Date : 15th Apr, 2026 | Call 1800 452 567 | info@thewall.in
IPL 2026: ভাগ্যিস আইপিএলে অবনমন নেই! নয়তো এতক্ষণে রেলিগেশন ঠেকানোর প্রস্তুতি নিত কেকেআর TCS Scandal: যৌন হেনস্থা, ধর্মান্তরে চাপ! নাসিকের টিসিএসকাণ্ডে মালয়েশিয়া-যোগে আরও ঘনাল রহস্যক্যান্ডিডেটস জিতে বিশ্ব চ্যাম্পিয়নশিপে গুকেশের মুখোমুখি সিন্দারভ, ড্র করেও খেতাবের লড়াইয়ে বৈশালীIPL 2026: চেন্নাইয়ের বিরুদ্ধে হেরে টেবিলের তলানিতে কেকেআর! গুরুতর বদলের ইঙ্গিত রাহানের নববর্ষের 'শুভনন্দন'-এও মুখ্যমন্ত্রীর SIR তোপ! বাংলায় পয়লা বৈশাখের শুভেচ্ছা প্রধানমন্ত্রীরইরানের সব পণ্যবাহী জাহাজ চলাচল বন্ধ করে‌ দেওয়া হয়েছে, দাবি আমেরিকার, চিন্তা ইরানি ল্যান্ডমাইনও Poila Baisakh: দক্ষিণেশ্বর থেকে কালীঘাট, নববর্ষে অগণিত ভক্তের ভিড়, পুজো দিতে লম্বা লাইনপয়লা বৈশাখেই কালবৈশাখীর দুর্যোগ! মাটি হতে পারে বেরনোর প্ল্যান, কোন কোন জেলায় বৃষ্টির পূর্বাভাসমেয়েকে শ্বাসরোধ করে মেরে আত্মঘাতী মহিলা! বেঙ্গালুরুর ফ্ল্যাটে জোড়া মৃত্যু ঘিরে ঘনীভূত রহস্য UCL: চ্যাম্পিয়নস লিগের শেষ চারে পিএসজি-আতলেতিকো, ছিটকে গেল বার্সা-লিভারপুল

দীর্ঘদিনের দাম্পত্যে দুঃখ-কষ্টের মধ্যেও মাধুর্য বাঁচিয়ে রাখা যায়: 'বরুণবাবুর বন্ধু'দের আড্ডায় সৌমিত্র

শুভদীপ বন্দ্যোপাধ্যায় 'বরুণবাবুর বন্ধু' আসছে আগামী ৭ ফেব্রুয়ারি। তার আগে বরুণ বাবু, সঙ্গে তাঁর পরিবার, বরুণ বাবুর বউমারা এবং ছবির পরিচালক হাজির হলেন ঘরোয়া আড্ডায়। বরুণবাবু অর্থাৎ সৌমিত্র চট্টোপাধ্যায়, ছবিতে তাঁর বড় বৌমা বিদীপ্তা চক্রবর্তী ও

দীর্ঘদিনের দাম্পত্যে দুঃখ-কষ্টের মধ্যেও মাধুর্য বাঁচিয়ে রাখা যায়: 'বরুণবাবুর বন্ধু'দের আড্ডায় সৌমিত্র

শেষ আপডেট: 24 December 2019 15:28

শুভদীপ বন্দ্যোপাধ্যায়

'বরুণবাবুর বন্ধু' আসছে আগামী ৭ ফেব্রুয়ারি। তার আগে বরুণ বাবু, সঙ্গে তাঁর পরিবার, বরুণ বাবুর বউমারা এবং ছবির পরিচালক হাজির হলেন ঘরোয়া আড্ডায়। বরুণবাবু অর্থাৎ সৌমিত্র চট্টোপাধ্যায়, ছবিতে তাঁর বড় বৌমা বিদীপ্তা চক্রবর্তী ও ছোটো বউমা অর্পিতা চট্টোপাধ্যায় এবং খোদ পরিচালক অনীক দত্ত। সান্ধ্য-আড্ডা বসল দক্ষিণ কলকাতায় অনীক দত্তর সুসজ্জিত ফ্ল্যাটেই। মুখোমুখি দ্য ওয়াল। দ্য ওয়াল: রমাপদ চৌধুরীর কাহিনী 'ছাদ' অবলম্বনে 'বরুণবাবুর বন্ধু' ছবি বানিয়েছেন অনীকদা। এই গল্পটা এই সময়ে দাঁড়িয়ে ছবি হিসেবে করা দরকার মনে হল কেন? অনীক: এই ছবির বেসিক প্লটটা ইন্টারেসটিং। কিন্তু বিভিন্ন সময়ের নিরিখে বিভিন্ন ভাবে প্রযোজ্য। এই গল্পটা আমার মনে হয়েছে এখনকার সময়ে আরও প্রাসঙ্গিক হয়ে দাঁড়িয়েছে। 