
শেষ আপডেট: 6 May 2022 09:04
দ্য ওয়াল ব্যুরো: টি সিরিজের (T-Series) মিউজিকই এখন বলিউডে শেষ কথা। শুধু মিউজক নয়, বলিউডের প্রোডাকশনেও এখন এই কোম্পানির রমরমা। একাধিক সুপারহিট ছবির জন্ম দিয়েছে টি সিরিজ প্রোডাকশন হাউজ। তবে বলিপাড়ায় (bollywood) টি সিরিজের এই সাম্রাজ্য একদিনে তৈরি হয়নি। তার পিছনে জড়িয়ে আছে দিল্লির এক ভাগ্যান্বেষী তরুণের মাথার ঘাম পায়ে ফেলা পরিশ্রম। তিনি গুলশান কুমার (Gulshan Kumar)।

আরও পড়ুন: 'ভাঙা বোতল মেরে মুখ ঘুরিয়ে দেব!' অ্যাম্বারকে হুমকি দিয়েছিলেন জনি ডেপ
১৯৮৩ সালে গুলশান তখন ২৭ বছরের তরুণ। দিল্লির রাস্তায় তাঁর বাবা ফল বিক্রি করতেন। কখনও গুলশানও হাত লাগাতেন সেই কাজে। সেই রোজগারেই চলত সংসার। পরে ব্যবসায় খানিক উন্নতি করে ফলের রসের একটি দোকান খোলেন তিনি। গুলশান রাজধানীর রাস্তায় নিজের ভাগ্যের সন্ধানে ঘুরতেন। ১৯৮৩ সালে তৈরি হয় ইতিহাস। সুপার ক্যাসেটস ইন্ডাস্ট্রিজ প্রাইভেট লিমিটেড নামের একটি ছোটখাটো মিউজিক রেকর্ডিং কোম্পানি (T-Series) রাজধানীর রাজপথে গুটিগুটি পায়ে শুরু করে পথ চলা।

আশির দশকে হিন্দি রোমান্টিক গানের প্রতি মানুষের টান মনে মনে অনুভব করতে পেরেছিলেন গুলশান কুমার। কপিরাইট আইনের ফাঁকফোকরগুলো গুলে খেয়েছিলেন। পাইরেটেড মিউজিক দিয়েই ধীরে ধীরে জমে উঠছিল ব্যবসা। চুরি করা গানের ক্যাসেট বের করে সাফল্য পাচ্ছিলেন তিনি। তবে সুপার ক্যাসেটস প্রথম বড় সাফল্য পেল ১৯৮৮ সালে ‘কেয়ামত সে কেয়ামত তাক’ ছবির হাত ধরে (T-Series)। ওই ছবির মিউজিক অ্যালবাম গুলশানের কোম্পানিকে এক ধাক্কায় এগিয়ে দিল অনেকটা।
আরও পড়ুন: ডায়াপার থেকে র্যাশ হচ্ছে আপনার ছোট্ট সোনার? কী করবেন কী করবেন না

তবে এক জায়গায় বেশিদিন আটকে থাকার লোক ছিলেন না গুলশান। আশির দশকেই তিনি ব্যবসা বাড়ানোর দিকে ঝোঁকেন। ছোটখাটো টিভি ফিল্ম প্রযোজনা করে টি সিরিজ (T-Series)। গুলশান কুমারের সঙ্গে এই সময় হাত মেলান তাঁর ভাই কৃষাণ কুমারও। দুই ভাইয়ে মিলে বড় সাফল্য পান ‘আশিকি’ ছবিতে। তারপর আর পিছন ফিরে তাকাতে হয়নি। অডিও ক্যাসেট থেকে ভিডিও ক্যাসেটের ব্যবসাতেও নজর দিতে শুরু করেন গুলশান।

শুধু মিউজিক আর ফিল্ম প্রোডাকশনই নয়। নব্বইয়ের দশকে সাবান থেকে শুরু করে ডিটারজেন্ট, ইলেকট্রনিক্স নানা ব্যবসায় টাকা ঢেলেছিলেন এই গুলশান কুমার। সমাজকর্মী হিসেবেও পরিচিতি ছিল তাঁর। বৈষ্ণো দেবী মন্দিরে লঙ্গরখানা চালাতেন গুলশান, অভুক্তরা খেতে পেতেন সেখানে। তাঁর মৃত্যুর পরেও সেই লঙ্গরখানা বন্ধ হয়নি। সেটি এখন চালান গুলশানের ছেলে ভূষণ কুমার।
একসময় টি সিরিজের ক্যাসেটের দাম ছিল ১৬ টাকা। পরে আরও অনেক মিউজিক রেকর্ডিং কোম্পানি এসেছে, তারা তাদের ক্যাসেট বিক্রি করেছে চড়া দামে। টি সিরিজ কিন্তু নিজেদের প্রোডাক্টের দাম বরাবর রেখেছে সাধারণের সাধ্যের মধ্যেই।

গুলশান কুমারের টি সিরিজের হাত ধরেই বলিউডে মাথা তুলেছেন উদিত নারায়ণ, অলকা ইয়াগ্নিক, সোনু নিগম, কুমার শানুর মতো শিল্পীরা। নদিম শ্রাবণ, যতীন ললিতের মতো মিউজিক কম্পোজাররাও টি সিরিজের দৌলতেই ইন্ডাস্ট্রিতে প্রতিষ্ঠা পান।

তবে মুম্বইয়ে গুলশানের এই রকেটগতির উত্থান আচমকাই থমকে গিয়েছিল। ১৯৯৭ সালে মাত্র ৪১ বছর বয়সে মারা যান তিনি। সেই মৃত্যুও ছিল ভয়াবহ। প্রকাশ্য রাস্তায় গুলশানকে ১৬ রাউন্ড গুলিতে ঝাঁঝরা করে দিয়েছিল দুষ্কৃতীরা। বলিউডে টি সিরিজের একটা প্রজন্ম এভাবেই থেমে গিয়েছিল। গুলশানের পর তাঁর ছেলে ভূষণ এই কোম্পানিটিকে আরও এগিয়ে নিয়ে গিয়েছেন।