
শেষ আপডেট: 28 April 2022 14:08
দ্য ওয়াল ব্যুরো: 'দোহাই তোদের, একটুকু চুপ কর, ভালোবাসিবারে দে আমায় অবসর!'
এই প্রচণ্ড গরমে সোশ্যাল মিডিয়া যেন আরও 'হট' হয়ে উঠল। সৌজন্যে 'শ্রীময়ী'র বর অনিন্দ্য সেনগুপ্ত (Sudip Mukherjee)। মিঠে রোদ মেখে দ্বিতীয় বউয়ের সঙ্গে অন্তরঙ্গ মুহূর্তে সামিল হলেন তিনি। কোনও গোপন ভালবাসা-বাসি নয়, একেবারে প্রকাশ্যেই অনিন্দ্যর ঠোঁট বউয়ের গালে।
না না, জুন আন্টির সঙ্গে নয়। পর্দায় যতই ভিলেন হন অনিন্দ্য, বাস্তবের অনিন্দ্য তথা সুদীপ স্বামী হিসেবে এক্কেবারে 'পত্নীনিষ্ঠ ভদ্রলোক'। সুদীপ মুখোপাধ্যায় ও তাঁর স্ত্রী পৃথা দু'জনেই ইনস্টাগ্রাম ভরিয়েছেন দু'জনের অন্তরঙ্গ ছবি পোষ্ট করে। সুদীপের চোখের ভাষা যেন বলছে 'আরও কাছাকাছি, আরও কাছে এসো'। আর বরসোহাগী পৃথার আদরমাখা মুখ যেন বলছে 'গোপন কথাটি রবে না গোপনে, উঠিল ফুটিয়া নীরব নয়নে।'

অন্তরঙ্গ মুহূর্ত নিশিবাসরে নয়, বরং মর্নিং লাভমেকিংয়েই বিশ্বাসী এই দম্পতি। চল্লিশ ডিগ্রি তাপমাত্রায় যখন কলকাতা জ্বলছে তখন সেই রোদেই আদরে মাখামাখি করছে সুদীপ-পৃথা। ঠিক যেন হৃদয়শতদল করিছে টলমল,অরুণ প্রভাতে করুণ তপনে।
'শ্রীময়ী'র বর অনিন্দ্যর দু'বার বিয়ে হয়। বাস্তবেও সুদীপের (Sudip Mukherjee) দুবার বিয়ে হয়েছে। তাঁর প্রথম স্ত্রী দামিনী বেণী বসু। গুণী অভিনেত্রী ও শিক্ষিকা। রয়েছে তাঁদের একটি কন্যা সন্তানও। কিন্তু ভেঙে যায় তাঁদের সংসার। প্রফেশনাল ইগোর জেরে ভেঙে যায় প্রেমের বিয়ে। বিয়ে ভাঙার যন্ত্রণার মধ্যে দিয়ে যাওয়ার সময়েই পৃথার সঙ্গে আলাপ সুদীপের। সুদীপ আর পৃথার বয়সের পার্থক্য ২৪ বছর!

ফেসবুকের মাধ্যমে আলাপ হওয়ার পরে ওড়িশি নৃত্যশিল্পী পৃথার শো দেখতে পৌঁছে যান সুদীপ। এর পর শুরু বন্ধুত্ব আর প্রেমের পর্ব। বয়সের দীর্ঘ ফারাক প্রেমে বাধা হয়নি। ডিভোর্সী সুদীপকে বিয়ের সিদ্ধান্ত নিয়েছিলেন পৃথা। প্রোপোজটা পৃথাই করেন। পৃথার অবশ্য এটাই ছিল প্রথম বিয়ে। তাই স্বাভাবিক ভাবেই এই বিয়েতে মত ছিল না পৃথার পরিবারের। বিশেষ করে পৃথার মা মেয়ের এই অসম বিয়ে প্রথমে মেনে নিতে পারেননি। এমনকি তিনি সুদীপের প্রাক্তন স্ত্রীর কাছেও ছুটে যান সুদীপের সঙ্গে তাঁর বিয়ে ভাঙার কারণ জানতে। শেষ অবধি মেয়ের মতেই মত দেন মা। এক সন্তানের বাবা সুদীপকেই বিয়ে করেন পৃথা। খুব ধূমধাম করেই বিয়ে হয়। তবে প্রথম পক্ষের কন্যা সুদীপের কাছে থাকে না। যদিও পৃথার সঙ্গে সুদীপের মেয়ের খুব সুন্দর সম্পর্ক। মাঝেমধ্যেই মেয়ে চলে আসে এ সংসারে।

সুদীপ-পৃথা আবার দু'টি পুত্র সন্তানের জন্ম দিয়েছেন। ঋদ্ধি আর বালি। বাড়িতে রয়েছে সন্তানসম বেশ কয়েকটি পোষ্য সারমেয়। এখন অবশ্য আর কোনও 'ইনসিকিউরিটি' নেই সুদীপের শাশুড়ি মায়ের মনে। ইতিমধ্যেই হেসে-খেলে ৬ বছর একসঙ্গে কাটিয়ে ফেলেছেন সুদীপ-পৃথা।

'শ্রীময়ী'র পরিচালক চিত্রনাট্যকার লীনা গঙ্গোপাধ্যায় সুদীপকে বলেছিলেন পৃথাকে সিরিয়ালে নামাতে। কিন্তু সুদীপ বলেছিলেন, 'পৃথা সংসারটাই দেখুক। ও না সামলালে আমি অভিনয়টা করতে পারব না।'
অনেকে বলে, প্রথম বিয়ের মাঝে আসা প্রফেশনাল ইগোর কথা মাথায় রেখেই পৃথার অভিনয়ে আসায় মত নেই অনিন্দ্যর।
সোশ্যাল মিডিয়ায় ভীষণ অ্যাকটিভ থাকেন সুদীপ মুখার্জীর স্ত্রী পৃথা চক্রবর্তী। নিজের পদবীই ব্যবহার করেন তিনি। পরিবারের সদস্যদের সঙ্গে সময় কাটাতেও তিনি ভীষণ ভালবাসেন। আর সময় কাটানোর সেই মিষ্টি মুহূর্তগুলিকে ক্যামেরাবন্দি করে রেখে দেন পৃথা। সোশ্যাল মিডিয়ায় এরকমই একাধিক ছবিতে সুদীপ মুখার্জীর পুরো পরিবারকে একসঙ্গে দেখা গিয়েছে বহুবার।

এবার পৃথার সোশ্যাল প্রোফাইল এই গরমেও মেতেছে স্বামীর অনাবিল আদরে। সে বাঁধভাঙা আদরের ঢেউ এসে পৌঁছেছে দর্শকদের মাঝে। রাগী ভিলেন সুদীপ আদতে যে কতটা রোম্যান্টিক, তা ছবিতেই স্পষ্ট। ২৪ বছরের ফারাকের কথা যেন ভুলে যেতে হয় এ ছবি দেখলে।
একমঞ্চে উত্তম কুমার, তরুণ কুমারের নাতি-নাতনিরা! ফিরে দেখা সেই গল্প