'আশ্চর্য প্রদীপ' যখন লেখা হয়েছিল, সেই সময়ে সেটা যত প্রাসঙ্গিক ছিল, পরে ওই গল্পটাই আরও বেশি প্রাসঙ্গিক হয়ে উঠেছিল। তাই করেছিলাম তখন। এই গল্পটাও সেরকমই, লেখার সময়ের থেকে এখনকার সময়ে দাঁড়িয়ে প্রাসঙ্গিক। দ্য ওয়াল: পরিবারকেন্দ্রিক গল্পের সিনেমা তো দর্শক আজকাল বেশি নেয়। অনীক: না, আমি কিন্তু আলাদা করে পারিবারিক গল্পের ছবি করব বলে কিছু ভাবিনি। নেবে কি নেবে না, সেই ভেবেও বাছিনি গল্পটা। কিন্তু দর্শকেরা নিলে অবশ্যই খুশি হবো। আশা করি দর্শক নেবে। দ্য ওয়াল: 'বরুণবাবুর বন্ধু' ছবিতে যে আবহ সঙ্গীত বাজছে, সেটা শুনে যেন মনে হচ্ছে সত্যজিৎ রায়ের 'শাখা প্রশাখা' র সেই পারিবারিক দ্বন্দ্বের মিউজিক বাজছে। এটা কি খুব সচেতন ভাবেই বানানো সেই ধারাটার ছোঁয়া রেখে? অনীক: দেবু (দেবজ্যোতি মিশ্র) সেটা ভাল বলতে পারবে। তবে সত্যজিৎ রায়কে ভেবেই করা নয়। তবে এখন আমরা যারা কাজ করছি, পরিচালনা বলো বা সঙ্গীত পরিচালনা-- সত্যজিৎ রায়ের প্রভাব নেই এরকম লোক খুঁজে পাওয়া খুব মুশকিল। সচেতন ভাবে না হলেও, অবচেতনে সত্যজিৎ রায় রয়ে গেছেন। কেউ যদি সত্যজিৎ রায় বাদ দিয়ে ভাবতে পারেন, তাহলে তিনি খুব একটা সৃষ্টিশীল ব্যক্তি হবেন  বলে আমার মনে হয় না। সৌমিত্র: তা হলে আরও এক জন জিনিয়াস জন্মাতে হবে। অনীক: আমার প্রথম ছবিতেও একথা অনেকে বলেছিল সত্যজিৎ রায়কে ট্রিবিউট দিয়ে বানানো। কিন্তু আমি কে এমন কেউকেটা, যে ওঁর মতো মহীরুহকে শ্রদ্ধা জানাব? এগুলো কিছুটা যদি এই ছবিতে হয়ে থাকে, আমি বলব সত্যজিৎ বাবুর কিছু সিগনেচার আছে আবহ সঙ্গীতে। বিশেষ করে বাজনার ব্যবহারে। সেটাই হয়তো মিলে গেছে আমার সঙ্গে। তবে আমার আগের ছবিগুলোতে এই ধরনের মিউজিক ব্যবহার করিনি। আমি এই সিনেমার মিউজিকটা দিয়ে বরুণবাবুর সেই সময়টা ধরতে চেয়েছি। ওঁর মধ্যে একটা ক্লাসি ব্যাপার রয়েছে, উনি ভারতীয় শাস্ত্রীয় সঙ্গীত শোনেন। সেটা ছবির ট্রেলারের প্রায় প্রতিটা দৃশ্যে বোঝা যাচ্ছে। তবে 'বরুণবাবুর বন্ধু' কিন্তু একেবারেই পরিবার টেনে গল্প নয়। একটা সময়ে বাংলা ছবিতে পারিবারিক গল্পকে সোশ্যাল ড্রামা বলত। আমি কিন্তু সেই ভেবে করিনি। আমার গল্পে এক জন লোক বরুণ বাবু, তাঁর পারিপার্শ্বিক আরও কতগুলো সম্পর্ক-- সেই নিয়েই আধুনিক প্রেক্ষাপটে গল্প। দ্য ওয়াল: এবারের প্রশ্ন ছবির কেন্দ্রীয় চরিত্র বরুণবাবু অর্থাৎ সৌমিত্র চট্টোপাধ্যায়কে। আপনি এই ছবিতে অভিনয় করে বলেছেন, "অনেক দিন অপেক্ষা করে থাকার পরে এমন একটা চরিত্র এসেছে, যে চরিত্রে অভিনয় করে মনে তৃপ্তি পেলাম।" কি বিশেষত্ব এই চরিত্রটার যেটা আপনাকে ছুঁয়ে গেল? সৌমিত্র: ভালো লাগার কারন সত্যতা। আর যদি বলো সত্যতাটা কিসে? সেটা হচ্ছে এই, যে বরুণবাবু লোকটা প্রায় ছিটগ্রস্তের মতো তাঁর নিজের ধ্যান-ধারণাগুলো আঁকড়ে বসে রয়েছেন। আজকের সময়ের সঙ্গে তিনি নিজেকে মানিয়ে চলতে পারেন না। এমনকি তিনি সঙ্গে একটা মোবাইল ফোন পর্যন্ত রাখেন না। এই সব কিছু মিলিয়ে লোকটার ভিতর যে দ্বন্দ্বটা আছে, যে বৈপরীত্যটা আছে, সেটা সবসময় এক জন অভিনেতার খাদ্য। একঘেয়ে চরিত্র যদি কেউ করতে থাকেন, যেমন ধরো “কেমন আছো, এসো, বসো”—এই সব এলবেলে কথা যদি কোনও চরিত্র বলেন, তখন কিন্তু সেই চরিত্রটা আকর্ষণীয় থাকে