
শেষ আপডেট: 7 June 2022 14:15
দ্য ওয়াল ব্যুরো: দেশভাগের সময় পাকিস্তানের ভিটেমাটি ছেড়ে ভারতে চলে এসেছিলেন সুনীল দত্ত (Sunil Dutt)। পরে এদেশের ফিল্ম ইন্ডাস্ট্রিতে গড়ে তোলেন ঝকঝকে কেরিয়ার। সুনীল দত্তের ছেলে সঞ্জয় দত্তও বাবার পথেই হেঁটেছেন। পাকিস্তান থেকে এদেশে চলে আসার সময়কার (Partition) অজানা গল্প একবার সংবাদমাধ্যমের সঙ্গে ভাগ করে নিয়েছিলেন সুনীল দত্ত।

আরও পড়ুন: রণবীরের ‘চিটিং’, হৃতিকের তোতলামি! বলিউড সুপারস্টারদের সাংঘাতিক সব স্বীকারোক্তি
তিনি জানিয়েছিলেন কাঁটাতার পেরিয়ে এপারে চলে আসার সময় পাকিস্তানের এক মুসলিম বন্ধু তাঁদের খুব সাহায্য করেছিলেন। পরে আবার যখন তাঁরা সে দেশে গিয়েছিলেন, তখনও সেখানকার মানুষ তাঁদের (Sunil Dutt) খুব আদরযত্ন করেছেন।
সুনীল দত্তর (Sunil Dutt) ছোটবেলার নাম ছিল বালরাজ দত্ত। তাঁর বাবা দেওয়ান রঘুনাথ দত্তের বন্ধু ছিলেন ইয়াকুব। পাকিস্তানের পাঞ্জাব প্রদেশের খুরদ গ্রামে থাকতেন সুনীলরা। তাঁদের গ্রাম থেকে মাত্র কয়েক কিলোমিটার দূরেই থাকতেন ইয়াকুব। দেশভাগের অস্থির পরিস্থিতিতে দেবদূতের মতো হাজির হয়েছিলেন তিনি। সুনীলদের গোটা পরিবারকে পাকিস্তান ছেড়ে পালিয়ে যেতে সাহায্য করেছিলেন। সুনীল দত্তের বয়স তখন ছিল মাত্র ১৮।

পুরনো একটি ইন্টারভিউতে ছোটবেলার সেসব দিনের স্মৃতি হাতড়েছিলেন সঞ্জয় দত্তের বাবা (Sunil Dutt)। সঙ্গে এও জানিয়েছিলেন, দেশ ছেড়ে চলে আসার অনেক বছর পর আবার পাকিস্তানে পা রেখেছিলেন তিনি। পাকিস্তানের মানুষজন তাঁকে সাদরে অভ্যর্থনা জানিয়েছিলেন। তাঁর নামের বড় বড় ব্যানার নিয়ে দূরদূরান্ত থেকে সুনীল দত্তের সঙ্গে দেখা করতে এসেছিলেন সেখানকার লোকজন।
শুধু তাই নয়, পাকিস্তানে সুনীল দত্তরা জমিদার ছিলেন। তাই তাঁদের জমি দেখিয়ে স্থানীয়রা পুরনো কথা মনে করিয়ে দিচ্ছিলেন। সকলে মিলে দারুণ আদর আপ্যায়ন করেছিলেন তাঁকে।

আরও পড়ুন: ভুঁড়ি বেলুনের মতো ফুলে উঠছে? কী কী কারণে বাড়ছে জানেন তো
পাকিস্তানের সেসব বাসিন্দাকে জিজ্ঞেস করা হয়েছিল কেন সুনীল দত্তকে নিয়ে এত মাতামাতি করা হচ্ছে? তাঁরা সকলেই একসঙ্গে জানিয়েছিলেন, যখন দত্ত পরিবার এদেশে থাকত, তখন তাঁরাও এখানকার মানুষদের অত্যন্ত শ্রদ্ধা করতেন। দরগার সামনে দিয়ে কখনও যেতে হলে ঘোড়া থেকে নেমে হেঁটে তাঁরা ওই পথটুকু পেরোতেন। মুসলিমদের প্রতি যথেষ্ট শ্রদ্ধাশীল ছিলেন তাঁরা। তাই এখন যখন দত্তদের বাড়ির ছেলে এতদিন পর দেশে এসেছে, তাঁকেও সমান আদর-যত্ন করছেন তাঁরা।

সুনীল দত্তের বয়স যখন মাত্র ৫ বছর, তখন তাঁর বাবা মারা গিয়েছিলেন। সেই থেকে তাঁর পরিবারের পাশে থেকেছেন বাবার বন্ধু ইয়াকুব। দেশভাগের সময় পাকিস্তানে খুব সমস্যায় পড়েছিলেন। তখন মূল শহর ঝিলাম ছাড়তে তাঁদের সাহায্য করেছিলেন তিনিই।