
স্বরূপ-অনির্বাণ-পরমব্রত
শেষ আপডেট: 1 May 2025 19:15
ঠিক ছিল পয়লা মে শ্রমিক দিবসে হবে মেগা মিটিং। মোট ২৮টি গিল্ডের সদস্যরা থাকবেন সেই মিটিংয়ে। এবং তাই হলও। টালিগঞ্জের কলাকুশলীদের সংগঠন ‘ফেডারেশন অফ সিনে টেকনিশিয়ান ওয়ার্কার্স অফ ইস্টার্ন ইন্ডিয়া’র অন্তর্ভুক্ত সমস্ত গিল্ড এবং সদস্যরা ছিলেন উপস্থিত।
টেকনিশিয়ান স্টুডিয়োর মেগে মিটিং-এর উদ্দেশ্য সিনেমা কর্মীদের পরিস্থিতি আরও সচ্ছল করতে। তাদের কাজের অধিকার, তাদের রুটি-রুজির স্বার্থে, শ্রমিকের স্বার্থ রক্ষার্থে, তাঁদের কাজ করার পরিস্থিতি আর উন্নত করতে এই আলোচনা।
অন্যদিকে ১লা মের ঠিক আগের রাত অর্থাৎ ৩০ এপ্রিল, সাড়ে ১৫ মিনিটের একটি ভিডিও আপলোড করেন DAEI গিল্ড সম্পাদক-পরিচালক সুদেষ্ণা রায়। তাতে দেখা যায় অনির্বাণ, পরমব্রত, ইন্দ্রনীল রায়চৌধুরি, বিদুলা ভট্টাচার্য, কিংশুক দে, এবং সুদেষ্ণা রায়কে।
ফেডারেশনের বিরুদ্ধে একাধিক অভিযোগ উঠে আসে সেই ভিডিওতে। কেউ বলেন, ‘টেকনিশিয়ানরা হুমকির’ মধ্যে পড়ছেন। ফেডারেশনের ‘গা জোয়ারি’তে ক্ষতি হচ্ছে টেকনিশিয়ানদের। তাঁদের কাজ করার থেকে ‘আটকানো’ হচ্ছে। কিন্তু এত কিছু ঘটে যাওয়ার পড়েও ‘তাঁরা’ অর্থাৎ ডিরেক্টর্স অ্যাস্যোসিয়েশন অফ ইস্টার্ন ইন্ডিয়া চেয়েছিল, আলোচনা হোক, সমাধান হোক। কিন্তু তাঁদের দাবি ফেডারেশন সে আলোচনায় বসতে চায়নি। প্রসঙ্গত, পরিচালক সুদেষ্ণা রায় কিছুদিন আগে শুটিংয়ে বাধার মুখে পড়েন। উত্তর কলকাতার একটি বাড়ি থেকে ফেসবুক লাইভে এসে সুদেষ্ণা জানান, তাঁর নতুন ছবির শুটিং নির্ধারিত দিনে শুরু করা সম্ভব হয়নি।
অভিযোগ, ২০ বছর ধরে সঙ্গে থাকা প্রোডাকশন ম্যানেজার শুটিং শুরুর মাত্র ছ’দিন আগে হঠাৎ করে কাজ ছেড়ে দেন। বিষয়টি সঙ্গে সঙ্গেই তিনি সেই প্রোডাকশন ম্যানেজার যে গিল্ডের সদস্য, সেই গিল্ড ও ফেডারেশনকে ইমেল করে জানান। কিন্তু তাতেও কোনও সুরাহা হয়নি। এরপর একে একে আরও কয়েকজন টেকনিশিয়ানও ছবিটি থেকে নিজেদের সরিয়ে নেন।
১লা মের মেগা মিটিংয়ের পর দ্য ওয়াল-এর মুখোমুখি ফেডারেশন সভাপতি স্বরূপ বিশ্বাস। প্রথমেই তাঁকে প্রশ্ন করা হয়, গতকাল অর্থাৎ ৩০ এপ্রিলের পরিচালকদের সম্মলিত সেই ভিডিওটি তিনি কি দেখেছেন?
সম্মতি জানিয়ে তিনি বলেন , ‘হ্যাঁ’ তাঁকে জিজ্ঞেস করা হয় আজ টেকনিশিয়ানদের সঙ্গে মেগা মিটিংয়ের আগে এমন ভিডিও পোস্ট করা হল, কেন মনে হয়? ‘ইচ্ছাকৃত কি না বলতে পারব না। সুপরিকল্পিত। তাঁরা বুঝতে পেরেছেন আমাদের সাড়ে ছ’হাজার কর্মীরা সম্মিলিতভাবে ফেডারেশনের বিরুদ্ধে যে চক্রান্ত, হচ্ছে তার বিরোধিতায় সোচ্চার হবে। তার জন্যই এই বার্তা। এই বার্তা আরও সংঘবদ্ধ করল আমাদের।’
সভাপতি এখানেই থামেননি, বললেন, ‘কেন তাঁরা হাইকোর্টে গিয়েছেন, সে কথা তারা কেউই বলেননি। শুধু বলেছেন কলাকুশলীরা কিছু বোঝেন না, তাঁদের বঞ্চিত করা হচ্ছে, এসব। তারা হাইকোর্টের নির্দেশ বোঝাচ্ছেন, কিন্তু আসল কথা কিছুই বললেন না। আসলে তাঁরা চান কলাকুশলীদের ক্ষমতা কেড়ে নিতে, চাইছে তাঁরা দাসত্ব করবেন।’