Date : 15th Apr, 2026 | Call 1800 452 567 | info@thewall.in
IPL 2026: টানা চতুর্থ হারে কোণঠাসা কেকেআর, ৩২ রানে ম্যাচ জিতল সিএসকে‘ভূত বাংলো’য় সেন্সর বোর্ডের কাঁচি! বাদ গেল ৬৩টি দৃশ্য, ছবির দৈর্ঘ্য কমতেই চিন্তায় অক্ষয়ভোটের ডিউটিতে কড়া নিয়ম! প্রিসাইডিং ও সেক্টর অফিসারদের জন্য একগুচ্ছ নির্দেশিকা কমিশনের'বন্ধু' মোদীকে ফোন ট্রাম্পের! ৪০ মিনিট ধরে হরমুজ প্রণালী নিয়ে কী আলোচনা হল?লোকাল ট্রেনের টিকিটে বিরাট ছাড়! ৫ টাকার টিকিট এখন কত পড়বে? জেনে নিন বিস্তারিতTB Vaccine: যক্ষ্মা প্রতিরোধে কতটা সফল নতুন টিকা? ট্রায়ালের রিপোর্টে আশার আলোর পাশাপাশি উদ্বেগের সুর বিজ্ঞানীদের'বাঙালি ব্রিটিশদের সামনে মাথা নত করেনি, আর এই বহিরাগতরা আমাদের কী করবে?' বিজেপিকে তোপ অভিষেকেরসাইলেন্ট লাং ডিজিজ: কাশি মানেই কি ক্যানসার? দূষণে ফুঁসছে ফুসফুস, কখন দরকার ট্রান্সপ্লান্ট?'ইগো সরিয়ে রাখুন', নিজেদের মধ্যে মতভেদ সরিয়ে এক হয়ে লড়ার নির্দেশ অভিষেকেরভাইরাল ভিডিও হাতিয়ার করে শাহের তোপ! হুমায়ুনকে ‘দিদির এজেন্ট’ বলে কটাক্ষ স্বরাষ্ট্রমন্ত্রীর

অপু থেকে ক্ষিদ্দা, ফেলু থেকে রাজা লিয়র- দীর্ঘ এক পথচলার গল্প (১৯৩৫-২০২০)

শাশ্বতী সান্যাল সেটা সম্ভবত ১৯৫৫ সাল। 'অপু-ট্রিলজি'র দ্বিতীয় ছবি, 'অপরাজিত'র শুটিং চলছে। সিনেমার জন্য অনেকদিন থেকেই একটি নতুন মুখের সন্ধানে ছিলেন সত্যজিৎ রায়। আচমকাই আলাপ হয়ে যায় বছর কুড়ির এক সুদর্শন যুবকের সঙ্গে। মনে মনে পছন্দ হলেও কাস্টি

অপু থেকে ক্ষিদ্দা, ফেলু থেকে রাজা লিয়র- দীর্ঘ এক পথচলার গল্প (১৯৩৫-২০২০)