না। কিন্তু যখন বরুণবাবুর কাছে এসে এক জন দূর সম্পর্কের আত্মীয়া বলছেন, ‘আমার নাতিকে দাও না একটা ভালো ইঞ্জিনিয়ারিং কলেজে ভর্তি করে’, তখন বরুণবাবু যতটা না বিরক্ত হচ্ছেন, তার চেয়ে ঢের বেশি বিরক্ত হচ্ছেন ভদ্রমহিলার সুবিধাবাদী ও সুযোগসন্ধানী স্বভাব দেখে। কারণ আজকে বরুণবাবুর বন্ধু একটা উচ্চ জায়গায় আছেন বলে বরুণবাবুকে এত খাতির। সেই জায়গা থেকে এই যে অভিনয়ে বিবর্তন, যেমন 'কী রে বাজার করতে এসছিস' বলে কথোপকথন শুরু করে সুযোগ নেওয়ার চেষ্টা, সেটা রিজেক্ট করা-- এক জন অভিনেতার অভিনয়ে এত গুলো স্তরের বিবর্তন, এগুলোই তো যে কোনও অভিনেতার পছন্দের বিষয়। শুধু তাই নয়, এই ভদ্রলোকের আবার একটা অতীত আছে। যে অতীত ঘুরে ঘুরে আসে তাঁর ব্যক্তিত্ব। এখনকার ছেলেময়েরা যে কলেজে আন্দোলন করছে, সেখানে তাঁদের পাশে নিয়ে গিয়ে দাঁড় করিয়ে দেয় তাঁর রাজনৈতিক মতাদর্শ। তিনি সেখানে গিয়ে কবিতা পড়েন। যে কবিতাটা সমগ্র ছবিটাকে ক্ষণিকের জন্য হলেও একটা উত্তরণ ঘটায়, মহাবিশ্বের অখিল ভুবনে এনে দাঁড় করিয়ে দেয়। অনীক: ঠিক। এই সময়ে এই চিন্তাটা খুব প্রাসঙ্গিক। বিদীপ্তা: একদম। সৌমিত্র: সেই জন্যই বলছি, সময়ের সঙ্গে যোগ হয়ে যাচ্ছে এই চরিত্রটি। কারণ এই রকম সময় পৃথিবীতে বারবার এসেছে, আসে। সেইসব কারনে চরিত্রটা ভাল লাগল করতে। দ্য ওয়াল: এই ছবিতে আর একটা দিক উঠে আসছে। বয়স হলে, অবসর নিলে সমাজে বাতিল হয়ে যেতে হয় অনেককে। যেটা আমরা 'ভবিষ্যতের ভূত' এও বাতিল ঘর বলে দেখেছি। পুরনো জিনিস মানেই যেন বাতিল। কিন্তু বরুণবাবুর বন্ধুর জন্য বরুণবাবুর দর হঠাৎ বেড়ে যাচ্ছে তাঁর পরিবার এবং তাঁর পারিপার্শ্বিক লোকজনের কাছে। বিদীপ্তা: একদমই তাই। আমরা যে চরিত্রগুলো করছি, সেগুলোর চারিত্রিক বৈশিষ্ট্য তাই। আমাদের ছেলের বউদের ভালোবাসা যেন উপচে পড়ছে, কিন্তু তার মধ্যেও একটা প্রচ্ছন্ন সুবিধাবাদ আছে। এক একটা চরিত্রের মধ্যে এক এক রকম ভাবে। সেইগুলো করতে আমার তো খুব ভাল লেগেছে। একটা ঘটনাকে কেন্দ্র করে অনেক লোকের ভেতরে কী হয়, বাবার প্রতি আসলে কতটা ভালবাসা, সেসব প্রকট ভাবে বেরিয়ে পড়ছে। দ্য ওয়াল: বরুণবাবুর চরিত্রটা কি সৌমিত্র চট্টোপাধ্যায়কে ভেবেই? উনি যদি না বলতেন তাহলে ছবিটা কে করতেন? অনীক: সত্যি বলতে, তা হলে হয়তো হতোই না ছবিটা। যে কোনও ফিল্মমেকার যখন চিত্রনাট্য লিখতে আরম্ভ করেন, তখন তাঁর মাথায় কয়েকটা মুখ ভাসে। সেই মুখ যদি চেনা না থাকে, তখন সেটা খুঁজে বের করতে হবে, এমন একটা ভাবনা মাথার মধ্যে থাকে। আগেও এরকম হয়েছে আমার। নতুন এক জনকে খুঁজে বের করতে হয়েছিল একটা চরিত্রের প্রয়োজনে। তিনি এখন খুব পরিচিত ও জনপ্রিয় মুখ, সৌরসেনী। তাঁর প্রথম দিককার ছবি ছিল আমার সঙ্গে। ওই মুখটা খুঁজে বের করতে হয়েছিল আমায়। কিন্তু এই ক্ষেত্রে যদি শুধু গল্পটা পড়ে মনে হয় কার কথা মনে হচ্ছে, তাহলে শুধু আমার নয়, সকলেরই সৌমিত্রদার কথাই মনে আসবে। বরুণবাবুর যে সব ভাল তা