগতরা আমাদের কী করবে?' বিজেপিকে তোপ অভিষেকেরসাইলেন্ট লাং ডিজিজ: কাশি মানেই কি ক্যানসার? দূষণে ফুঁসছে ফুসফুস, কখন দরকার ট্রান্সপ্লান্ট?'ইগো সরিয়ে রাখুন', নিজেদের মধ্যে মতভেদ সরিয়ে এক হয়ে লড়ার নির্দেশ অভিষেকেরভাইরাল ভিডিও হাতিয়ার করে শাহের তোপ! হুমায়ুনকে ‘দিদির এজেন্ট’ বলে কটাক্ষ স্বরাষ্ট্রমন্ত্রীরগরমে মেজাজ হারালেন কর্মীরা! চুঁচুড়ায় নিজের দলের লোকেদেরই বিক্ষোভের মুখে দেবাংশু

বছর কুড়ি পর, যে দৃশ্যগুলি দেখে এখনও বলে ওঠা যায়, 'কুছ কুছ হোতা হ্যায়'

দ্য ওয়াল ব্যুরো: দেখতে দেখতে দু'দশক হয়ে গেল! বয়সই হয়েছে, জনপ্রিয়তা হোক বা প্রাসঙ্গিকতা-- কোনওটাই কিন্তু এখনও কমেনি একটুও। বরং নস্ট্যালজিয়ায় জারিত হয়ে সে দিনকেদিন আরও বেশি মিষ্টি, আরও নরম, আরও আবেগী একটি স্বাদ নিয়ে ধরা পড়েছে দর্শকদের চোখে।

বছর কুড়ি পর, যে দৃশ্যগুলি দেখে এখনও বলে ওঠা যায়, 'কুছ কুছ হোতা হ্যায়'

