
শেষ আপডেট: 3 September 2021 06:56
আগামী ৫ নভেম্বর রিলিজ হচ্ছে 'আব্বা'র নতুন অ্যালবাম 'ভোয়াজ' যার অর্থ সমুদ্র যাত্রা। নামটাও যে তাৎপর্যপূর্ণ, তা বলার অপেক্ষা রাখে না। জীবন সায়াহ্নে এসে স্পষ্টতই নতুন করে যাত্রা শুরু করলেন চার সুইডিশ পপ তারকা। তাঁদের পথ যে একসঙ্গেই বাঁধা ছিল। অ্যাগ্নেথা ফলষ্টক, বেনি অ্যান্ডারসন, বর্ন উলভেয়াস আর অ্যানি ফ্রিড লিংস্ট্যাড, সেই চারজনকে নিয়েই ছিল 'আব্বা'। ফলষ্টক, উলভেয়াস আর লিংস্ট্যাড, অ্যান্ডারসন দুই বিবাহিত দম্পতি ছিলেন। কিন্তু উন্নতির শিখরে পৌঁছেই দুখানা সম্পর্কে জটিলতা দেখা দিয়েছিল। যার প্রভাব পড়েছিল আব্বার গানে। গানের কথা আর সুরেও এসে পড়েছিল আঁধার ঘেরা টানা পোড়েন। শেষমেশ দুটি সম্পর্কই ভেঙে যায়। আব্বার যাত্রাও শ্লথ হয়ে পড়ে। তারপর চারবন্ধু কে কোথায় চলে গেছিলেন নিজেরাই টের পাননি। দীর্ঘ ৪০ বছর পর অনুভব করলেন তাঁরা ফুরিয়ে যাননি। একসঙ্গে হয়ে গান বাঁধলেন ফের।
আরও পড়ুনঃ মেয়েলি পুরুষদের টিভিতে দেখানো যাবে না, চিনে কমিউনিস্ট পার্টির নয়া ফতোয়া
৭০-এর দশকে যখন ইংরিজি ব্যান্ডগুলোরই রমরমা তখন স্টকহোমে একটু একটু করে বড় হচ্ছিল 'আব্বা'। তিরিশ ছুঁই ছুঁই চার বন্ধু মিলে স্টকহোম মাতিয়ে চলেছেন ততদিনে। যার খবর ছড়িয়ে পড়ে বাইরেও। ১৯৭৪ সালে ঝড় তুলল আব্বার প্রথম অ্যালবাম 'ওয়াটার লু'। সেই প্রথম ইংরিজি ছাড়া অন্য কোনও ভাষার পপ মিউজিক ব্যান্ড বিশ্ব জুড়ে জনপ্রিয়তা অর্জন করল। ১৯৯৯ সালে পৃথিবীতে আলোড়ন ফেলে দিল "মামা মিয়া!", তারপর আর ফিরে তাকাতে হয়নি 'আব্বা'কে। ইংল্যান্ডে সেই নামে একটা সিনেমাও হয়ে যায়। কিন্তু তারপরই অভ্যন্তরীণ ভাঙনে ক্রমশ হারিয়ে যেতে থাকে 'আব্বা '। ৩৫ বছর পর ২০১৮ সালে 'মামা মিয়া'র একটা সিক্যুয়েল রিলিজ হয়। তারপর আবার সব চুপচাপ। তবে, এবার ফের হাতে হাত রাখলেন সদস্যরা। ২০২১ এর নভেম্বরে তাঁদের প্রত্যাবর্তনের জন্য অধীর আগ্রহে অপেক্ষা করছেন ভক্তরা।
https://www.youtube.com/watch?v=unfzfe8f9NI
সুইডেনের বাড়িতে বসে পিয়ানোয় সুর তুলে অ্যান্ডারসন বললেন, "অথৈ সাগরের জল থেকে যেন উঠে বসলাম। আমাদের ছেলেবেলার মনগুলোই দাঁড় বইয়ে পাড়ে নিয়ে যাবে"।
প্রায় বৃদ্ধ হয়ে গেছেন সকলেই, তবু পরস্পরের কণ্ঠ শুনে চোখে জল এসে যায় বন্ধুদের। একসঙ্গে হতে পেরে আব্বারা এখন যার পর নয় সুখী।
https://www.youtube.com/watch?v=LA4kZLEhfcM
তাঁরাই ছিলেন বিশ্বের প্রথম নন ইংলিশ হিট ব্যান্ড। সারা পৃথিবীতে ১৫০ মিলিয়নের বেশি রেকর্ড বিক্রি হয়েছে 'আব্বা'র। ২০১২ সালে বেস্ট সেলিং সিঙ্গলসের মধ্যেও 'আব্বা ' ছিল অষ্টম। আশ্চর্যের কথা, সবচেয়ে বেশি বাজার ছিল ইংরেজি ভাষী দেশগুলোতেই। তাঁরাই জনপ্রিয় করেছিলেন 'আব্বা'কে। এমন সাফল্যের পরও ভাগ্যের ফেরে তলিয়ে গিয়েছিল সেই পপ ব্যান্ড। সাগরের নীচে তাঁদের কানে কানে মন্ত্র দিয়ে কে আবার ঘুম ভাঙিয়েছেন
তা জানা যায়নি, তবে জাহাজ প্রস্তুত। ঝড় ঝঞ্ঝা যাই আসুক এবার আর সহজে মাস্তুল ভাঙবে না 'আব্বা'র। বহুকাল পর একসঙ্গে বসে সেই ইঙ্গিতই দিলেন চার বন্ধু।
পড়ুন দ্য ওয়ালের সাহিত্য পত্রিকা 'সুখপাঠ'