নয়। ঔদ্ধত্য রয়েছে, ইন্টেলেকচুয়াল আদর্শ রয়েছে। এবং সে জন্য মাঝেমাঝে নিজের বন্ধুকেও আহত করে ফেলেন তিনি। নিজেকে একটু কেউকেটাও ভাবেন। এই যে কমপ্লেক্স এবং চেহারাটা সেটা সৌমিত্রদা ছাড়া আমার করার কোনও মানে হতো না। দ্য ওয়াল: বরুণ বাবুর ঘনিষ্ঠ বন্ধু যিনি, যে রোলটা পরাণ বন্দ্যোপাধ্যায় করছেন, উনি তো সম্পূর্ণ বিপরীত তাঁর বাল্যবন্ধু বরুণের চেয়ে। অনীক: হ্যাঁ, ওই কনট্রাস্ট বৈপরীত্যটা রাখতে চেয়েছি। উনি প্রাণখোলা, খেলোয়াড়। সেই নিয়ে মজাও রয়েছে ছবিতে। দু’জন বিপরীত মেরুর লোক হলেও, তাঁদের বন্ধুত্ব সেটা ছোটবেলাতেই হয়েছিল। বড় হয়ে হয়তো এঁরা কোনও দিনই বন্ধু হতো না। মিল নেই দু’জনের কোনও, কিন্তু কোথাও একটা মিল রয়েছে। দে কমপ্লিমেন্ট ইচ আদার। যখন এই বন্ধুর চরিত্রটা ভাবতে গেলাম, আমার মাথায় এল এই বয়সিদের মধ্যে সেকেন্ড বেস্ট কে? তখন আমার পরাণদার কথাই মনে এল। পরাণদা নিজেও খেলোয়াড়দের টি শার্ট পরেন। সেই ব্যক্তিত্বটাকেই আমরা ছবিতে ব্যবহার করেছি। আমুদে একটা চরিত্র। দু’জনে ঝগড়াও হয়। যাঁকে ছাড়া আবার বরুণবাবুর চলে না। দ্য ওয়াল: ছবি বিশ্বাস-পাহাড়ী সান্যালের সেই পুরনো জুটির ফ্লেভার, নাকি? সৌমিত্র: অতীতে এরকম অনেকেই ছিলেন। একটু চুপচাপ, মেজাজী বরুণবাবুর গোছের ক্যারেক্টারে শৈলেন মুখোপাধ্যায়কেও বেশ মানাত। অনীক: এইটা অদ্ভুত ভাবে সৌমিত্রদার অনেক আগের একটা ছবি দেখে  মনে হয়েছিল আমার। এই যে একটু খরখরে ভাব, কাটাকাটা কথ, সেইটা আমি সৌমিত্রদাকে বলেও ছিলাম। সেই 'সাত পাকে বাঁধা'র যে চরিত্রটা। দ্য ওয়াল: সুখেন্দু। সুচিত্রা সেন অর্থাৎ অর্চনার অধ্যাপক স্বামী। অনীক: হ্যাঁ ঠিক। তাঁর একটু রাগী রাগী ভাব ছিল। বরুণবাবুও যুবকবেলায় ওরকম ছিলেন অনেকটা। সৌমিত্র: সুখেন্দু লোকটাই বুড়ো হয়ে বরুণ বাবু হয়েছে। হা হা হা হা হা... দ্য ওয়াল: বরুণবাবুর বন্ধুকে বাস্তবে যদি আপনার জায়গায় বসাই, তাহলে আপনার ছেলেবেলার বন্ধুদের কাছেও আপনি সেরকমই। কিংবদন্তি সৌমিত্র চট্টোপাধ্যায়  তাঁদের বাড়ি যাচ্ছেন বলে তাঁরাও তোড়জোড় শুরু করে দেন তো?  পাড়ায় লোকও জমে যায় নিশ্চয়? সৌমিত্র: শ্যামবাজারে আমার যে বন্ধুর বাড়ি, সেখানে যখন আমি যাই তখন তাঁর পাড়ায় হৈ-হল্লা হয়। সে আবার আমার বাড়ি এলে পাড়া চুপচাপ। কারণ আমি এক জন সেলিব্রিটি। এই মিলটা বা বৈপরীত্যটা যাই বলো, সেটা তো আছেই। সেই 'তিন ভুবনের পারে'র ভুবনভোলানো হাসিটি হাসলেন সৌমিত্র। দ্য ওয়াল: সৌমিত্র-মাধবী জুটি এই ছবিতে আবার ফিরছেন। ওঁদের আমরা চারুলতা, কাপুরুষের মতো অনেক ছবিতে জুটি হিসেবে দেখেছি। এখানে ওঁদের জুটি একটা পরিণতি পাচ্ছে শেষ বয়সে। যেন কত কালের দাম্পত্য, নির্ভরতা। মনেই হচ্ছে না দু’জন অভিনয় করছেন। মাধবী মুখোপাধ্যায় একটা অসুস্থ মেক আপে রয়েছেন এই ছবিতে। কিন্তু দু’জনের তাকানোটা সেই ষাট দশক থেকে এই এত যুগ পেরিয়েও অমলিন। সৌমিত্র: দীর্ঘদিনের দাম্পত্যে দুঃখ-কষ্টের মধ্যেও মাধুর্য