দ্য ওয়াল ব্যুরো: ১৪ জুন মুম্বইয়ে বান্দ্রার ফ্ল্যাটে মেলে অভিনেতা সুশান্ত সিং রাজপুতের দেহ। আর তার ঠিক আগের দিন ১৩ জুন তিন পোষ্য অমর, আকবর ও অ্যান্টনির জন্য কেয়ারটেকারের অ্যাকাউন্টে টাকা ট্রান্সফার করেন অভিনেতা। এমনটাই জানিয়েছেন সুশান্তের লোনাভালা ফার্ম হাউজের কেয়ারটেকার রইস।
আরও পড়ুন
কুকুরের প্রতি সুশান্তর ভালবাসার কথা সকলেরই জানা। তাঁর তিনটি রটউইলার প্রজাতির পোষ্য ছিল। এদের খুবই ভালবাসতেন তিনি। বলিউডের বিখ্যাত সিনেমার সঙ্গে মিলিয়ে তিনজনের নাম রেখেছিলেন অমর-আকবর-অ্যান্টনি। তবে সুশান্তের সবচেয়ে কাছের সারমেয়টি ছিল ফাজ। অভিনেতার মৃত্যুর পরে ফাজ সম্পর্কে অনেক কিছুই জানা যায়। সুশান্ত আর ফাজ যেন একে অপরের বন্ধু ছিল। বন্ধু বিয়োগের পরে ফাজের আচরণ আলোচ্য হয়ে ওঠে সোশ্যাল মিডিয়ায়। সামনে আসে তার শোককাতর ভিডিও।
এবার অন্য তিন পোষ্যের কথা সামনে এল। সুশান্তের লোনাভালা ফার্ম হাউজের কেয়ারটেকার রইস সংবাদসংস্থা আইএএনএস-কে জানিয়েছেন, "১৪ জুন দুপুরে আমি টিভির খবর দেখে প্রথম জানতে পারি যে সুশান্ত স্যার আত্মহত্যা করেছেন। আমি প্রথমে বিশ্বাসই করতে পারিনি যে আমি যেটা দেখছি সেটা সত্যি। ঠিক তার আগের দিন আমার ব্যাঙ্ক অ্যাকাউন্টে তিনি অমর, আকবর, অ্যান্টনির জন্য টাকা জমা করেন।" তিনি আরও জানিয়েছেন যে, সুশান্ত এই ফার্ম হাউজে জৈব চাষের পরিকল্পনাও করেছিলেন।
রইস জানিয়েছেন, মাঝে মাঝেই ফার্ম হাউজে চলে আসতেন সুশান্ত। তবে শেষ দিকে কয়েক মাস আসেননি। রইসের কথায়, "২০১৯ সালের অক্টোবরে ইউরোপ ভ্রমণের পর থেকেই উনি ভাল ছিলেন না। প্রায় দু'মাস তিনি ফার্ম হাউজেও আসেননি। " রইসের কথা মতো লোনাভালার ফার্ম হাউজটি সুশান্ত ভাড়ায় নেন ২০১৮ সালে। এর পরে এক বছরের মাথায় চুক্তি নবীকরণের সময়ে তিনি এটি কিনে নিতে চান। তিনি এখানে পাকাপাকি ভাবে চলে আসতে চেয়েছিলেন। সেই মতো প্রস্তুতিও চলছিল। তবে এই ফার্ম হাউজের চুক্তির মেয়াদ গত মে মাসে শেষ হয়ে গিয়েছে। রইস জানিয়েছেন, "সুশান্ত স্যার জুন ও জুলাই মাসের টাকা অগ্রিম পাঠিয়ে দিয়েছিলেন।"
এই ফার্ম হাউজে সুশান্ত শেষ কবে এসেছিলেন? কেয়ারটেকার রইস জানিয়েছেন, মার্চ মাসের পরেই সুশান্ত দু-তিন মাস এখানে থাকার পরিকল্পনা করেছিলেন। কিন্তু শেষ পর্যন্ত তা আর হয়নি। রইস বলেন, "বিশেষ অনুষ্ঠানে আসতেন। রিয়া এবং তাঁর বাবার জন্মদিন পালন হয়েছে এই ফার্ম হাউজে। গত জানুয়ারি আর ফেব্রুয়ারিতে সুশান্ত স্যার এসেছিলেন। জানুয়ারিতে রিয়াকে নিয়ে এসেছিলেন জন্মদিনের অনুষ্ঠান করতে। সেই সময়ে সঙ্গে আসেন স্যামুয়েল মিরান্ডা, শ্রুতি মোদী ও আরও কিছু বন্ধু। এর পরে সুশান্ত স্যার আবার আসেন ফেব্রুয়ারির শেষ সপ্তাহে। সেই সময়ে তাঁর সঙ্গে এসেছিলেন দীপেশ সাবন্ত, সিদ্ধার্থ পিঠানি, নীরজ এবং কেশব নামে এক রাঁধুনি। মার্চে ফের আসার কথা থাকলেও তা বাতিল হয়ে যায়।"
রইস আরও জানিয়েছেন, জানুয়ারিতে তিনি যখন এসেছিলেন তখন সবাই মিলে পাভানা নামে একটা দ্বীপে ঘুরতে যান। সেই সময়ে শ্রুতির পা ভেঙে যায়। প্রথমে লোনাভালার এক হাসপাতালে নিয়ে যাওয়া হয়। সেই দিনই পরে মুম্বইতে চলে যান।
এখন লোনাভেলার ফার্ম হাউজ ফাঁকা। অমর, আকবর, অ্যান্টনিকে নিয়ে রয়েছেন রইস। জানিয়েছেন, এখন অপেক্ষা, এই তিন জনকে যদি কেউ দত্তক নেয়।