শেষ আপডেট: 16 October 2018 07:50

দ্য ওয়াল ব্যুরো: দেখতে দেখতে দু'দশক হয়ে গেল! বয়সই হয়েছে, জনপ্রিয়তা হোক বা প্রাসঙ্গিকতা-- কোনওটাই কিন্তু এখনও কমেনি একটুও। বরং নস্ট্যালজিয়ায় জারিত হয়ে সে দিনকেদিন আরও বেশি মিষ্টি, আরও নরম, আরও আবেগী একটি স্বাদ নিয়ে ধরা পড়েছে দর্শকদের চোখে। তার নাম, 'কুছ কুছ হোতা হ্যায়।' আক্ষরিক অর্থে একটা সিনেমার নাম হলেও, আজ এই বছর কুড়ি পেরিয়ে মনে হয়, নিছক সিনেমা নয়, 'কুছ কুছ হোতা হ্যায়' যেন একটা আবেগের নাম। সেই সবুজ খেতে রাহুল (শাহরুখ খান) আর টিনার (রানি মুখার্জী) ভালবাসার মাঝে টমবয় অঞ্জলি (কাজল মুখার্জী) যখন প্রথম অনুভব করল প্রেম হারিয়ে যাওয়ার কষ্ট, সে কষ্ট কি আমাদেরও ছুঁয়ে যায় না? বিশেষ করে আমরা যারা নয়ের দশকের কিশোর-কিশোরী, তাদের কাছে এই সিনেমার প্রতিটা পরত যেন নতুন অনুভূতি জাগায়, আজও। তাই তো বহু বছর পরে সামার ক্যাম্পে গিয়ে যখন অঞ্জলির সঙ্গে আবার দেখা হয় রাহুলের, আমরা অপেক্ষা করে থাকি এবার কি তা হলে অঞ্জলি ফিরে পাবে রাহুলকে? কিন্তু মাঝে বেঁধে আমনের (সলমন খান) কাঁটা, যার সঙ্গে অঞ্জলির বিয়ে ঠিক হয়ে গিয়েছে এর মধ্যেই। ক্লাইম্যাক্স আসে। আমন মিলিয়ে দেয় রাহুল-অঞ্জলিকে। আনন্দের অশ্রু দর্শকদের চোখেও। আর এটাই পরিচালক করণ জোহরের কুছ কুছ হোতা হ্যায় ম্যাজিক, যা এত বছরেও এতটুকু পুরনো হয়নি। সিনেমার নির্মাণে হয়তো অনেক ভুল আছে, খামতি আছে। কিন্তু আবেগে কোনও কমতি নেই। বরং এই সিনেমারই বেশ কয়েকটি ধারণা আমাদের জীবনকে ছুঁয়ে রেখেছে, এত বছর পরেও। আমাদের বড় হওয়ার পথে মিশে গিয়েছে সেগুলো। তাদের মধ্যে থেকেই পাঁচটা বাছা রইল। ১. পেয়ার দোস্তি হ্যায় সেই বিখ্যাত সংলাপ। সম্ভবত ভারতীয় সিনেমার ইতিহাসে সব চেয়ে সরল অথচ সব চেয়ে গভীর ভাবে প্রেমকে ব্যাখ্যা করেছে এই বাক্যটাই। বন্ধুত্বের সংজ্ঞা হয়তো এত বছরে বদলেছে অনেকটাই। প্রেমও কি বদলায়নি? কিন্তু প্রেম আৎ বন্ধুত্বের মধ্যে যে চিরন্তন অভিন্নতা, তা কখনওই বদলানোর নয়। আর এই চিরন্তনটুকু কুড়ি বছর আগেই সংলাপে বেঁধে ফেলেছিলেন পরিচালক করণ জোহর। রাহুলকে দিয়ে বলিয়েছিলেন, "ও যদি আমার সব চেয়ে ভাল বন্ধু না হতে পারে, তা হলে ওকে আমি কখনও ভালবাসতে পারব না।" আজও, প্রতিটা মানুষ প্রেমের মধ্যে এই সব চেয়ে ভাল বন্ধুত্বটাকেই খোঁজে। ২. ফ্যাশন ১৯৯৮ সালে যাঁরা তাঁদের টিন-এজে ছিলেন, একটি মানুষও বুকে হাত দিয়ে বলতে পারবেন কি, যে অঞ্জলির হেডব্যান্ড বাঁধা টমবয় লুক দেখে মুগ্ধ হননি? রাহুলের সুপারকুল পোশাক কপি করে, পোলো টিশার্ট পরে, গলায় চেন পরে, টাইট জিন্স পরে কলেজ মাতানোর চেষ্টা করেনি এমন তরুণ সে সময় বিরল। আর টিনার আধুনিক পোশাক-জুতো তো তখন রীতিমতো ট্রেন্ডসেটার, ফ্যাশনপ্রেমীদের কাছে। গোটা একটা সময়ের ফ্যাশন সেন্স যেন নির্মাণ করে দিয়েছিল এই একটি সিনেমা। ৩. ফ্রেন্ডশিপ ব্যান্ড নয়ের দশকের শেষ দিক। পাশ্চাত্য চিন্তাভাবনারা আস্তে আস্তে বেশ জায়গা করে নিচ্ছে রোজকার ছোটছোট যাপনে। কিশোরমনও প্রায়ই মাতছে নতুনত্বে। এমন সময়েই কুছ কুছ হোতা হ্যায়ের হাত ধরে পরিচিত হল ফ্রেন্ডশিপ ব্যান্ড। বন্ধুত্বের নিশান। পরস্পরের হাতের কব্জিতে বেঁধে দেওয়া এই নিশানটুকু শুধু বন্ধুত্বের নয়, একটা সময়েরও প্রতীক। একটা ধারণার প্রতীক। যার জন্মদাতা তৎকালীন কিশোরজগতের হার্টথ্রব, রাহুলই। ৪. তারাখসার ইচ্ছেপূরণ আজ থেকে কুড়ি বছর আগের আকাশ আরও পরিষ্কার ছিল, ছিল আরও দূষণমুক্ত। তারা খসে পড়ার দৃশ্য হামেশাই দেখা যেত তখন। কিন্তু এই তারা খসার সঙ্গে সঙ্গেই যে মনের সুপ্ত ইচ্ছেকে মনে মনে আরও এক বার চেয়ে ফেলতে হয়, আর তা চাইলে পরে যে পূরণ হওয়ার সম্ভাবনাও থাকে, এমনটা জানাল কুছ কুছ হোতা হ্যায়। সিনেমাটি দেখার পর থেকেই যেন একটু বেশি করে চোখ থাকত সন্ধ্যের আকাশে। ৫. বৃষ্টিভেজা প্রেম বৃষ্টিতে ভিজে নায়ক-নায়িকার মিলন এর আগেও ঘটিয়েছে বলিউড। কিন্তু তাতে যেন বারবার নিষিদ্ধেরই হাতছানি পেয়েছেন দর্শকেরা। সেই দৃশ্যেরা যেন পর্দাতেই সুন্দর, বাস্তবে নয়। কিন্তু কুছ কুছ হোতা হ্যায়ের শেষের বৃষ্টি ভেজা ভালবাসার দৃশ্য উড়িয়ে দিল সে পর্দা। বৃষ্টি যেন এখানে আগল ভেঙে যাওয়ার প্রতীক। চোখের জলকে আরও বেশি করে ঝরিয়ে দেওয়ার প্রতীক। সেই অস্থিরতায় প্রতীক্ষিত মিলন যেন মলমের মতো। এ দৃশ্য আর পাঁচটা যৌনগন্ধী বৃষ্টি-প্রেম থেকে বহু দূরে নিয়ে এসে একা একা কাঁদায় দর্শককে। কুড়ি বছর পরেও। সমালোচকদের চোখে এই সিনেমা ভুলে ভরা। সিনেমার দৃশ্যে দৃশ্যে রয়েছে নানা অসঙ্গতি। গুগল করলেই খুঁজে পাওয়া যায় তাদের। কিন্তু কুছ কুছ হোতা হ্যায়ের আবেগে ভাসা দর্শকদের কাছে এ যেন 'বিউটি অফ ইনপারফেকশন'।

```