বাঁচিয়ে রাখা যায়। সেটাই ছবিটা দেখলে বোঝা যাবে। অনীক: এই যে ভদ্রলোক আউটকাস্ট হয়ে গেছেন, এঁড়েমি ও একগুঁয়েমি পেয়ে বসেছে, সেটা ওঁর স্ত্রীয়েরই প্রশয়ে। ভালবাসার দুর্বলতায় এমনটা হয়েছে। দুই কিংবদন্তিকে একসঙ্গে দেখা যাবে এমনই এক মাধুর্যে। দ্য ওয়াল: অর্পিতাদির চরিত্রটা সম্বন্ধে শুনব। অর্পিতা: আমি বরুণবাবুর ছোট বৌমা মৌসুমী। যার সন্তান আবার এক জন স্পেশ্যাল চাইল্ড। আমরা আজকাল খুব জটিলতায় বাস করি। মৌসুমীর চরিত্রটা সহজ। যে জটিলতাতেও সহজ ভাবে বোঝায়, স্রোতের বিপরীত দিকে হাঁটে। আমাদের এখন কেউ ফোন করলে আমরা প্রশ্ন করি, কে, কোথা থেকে, কেন ফোন করছো—এইসব। মৌসুমী কিন্তু সেটা নয়। সমগ্র পরিবারের মধ্যে মৌসুমী একমাত্র এক জন, যে তার শ্বশুরকে বোঝে। ফিজিক্যাল কাছে থাকার থেকেও যে মানুষ অপর জনকে বুঝতে পারে, সেখান থেকে কাছের-দূরের তফাত তৈরি হয়। এই চরিত্রটা আলাদা, কারণ এর ভালবাসায় কোনও স্বার্থ নেই, চাওয়া-পাওয়া নেই। সেই কারনে শ্বশুর-বউমা দু’জনই দু’জনকে পছন্দ করেন। অনীক: একমাত্র বোধহয় পরিবারে! অর্পিতা: কিন্তু বাকিদের সঙ্গে মৌসুমী যে খারাপ ব্যবহার করে সেটাও নয়। মৌসুমী এমন একটা ব্যালেন্সড চরিত্র, যেটা সচরাচর দেখা যায় না। এমন একটা করে বৌ সব ঘরে থাকলে ডিভোর্স আর হবেই না। সৌমিত্র: তা ছাড়া অনেক সময়ে একটা ভ্রান্ত ধারণা থাকে অনেকের, যে তুমি খুব ভাল। যদি তা না হয়, তার মানেই তুমি খুব বাজে। কিন্তু তা ছাড়াও তো অন্যরকম ভাবে জীবনকে দেখা যায়। সেটাই অর্পিতা বলতে চাইছে। সে সংসারের সকলের পছন্দের লোক নাও হতে পারে, কিন্তু সে খারাপ নয়। অর্পিতা: মৌসুমী আসলে জাজমেন্টাল নয়। দ্য ওয়াল: রিল লাইফ ছেড়ে রিয়েল লাইফ দেখলেও অর্পিতাদি কিন্তু সৌমিত্রবাবুর বৌমার মতোই। বুম্বাদার অন্নপ্রাশনে বিশ্বজিৎ, সৌমিত্র চ্যাটার্জী পরিবেশন করছেন। ছবি বিশ্বাস খাচ্ছেন। একদম পারিবারিক সম্পর্ক তখন থেকেই। সৌমিত্রর কোলে প্রসেনজিৎ পাশে বিশ্বজিৎ, সন্ধ্যা রায়। [caption id="attachment_171395" align="aligncenter" width="712"] প্রসেনজিৎ চট্টোপাধ্যায়ের অন্নপ্রাশনের ছবি।[/caption] সৌমিত্র: হ্যাঁ, ওঁর স্বামী (প্রসেনজিৎ চট্টোপাধ্যায়) তো আমার কোলে চড়ে বড় হয়েছে। সে সব ছবিও তো আছে। সেই হিসেবে ও আমার ছোট বৌ তো বটেই। অনীক: ছোটবউ বলে একটা সিনেমা ছিল না! বিদীপ্তা: অঞ্জন চৌধুরীর ছবি। বৌ সিরিজ হয়েছে সেইসময়ে। মেজো বৌ, ছোট বৌ, সেজো বৌ। অনীক: সব সম্পর্ক নিয়েই ছবি হয়ে গেছে। আমরা তাহলে সব সম্পর্কগুলোকে একসঙ্গে ধরেছি বলা যায়। অর্পিতা: এগুলো কিন্তু সুপারডুপার হিট। যেমন 'বাবা কেন চাকর' বিশাল সুপারহিট পারিবারিক ছবি। সে সময়ে এগুলোই চাইত দর্শক। সামাজিক অবস্থাও ছিল কিছুটা। ছবি মানেই তো সমাজের দর্পণ। অনীক: একেবারেই তাই। সৌমিত্র: সেটাই বলছি তোমাকে। বাংলাছবির ইতিহাসে ঐ ছবিগুলোকে অস্বীকার করা যায় না। সব রয়ে গেছে। কিন্তু 'বরুণবাবুর বন্ধু' এই সময়ে