
শেষ আপডেট: 4 July 2022 10:07
তরুণ মজুমদার (Tarun Majumdar) নেই। এই কথাটা ভাবতেও খুব কষ্ট হচ্ছে। কারণ উনি ছিলেন একটা ইনস্টিটিউশন। অনেক বড় মাপের কাজ উনি দিয়ে গিয়েছেন আমাদের সবাইকে। ওঁর কীর্তিতে, ওঁর সৃষ্টিতে, ওঁর মননে আমরা সমৃদ্ধ। সারা ভারতীয় সিনেমাকে উনি এক অন্য নিদর্শন দিয়ে গিয়েছেন ছবির।
সিনেমাকে কী ভাবে নতুন করে আবিষ্কার করতে হয়, সম্পর্ককে কী ভাবে নতুন নিরিখে দেখতে হয়, পারিবারিক গভীরতা কতটা, প্রেমকে কী ভাবে স্পর্শ করতে হয়, আমার মনে হয় ওঁর মত দৃষ্টিভঙ্গি খুব কম মানুষেরই আছে।

খুব দৃঢ়চেতা মানুষ ছিলেন তিনি। আমি খুব কাছ থেকে ওঁকে দেখেছি। আমি খুব প্রিভিলেজড এবং ব্লেসড, কারণ ওঁর সঙ্গে আমার তিন-তিনটে ছবি হয়েছে, যেগুলো প্রতিটি মানুষের মনের মধ্যে ছাপ ফেলে গিয়েছে। ‘আলো’ ছবিটি তো একটা নজির রেখে গিয়েছে বাংলা সিনেমায়।
‘আলো’ বাংলা সিনেমাই একটা নতুন দিক সৃষ্টি করেছে, ল্যান্ডমার্ক হয়ে রয়েছে। অনেকেই আমাকে জিজ্ঞাসা করেন আরেকটা আলো হয় না? তারপর অসম্ভব সুন্দর, অনেক ভাল ভাল শিল্পীদের নিয়ে বানিয়েছিলেন ‘চাঁদের বাড়ি’, যেখানে আমিও ছিলাম। পারিবারিক বন্ধন ও প্রেম কীভাবে মূল্যায়ন করতে হয়, তাঁর থেকে ভাল বোধহয় কেউ জানতেন না। সঙ্গীতের ব্যবহারও তিনি একেবারেই অন্য ভাবে করেছেন। রবিঠাকুরের গানকে তিনি তাঁর ছবিতে অন্য মাত্রা দিয়েছেন। তার পর ওঁর সঙ্গে কাজ করেছিলাম, ‘ভালবাসার বাড়ি’তে। একটা ভরা সংসার। তার ভিতরের গল্প অসাধারণ।

এ ছাড়াও তরুণ মজুমদারের বানানো আমার কিছু প্রিয় ছবি আছে। যেমন, ‘দাদার কীর্তি’, ‘পলাতক’, ‘ভালবাসা ভালবাসা’। উনি একজন অন্য মাপের পরিচালক। কত রকম বিষয় নিয়ে উনি কাজ করেছেন, কত রকম বিষয় সবাইকে দেখিয়েছেন।

আমি অন্তর থেকে দুঃখিত, মর্মাহত। আজ অনেক দূরে আছি, বিদেশে। তাই ছুটে যেতে পারলাম না। কিন্তু আমার মন ছুটে গিয়েছে তাঁর কাছে। তাঁকে প্রনাম করে বলতে চাই, তুমি আবার ফিরে এসো, নতুন কিছু সৃষ্টি করো। You are our pride, You are our master।
পেনসিল, ব্লাউজ, মিষ্টি— তরুণ মজুমদারকে নিয়ে কত গল্প! স্মৃতির ঝুলি খুললেন তারকারা