গোয়ার IFFI-উৎসবের ব্যস্ততম প্রাঙ্গণে এ বছর যেন এক ভিন্ন আবহ। আলো, ক্যামেরা আর দর্শকের উচ্ছ্বাসের ভিড়ে দাঁড়িয়ে রয়েছে ধুলোপড়া ইতিহাস—১৯৪২ সালের BSA WM20 মোটরসাইকেল।

দাঁড়িয়ে সেই বাইক।
শেষ আপডেট: 25 November 2025 18:25
দ্য ওয়াল ব্যুরো: গোয়ার IFFI-উৎসবের ব্যস্ততম প্রাঙ্গণে এ বছর যেন এক ভিন্ন আবহ। আলো, ক্যামেরা আর দর্শকের উচ্ছ্বাসের ভিড়ে দাঁড়িয়ে রয়েছে ধুলোপড়া ইতিহাস—১৯৪২ সালের BSA WM20 মোটরসাইকেল। সেই বাইকই, যার সাইডকারে বসে জয়-বীরু ‘ইয়ে দোস্তি’ গেয়েছিল, আর ভারতীয় সিনেমায় বন্ধুত্বের নতুন সংজ্ঞা লিখেছিল ‘শোলে’।
কিন্তু এবার সেই বাইকের সামনে দাঁড়িয়ে মানুষ উৎসবের আনন্দ নয়, খুঁজে পেয়েছেন গভীর এক বেদনা। কারণ, ‘হি-ম্যান’ ধর্মেন্দ্র আর নেই। আর সেই মুহূর্তেই এই পুরনো প্রপ যেন নিজে থেকেই এক নীরব স্মৃতিস্তম্ভে পরিণত হয়েছে।
গ্লাসকেসে সযত্নে সাজানো বাইকটির সামনে দর্শকদের ভিড়। কেউ ফোন তুলে ছবি তুলছেন, কেউ থমকে দাঁড়িয়ে চুপ করে তাকিয়ে রয়েছেন, যেন সিনেমার দৃশ্য নয়, নিজের শৈশবকে দেখছে।
যে দিন শোলে ৫০ বছর পূর্ণ হওয়ায় উৎসব রঙে রঙিন হওয়ার কথা ছিল, সেই দিনই ধর্মেন্দ্রর প্রয়াণ আনন্দকে বিষাদে রূপ দিয়েছিল। নস্টালজিয়া থেকে মুহূর্তে নেমে এসেছে শোকের ঘন মেঘ। কোনও বিশেষ শ্রদ্ধানুষ্ঠান ছিল না। তবু বাইকটি নিজেই হয়ে উঠেছে সম্মান জানানোর এক অদৃশ্য আসন। দর্শকরা এসে থামছেন, দেখছেন, আর মনে মনে বলছেন, ‘শোলে-র সেই বন্ধুত্ব, সেই হাসিমাখা বীরু কি সত্যিই চলে গেলেন?’
এক দর্শক ANI-কে বলেছিলেন, “এই বাইকটা দেখেই শিশুকাল মনে পড়ে গেল। শোলে দেখেছিলাম খুব ছোটবেলায়। কিন্তু ধর্মেন্দ্রজির খবর শোনার পর আনন্দটাই হঠাৎ ভারি হয়ে গেল। এক মহান তারকাকে হারালাম।” আরেকজন চোখ ভেজা কণ্ঠে বললেন,“এটা কেবল দুঃখ নয়… যেন এক যুগের পতন। ধর্মেন্দ্র মানেই তো এক সময়, এক অনুভূতি।”
বাইকটির রেজিস্ট্রেশন নম্বর MYB3047—যা বছরের পর বছর অক্ষত, অবিকৃত। হাতে নেওয়া যায় না, ছোঁয়াও নিষেধ। এতদিন সে ছিল শুধুই এক জনপ্রিয় প্রপ, কিন্তু আজ তা যেন সময়ের বাক্সবন্দি এক ফেলে আসা যুগ। আর ধর্মেন্দ্র না থাকায় বাইকটির নীরবতা যেন আরও গভীর, আরও বিষণ্ণ।
‘শোলে’, গত অগাস্টে ৫০ বছরে পা রেখেছে, ভারতীয় চলচ্চিত্রের ইতিহাসে এক অটুট দিগন্ত। অমিতাভ বচ্চনের ‘জয়’ আর ধর্মেন্দ্রর ‘বীরু’র বন্ধুত্ব পর্দা পেরিয়ে পৌঁছে গিয়েছিল দর্শকের শিরায়—সেই সম্পর্ক আজও অমলিন। আজ সেই চেনা বাইক আর নিছক প্রদর্শনীর একটা অংশ নয়। এটি শোক, স্মৃতি, ভালোবাসা আর অনুপস্থিতির ভারী নীরবতার প্রতীক। ধর্মেন্দ্রর প্রতি এক অঘোষিত শ্রদ্ধাঞ্জলি।