দাঁড়িয়ে আধুনিক। অনীক: কিন্তু সে সময়ও কিছু অসাধারণ পারিবারিক ছবি হয়েছে। যেমন 'গল্প হলেও সত্যি'। চুড়ান্ত একটা ছবি। এক জন বৃদ্ধকে ঘিরে নিজেদের মধ্যে পলিটিক্স। অর্পিতা: হুম সোনার গয়নাগুলো পাবে। অসাধারণ। সৌমিত্র: তপন সিনহার এটাই বৈশিষ্ট্য। ওঁর একটা ছবির সঙ্গে আর একটা ছবিকে মেলাতে পারবে না তুমি। দ্য ওয়াল: বিদীপ্তাদি, বরুণবাবুর বড় বৌমা। সে শ্বশুরকে একটু সম্ভ্রম করেও চলে। আপনার গাওয়া গানও ছবিতে পাবো আমরা। অনীক: ছবিতে ওঁর গানের চর্চা ছিল এক সময়। সেটাই বোঝা যায় চরিত্রটাতে। গান রাখার জন্য কিন্তু গান রাখা হয়নি ছবিতে। বিদীপ্তা: গানটা খুব স্বাভাবিক ভাবেই এসেছে ছবিতে। একটা পারিবারিক সম্মিলনি হলে যে গান জানে তাকে যেমন গান গাইতেই হয়, সে ভাবেই। আর মৌসুমীর যে চরিত্রটা অর্পিতা বলল, ঠিক তার উল্টো চরিত্র হচ্ছে আমার। যে ছেলে বৌমা তাঁদের ছেলে নিয়ে আলাদা থাকে। শ্বশুর-শাশুড়ির সঙ্গে থাকে না। ওঁদের প্রতি সম্মান রয়েছে, কিন্তু কোথাও গিয়ে যেন সুবিদাবাদী। অনেক ছোট-ছোট ঘটনা আছে ছবিটিতে। শ্বশুরের জন্মদিনে যাচ্ছে বড় ছেলে, বড় বৌমা বড় নাতি। তখন বৌমা পুরনো একটা গিফট শ্বশুরের জন্মদিনে যাকে বলে চালান করে দিচ্ছে। এইসব ভাল-খারাপ মিশিয়ে চরিত্র। দ্য ওয়াল: সৌমিত্রবাবুর কেরিয়ার যখন মধ্যগগনে, স্বর্ণযুগের  তরুণ সওয়ারি, নায়ক হিসেবে একের পর এক ঝড় তুলছেন বক্সঅফিসে, তখনও আপনি মিটিং-মিছিলে পা মেলাতেন। তখন আপনাকে উত্তম ও সুচিত্রা দু’জনেই বলতেন, ‘পুলু অত মিটিং মিছিলে হেঁটো না, ওতে স্টারভ্যালু নষ্ট হয়ে যায়।’ কিন্তু আপনি তো প্রমাণ করে দিয়েছেন স্টারভ্যালু মানুষের সঙ্গে মিশলে নষ্ট হয় না। এখনও হয়নি। সৌমিত্র: শুধু উত্তম-সুচিত্রা নয় কিন্তু! অনেক লোকই তখন আমায় এ কথা বলতেন। আসলে তখন ঐটেই তো সাধারন ভাবে ধরে নেওয়া হতো। আমি কিছু প্রমাণ করিনি। আমি যদি এগুলো না করতাম তাহলে আমি ‘আমি’ থাকব কী করে? বিদীপ্তা: তুমি মানুষটাই এরকম। সহজাত ভাবেই এসেছে এগুলো। সৌমিত্র: ওটা আমার স্বভাব করে গেছি। অনীক: সৌমিত্রদা ছাত্রজীবন থেকেই রাজনীতি করছেন। ওঁর মধ্যে এটা ফিল্মে আসার আগে থেকেই ছিল। দ্য ওয়াল: এখনকার জলন্ত বিষয় নাগরিকত্ব আইন। সৌমিত্র বাবু, অনীকদা আপনারা রাজনৈতিক ভাবে সচেতন, সেটা সকলেই জানি। এখন এই তুমুল অশান্তির আবহে আপনাদের অবস্থান কী? মতামত কি? অনীক: এটা এক লাইনে বলা উচিত নয় এবং বলা খুব বিপজ্জনক। অর্পিতা: কোনও কিছুই বলার দরকার নেই। অনীক: না দেখো, এটা নিয়ে বলতে গেলে আলাদা একটা এপিসোড করতে হবে। আমার কিন্তু বলায় কোনও অসুবিধে নেই। কিন্তু বরুণবাবুর মাঝে এক লাইনে এটা গুঁজে দেওয়া যায় না। বলতে গেলে বিস্তৃত ভাবে বলতে হবে। বিরাট ব্যাপার, তোমায় আলাদা ইন্টারভিউ করতে হবে। আমিও তো পূর্ববঙ্গ থেকে এসেছি, তাই সেই নিয়ে ভাবছি তো অবশ্যই। সৌমিত্র: ইদানীং কালের এসব নিয়ে আমি কিচ্ছু জানি না।  