
বাংলার তিন নায়িকা কখনও কাজ করেননি সত্যজিৎ রায়ের ছবিতে।
শেষ আপডেট: 2 May 2025 17:06
সত্যজিৎ রায়ের (Satyajit Ray) ছবিতে কাজ করে টলি বলির যে কোন অভিনেতার জীবন ধন্য হয়ে গেছে। কেরিয়ার গ্রাফে সত্যজিতের একটা মাত্র ছবি থাকলেও সেই অভিনেতা অভিনেত্রীর দর বেড়ে যেত। কিন্তু বাংলা ছবির প্রধান তিন নায়িকা কখনও কাজ করেননি সত্যজিৎ রায়ের ছবিতে। তাঁরা হলেন সুচিত্রা সেন, সাবিত্রী চট্টোপাধ্যায় ও সুপ্রিয়া দেবী। কেন? তাঁরা তিনজনে কি যোগ্য ছিলেন না সত্যজিতের ছবির জন্য? নাকি মেনস্ট্রিম ছবির নায়িকা বলেই কি সত্যজিতের পছন্দের তালিকায় তাঁরা ছিলেন না?

প্রথমে আসি সুচিত্রা সেনের কথায়। সুচিত্রাকে নিয়ে কিন্তু সত্যজিৎ রায় ভেবেছিলেন। সুচিত্রাকে নাম ভূমিকায় রেখেই বঙ্কিমচন্দ্র চট্টোপাধ্যায়ের 'দেবী চৌধুরাণী' করবেন ভাবেন। ছয়ের দশকে সত্যজিৎ নিজে সুচিত্রার বাড়ি গিয়ে 'দেবী চৌধুরাণী'র অফার দেন। কিন্তু সত্যজিৎ সুচিত্রার কাছে এক্সক্লুসিভ ডেট চেয়েছিলেন। যখন সুচিত্রা সেন সত্যজিতের ছবিতে কাজ করবেন তখন তিনি অন্য কোনও পরিচালকের ছবিতে কাজ করতে পারবেন না। আর এখানেই ছিল সুচিত্রার আপত্তি। তিনি সত্যজিৎ ও প্রযোজক আর ডি বনশলকে বাড়িতে আপ্যায়ন করলেও এক্সক্লুসিভ আর্টিস্ট হওয়ার প্রস্তাবে রাজি হননি। শুধু তাই নয়, সত্যজিৎ মহানায়িকাকে বলেছিলেন 'দেবী চৌধুরাণী'র জন্য আমায় আপনাকে গড়ে নিতে হবে।' এটা মেনে নিতে পারেননি অভিনয়ের মধ্যগগণে থাকা সুচিত্রা সেন। অন্য মেনস্ট্রিম ছবির পরিচালকদের ডেট দেওয়ার কারণেও তিনি প্রত্যাখ্যান করেন সত্যজিৎ রায়কে। পরে দীনেন গুপ্তর 'দেবী চৌধুরাণী' সুচিত্রা সেন করলেও সে ছবি তেমন উন্নত মানের হয়নি। তবে এ কথা সত্যি, সুচিত্রা সেনকে না পেয়ে সত্যজিৎ রায় আর 'দেবী চৌধুরাণী' করেননি ।

সুপ্রিয়া দেবী একবার আক্ষেপ করে বলেছিলেন "মানিকদা তো আমাকে 'ঘরে-বাইরে'-র বিমলা ভাবতে পারতেন! ভাবেননি।" যদিও 'চিড়িয়াখানা'র বনলক্ষ্মীর চরিত্রে একবার সুপ্রিয়াকে ভেবেছিলেন সত্যজিৎ। পরে নিজেই তা কেটে দেন। উত্তমকুমারের সঙ্গে বহু অনুষ্ঠানে সুপ্রিয়া দেবীর সঙ্গে সত্যজিতের সাক্ষাৎ হলেও ছবি করার কথা হয়নি। অথচ ঋত্বিক ঘটকের 'মেঘে ঢাকা তারা'র নীতা সুপ্রিয়া। শুধুই তিনি উত্তম বান্ধবী নন।
আর বাদ থাকেন সাবিত্রী। সাবিত্রী চট্টোপাধ্যায় চিরকাল বাদ ছিলেন সত্যজিতের নজর থেকে। তাঁর মতো প্রতিভাময়ী অভিনেত্রী কখনও একবারও ডাক পাননি সত্যজিৎ রায়ের। অথচ মৃণাল সেনের 'রাতভোর', 'প্রতিনিধি' ও 'অবশেষে' ছবির নায়িকা ছিলেন সাবিত্রী। মৃণাল সেন নিজেই কখনও এই ছবিগুলিকে এবং সাবিত্রীকে পছন্দের তালিকায় ধরেননি। অথচ ছবিগুলি প্রযোজনাতে সাবিত্রীর বড় ভূমিকা ছিল।

অন্যদিকে সাবিত্রীর মতো দাপুটে অভিনেত্রী, যাঁকে ছাড়া বাংলা ছবির ইতিহাস লেখা যায় না। তিনিই জায়গা পাননি সত্যজিতের ছবিতে। এই কারণে সাবিত্রী সত্যজিৎ-মৃণাল-ঋত্বিক বাংলা ছবির তিন মহীরূহকে কখনও গুরুত্ব দেননি।
আরও কারণ, সত্যজিতের শিক্ষা সংস্কৃতির পরিমণ্ডলে সাবিত্রী কখনও পড়েননি। সে কারণেও হয়তো সাবিত্রী চট্টোপাধ্যায়-কখনও ভাবেননি সত্যজিৎ।