নাগরিক বিলের সত্যি সত্যি কি উপকারিতা অপকারিতা এগুলো আমি জানিই না। তো কোন দিকে স্ট্যান্ড নেব বলো। দেখুন 'বরুণবাবুর বন্ধু'র ট্রেলার। https://www.youtube.com/watch?v=VnehjZv1Qco দ্য ওয়াল: কলকাতা শহরের পরিবর্তন হচ্ছে। বাড়িগুলোর চেহারা বদলে যাচ্ছে। সৌমিত্রবাবু যেমন কলকাতায় স্বাধীনতার পরপর থেকেই এই বদলটা দেখেছেন। কী মনে হয় এই বদল নিয়ে? সৌমিত্র: এটা এমন একটা প্রবল পরিবর্তন, যা কেউ ঠেকাতে পারবে না। অনীক: বাড়িগুলো খুব কুৎসিত না হলেই ভাল। সেটা এখন কিছুটা হচ্ছে। আগেকার বাড়িগুলো এক ধরনের আর্কিটেকচার মেনে হতো। এখন সে সব ঐতিহাসিক বাড়ি কল্পনা টল্পনা মিলিয়ে বেগুনি-সবুজ রং করে ফেলছে। সেটা তাঁদের পয়সায় রঙ করছে, কী আর বলা যাবে! কিন্তু এতে করে কলকাতার যে একটা নিজস্ব নান্দনিক রূপ ছিল, নিজস্ব রঙ রূপ গন্ধ ছিল, সেটা তো হারাচ্ছেই। এই বিষয়টা 'ভবিষ্যতের ভূত'-এ কিছুটা ছিল। দ্য ওয়াল: আপনি আর কিছুদিনেই ৮৫-তে পড়বেন। ১৯ জানুয়ারি জন্মদিন। এখনও আমরা দেখছি আপনার মধ্যে কী প্রাণশক্তি! আজকেই তো সেই বর্ধমান উৎসব থেকে আবার এখানে এসছেন, আমাদের সঙ্গে গল্প করতে। ছবি, সিরিয়াল, কবিতা লেখা,নাটক—এত কিছু এই বয়সেও সামলান কী করে? সৌমিত্র: ব্যায়াম ব্যায়াম। সকালে উঠে কিছু ফ্রি হ্যান্ড এক্সারসাইজ করি, কিছুটা হাঁটি। এটুকুই। আর দেখো, সিরিয়াল করি না। অত সময়ও দিতে পারি না। একটাই করেছিলাম সিরিয়াল। সাবিত্রী (চট্টোপাধ্যায়) খুব করে ধরেছিল আমায়, তাই। সাবিত্রীর কথা ফেলতে পারিনি। বিদীপ্তা: হুম আমিও ছিলাম তো ঐ সিরিয়ালে, 'জল নূপুর'। দ্য ওয়াল: সৌমিত্রবাবু আপনি এত ছবি করেছেন, অনেক ভাল ভাল ছবি হারিয়ে গেছে। প্রিন্ট নেই। আমাদের প্রজন্ম আর দেখতে পারছে না। এমনটা কাদের উদাসীনতায় হল বলে মনে হয়? সৌমিত্র: কারও নির্দিষ্ট করে নয়। এটা সামগ্রিক উদাসীনতা। সরকারি-বেসরকারি ভাবে উদাসীনতা। ফিল্ম জগতের লোকদের উদাসীনতা। অনীক: সত্যজিত রায়ের ছবি রেস্টোর করতে বিদেশি সংস্থার সাহায্য নিতে হল। দেশে নেই। বাইরের লোক ডেকে আনতে হচ্ছে। সৌমিত্র: তুমি ভাবো 'কাঞ্চনজঙ্ঘা'র মতো ছবি শেষ হয়ে যাচ্ছিল। অতি কষ্টে বেঁচেছে। সত্যজিৎ রায়ের ভাগ্যে এই জুটেছে তাহলে অন্যদের ভাগ্যে কী দুর্বিপাক অপেক্ষা করছে তুমি ভেবে দেখো। অনীক: ছবি তো একটা সময়ের দলিল। অনেক তরুণ ছেলে রিসার্চ করে। তারা বলেছে অনেক পুরনো ছবি পাওয়া যায় না। ভাল-মন্দের গুণাগুণ বিচার পরের কথা। ছবিটাই নেই। অর্পিতা: শুধু ছবি নয়, যেগুলো আমাদের গর্বের বিষয় সেগুলোও হারিয়ে যাচ্ছে। সৌমিত্র: ধরো এর পরে যদি 'গল্প হলেও সত্যি' ছবিটা না পাওয়া যায়, তাহলে তো একটা সময়ের প্রেক্ষাপট, দলিলই হারিয়ে যাবে। অনীক: আমি বলছি 'সীমাবদ্ধ' র কথা। বরুণদার (বরুণ চন্দ) চরিত্রটা আমার আগের ছবিতেই আছে, যার শুরুর জীবনটা 'সীমাবদ্ধ'র নায়ক শ্যামলেন্দু চ্যাটার্জী চরিত্রের সঙ্গে মেলে।  যেটাও বরুণদাই করেছিলেন। আমি ভেবেছিলাম 'ভবিষ্যতের ভূত' ছবিতে কিছু দৃশ্য, স্টিল ব্যবহার করব 'সীমাবদ্ধ'র। সেটা করতে বাবুদার (সন্দীপ রায়) থেকে অনুমতি নিলাম। তারপর খুঁজতে খুঁজতে প্রযোজককে বার করলাম। কিন্তু আসল প্রিন্ট কার কাছে আছে, কেউ জানে না। বাবুদাও জানেনা। সৌমিত্র: 'সংসার সীমান্তে' বলে একটা ছবি অত্যন্ত গুরত্বপূর্ণ। সন্ধ্যা রায় আর আমি ছিলাম। তরুণ মজুমদারের ছবি। সেটা আর পাওয়া যায় না। ভাবতে পারো? দ্য ওয়াল: তনুবাবুর 'একটুকু বাসা' নেই। মৃণাল সেনের ছবি 'পুনশ্চ', আপনি আর কণিকা মজুমদার ছিলেন। সেটাও নেই। সৌমিত্র: ঠিক। কত পুরনো ছবির নাম মনে করালে। একটাও নেই। কোনও সংরক্ষনের চিন্তা-ভাবনা বাংলা ইন্ডাস্ট্রি কোনও দিন করেনি। যত দিনে সেটা করতে আরম্ভ করল অর্ধেক ছবিই শেষ। অনীক: আর্কাইভ ভ্যালু রাখতে হলে ডিজিটালাইজড করতে হবে। তরুণ মজুমদার আছেন অথচ ওঁনার ছবি নেই, কী আর বলব। 'শ্রীমাণ পৃথ্বীরাজ' এখনও চালিয়ে দিলে ঘরভর্তি লোক নিখাদ আনন্দ পাবে। সৌমিত্র: এরকম কিছু ছবি খুঁজে পাওয়া গেছে। যেমন তপন সিনহার আমার অভিনীত 'ক্ষুধিত পাষান' ছিল না। তারপর কার এক জনের কাছে ব্যক্তিগত সংগ্রহ থেকে উদ্ধার করা হয়েছে। অবিশ্বাস্য রকমের দুঃখজনক। মানুষের কাজের যে এই অবস্থা হতে পারে তা নিয়ে কিছু বলার ভাষা নেই। সত্যজিৎ রায় আর মার্লোন ব্রান্ডোর একটা আলাপচারিতা হয়েছিল। কথোপকথনের প্রায় সবটাই রের্কড করেন সত্যজিৎ। কিন্তু ভাবতে পারো, সেটা নেই! ইন্ডিয়ান টেলিভিশনের কাছে সেটা নেই-- কী দুর্ভাগ্যজনক! অনীক: একটাই ছবি দেখেছিলাম কোনও একটা ফেস্টিভালের সত্যজিৎ বাবু। ব্ল্যাক স্যুট-টাই পরে, পাশে মার্লোন ব্রান্ডো বসে। ওঁদের পাশে বসা তিন জন মহিলাই কিন্তু সত্যজিৎ বাবুর দিকে তাকিয়ে আছেন। দ্য ওয়াল: 'ভবিষ্যতের ভূত' রিলিজের সময় অনেক সমস্যা হয়েছে। 'বরুণবাবুর বন্ধু' হল পাচ্ছে ঠিকঠাক? অনীক: এখনও হল অবধি বিষয়টা পৌঁছয়নি। এটা প্রযোজকদের দায়িত্ব। আশা করি সমস্যা হবে না। জানি না, এ ব্যাপারে আমার কোনও রকম ভূমিকা নেই। দেখা যাক কী হয়। তবে সব পরিচালকই চান, আরও বেশি দর্শক তাঁর ছবি দেখুন। দ্য ওয়াল: সুরিন্দর ফিল্মস একসময় পাগলু টু, রংবাজ করেছে। সব হার্ডকোর কর্মাশিয়াল মুভি। তারাই আবার 'বরুণবাবুর বন্ধু' প্রযোজনা করার সাহস দেখাচ্ছে। অনীক: প্রযোজকের সঙ্গে কথা বলে খুব ভাল লেগেছে। এমন একটা ছবি করতে আগ্রহ দেখিয়েছে। আর দেখো সব ছবি কিন্তু আলটিমেটলি কর্মাশিয়াল। টিকিট বেচেই ছবি চালাতে হবে। দ্য ওয়াল: ছবি নিয়ে দর্শকদের কী বলবেন। অনীক ছাড়া সবাই মিলেই প্রায় সমস্বরে বলে উঠলেন, হলে এসে বাংলা ছবি দেখুন। অনীক: আমি বাংলা ছবি দেখুন বলে কিছু স্পেসিফাই করছি না। ভাল ছবি অবশ্যই দেখুন। ভাল ছবির কথা সকলকে বলুন। বরুণবাবু এমন একটা গল্প যেটা সকলের ভাল লাগবে। তবে অবশ্যই এ ছবি ছোটদের ছবি নয়। পরিণতমনস্ক মানুষেরাই আসুন, দেখুন।

আরও পড়ুন: ‘সাঁঝবাতি’র শ্যুটিংয়ে উত্তমকুমারের গল্প শুনিয়েছেন সৌমিত্র! এক্সক্লুসিভ আড্ডায় মন খুললেন দেব


```