শেষ আপডেট: 15 November 2021 15:01

শাশ্বতী সান্যাল

সেটা সম্ভবত ১৯৫৫ সাল। 'অপু-ট্রিলজি'র দ্বিতীয় ছবি, 'অপরাজিত'র শুটিং চলছে। সিনেমার জন্য অনেকদিন থেকেই একটি নতুন মুখের সন্ধানে ছিলেন সত্যজিৎ রায়। আচমকাই আলাপ হয়ে যায় বছর কুড়ির এক সুদর্শন যুবকের সঙ্গে। মনে মনে পছন্দ হলেও কাস্টিং-এর সময় বয়সে আটকে গেল। আসলে 'অপরাজিত'র জন্য আরও একটু কমবয়সী অপুর সন্ধানে ছিলেন সত্যজিৎ। কিন্তু মেধাবী চোখের ঝকঝকে চেহারার যুবকটিকে যে তিনি মোটেও ভোলেননি, তা বোঝা গেল বছর কয়েক পরেই। ১৯৫৯ সালে সেই তরুণকেই নায়ক করে প্রকাশ পেল এই ট্রিলজির শেষ ছবি 'অপুর সংসার'। যুবক অপূর্ব'র ভূমিকায় সেই প্রথম বড়পর্দায় এসে দাঁড়ালেন সৌমিত্র চট্টোপাধ্যায় (Soumitra Chatterjee) নামের বছর চব্বিশের এক লম্বা, দোহারা, গৌরবর্ণ তরুণ। সেদিন প্রথম দর্শনেই যে ম্যাজিক তৈরি হয়েছিল রুপোলি পর্দায়,সে মুগ্ধতা পরবর্তী ষাট বছরেও কাটিয়ে উঠতে পারেনি আবহমান বাংলা ছবির দর্শকেরা। স্নিগ্ধ শহরে অপুর সঙ্গে ‘সুখপাঠ’, রয়ে গেল তাঁর কণ্ঠের রেশ চট্টোপাধ্যায় পরিবারের আদি বাড়ি ছিল পূর্ববঙ্গের কুষ্টিয়ায়, শিলাইদহের কাছে কয়া গ্রামে। স্বাধীনতার অনেক বছর আগেই অবশ্য সপরিবারে নদিয়ার কৃষ্ণনগরে চলে আসেন তাঁরা। তারপর সেখানেই পাকাপাকি বাস। শিক্ষিত,রুচিশীল পরিবারের সন্তান সৌমিত্র চট্টোপাধ্যায়। তাঁর কথাবার্তা, রুচি, ভাষাব্যবহারে সেই পারিবারিক পরিমার্জনার ছাপ বয়ে বেড়িয়েছেন আজীবন। বাবা মোহিত কুমার চট্টোপাধ্যায় প্রথমজীবনে কলকাতা হাইকোর্টের ওকালতি করতেন, পরে যোগ দেন সরকারি চাকরিতে। পিসিমা তারাদেবীর সঙ্গে বিয়ে হয় 'স্যার' আশুতোষ মুখোপাধ্যায়ের বড় ছেলে কলকাতা হাইকোর্টের জাস্টিস রমাপ্রসাদ মুখোপাধ্যায়ের। সৌমিত্র'র জন্ম কিন্তু এই কলকাতা শহরেই। ১৯৩৫ এর ১৯শে জানুয়ারি শিয়ালদার কাছে মির্জাপুর স্ট্রিটে ( বর্তমানে সূর্য সেন স্ট্রিট) মোহিত চট্টোপাধ্যায় ও আশালতা চট্টোপাধ্যায়ের ঘরে জন্মালেন সৌমিত্র। কলকাতায় জন্মালেও তাঁর জীবনের প্রথম দশ বছর কেটেছে কৃষ্ণনগরেই। সেখানকার সেন্ট জন্স স্কুলে ক্লাস ফাইভ অব্দি পড়াশোনাও করেন তিনি। বাবার বদলির চাকরি, সেই সূত্রে স্কুলও বদলাতে থাকে কিশোর সৌমিত্রর। ইস্কুলজীবনের শেষ কয়েক বছর কেটেছে হাওড়া জেলা স্কুলে। তারপর কলকাতার সিটি কলেজ থেকে প্রথমে আইএসসি, তারপর বাংলায় সাম্মানিক স্নাতক। বি এ অনার্স পাশ করার পর পোস্ট গ্র‍্যাজুয়েট কলেজ অফ আর্টসে দুবছর পড়াশোনা করেন। রক্তে অভিনয় নিয়ে জন্মেছিলেন সৌমিত্র৷ নাট্যচর্চার জন্য সেসময় প্রসিদ্ধ ছিল কৃষ্ণনগর। চারপাশে ছোটো ছোটো অনেক নাটকের দল। সৌমিত্র চট্টোপাধ্যায়ের ঠাকুরদা ছিলেন তেমনই একটি দলের প্রেসিডেন্ট৷ বাবা মোহিত চট্টোপাধ্যায়ও কমবয়সে বহু অ্যামেচার অভিনয় করেছেন। বিদ্যালয় জীবনেই অভিনয়ে হাতেখড়ি হয়ে গিয়েছিল কিশোর সৌমিত্রর। স্কুলের বেশ কিছু অনুষ্ঠানে তাঁর অভিনয় নজর কেড়েছিল দর্শকদের। থিয়েটারের প্রতি আগ্রহ উত্তরোত্তর বাড়ছিল। অনুঘটকের ভূমিকায় কাজ করেছিল বন্ধু মৃত্যুঞ্জয় শীলের সাহচর্য। খুব ছোট বয়স থেকে মঞ্চ চিনলেও সৌমিত্র চট্টোপাধ্যায়ের অভিনয় জীবনের প্রথম গুরু ছিলেন অহীন্দ্র চৌধুরী। তাঁর হাতেই অভিনয়ের খুঁটিনাটি শিক্ষা। কলেজে ফাইনাল ইয়ার তখন, সুযোগ এল একটি নাটকে শিশির ভাদুড়ির অভিনয় দেখার। মঞ্চে সেদিন শিশির ভাদুড়ির ওই দাপুটে অভিনয় দেখে কি শিহরিত হয়েছিলেন কলেজ পড়ুয়া সেই তরুণ? সেই রাত্রেই কি সিদ্ধান্ত নিয়েছিলেন, অভিনয়কেই বেছে নেবেন আগামী জীবনে? সেসব জানার উপায় আর না থাকলেও এটা বলাই যায় মঞ্চে শিশির ভাদুড়ির সেই কালজয়ী অভিনয় সৌমিত্র'র জীবনের মোড় ঘুরিয়ে দিয়েছিল। নিজেও পরে বহুবার নানা সাক্ষাৎকারে বলেছেন সে কথা। সেই মুগ্ধতার রেশ এত তীব্র ছিল যে, বন্ধুর মা অভিনেত্রী শেফালিকা পুতুলের কাছে রীতিমত দরবার করে দেখা করার ব্যবস্থা করলেন শিশিরবাবুর সঙ্গে। ১৯৫৯ এর ৩০শে জুন শিশির ভাদুড়ির মৃত্যুর আগে পর্যন্ত তাঁদের সেই যোগসূত্র অক্ষুণ্ণ ছিল। অভিনেতা হিসাবেই জীবন শুরু করার কথা ছিল। কিন্তু মঞ্চে বা রুপোলি পর্দায় নয়, সৌমিত্র চট্টোপাধ্যায় তাঁর পেশাদার জীবন শুরু করেন অল ইন্ডিয়া রেডিওতে একজন ঘোষক হিসাবে। বেতারে চাকরি করলেও বুকের গভীর থেকে একদিনের জন্যও মুছে ফেলেননি অভিনয়ের স্বপ্ন। বাধা আসছিল। 'অপরাজিত'য় কয়বয়সী কিশোর 'অপু'র ভূমিকায় অভিনয়ের সুযোগ হাতছাড়া হল। ১৯৫৭ এ ছুটলেন কার্তিক চট্টোপাধ্যায়ের ছবি 'নীলাচলে মহাপ্রভু'র স্ক্রিন টেস্ট দিতে। কিন্তু সেখানেও সহায় হল না ভাগ্য। ফিরে আসতে হল খালি হাতেই। সেদিন বোধহয় অলক্ষ্যে হেসেছিলেন অভিনয়ের ঈশ্বর। ১৯৫৮, শুটিং চলছে জলসাঘরের। সেটে হাজির ছবি বিশ্বাস, সত্যজিৎ রায়। দর্শক হিসাবে এসেছেন সৌমিত্র চট্টোপাধ্যায়ও। সেট ছেড়ে বেরোতে যাবেন, এমন সময় আচমকা তাঁর দিকে আঙুল তুলে ঘোষণা করলেন সত্যজিৎ রায় - "এই ছেলেটি, সৌমিত্র চট্টোপাধ্যায়, আমার পরের ছবি 'অপুর সংসার'এ অপুর ভূমিকায় অভিনয় করবে"। বিস্ময়ে হতবাক হয়ে দাঁড়িয়ে পড়েছিলেন সৌমিত্র। ক্যামেরার সামনে অভিনয়ের অভিজ্ঞতা একেবারেই নেই, তার উপর নিজের লুক নিয়ে কিছুতেই সন্তুষ্ট হতে পারছেন না। কী ভীষণ দ্বিধা তখন! এত বড় চিত্রপরিচালক, এত নামডাক, পারবেন তো তাঁর আস্থার উপযুক্ত হতে! পারলেন। ১৯৫৮র ৯ই অগস্ট, শুরু হল 'অপুর সংসার'এর শ্যুটিং। আর কী আশ্চর্য, রিটেক লাগল না, প্রথম শটেই ওকে। তারপর,‌ বলাই বাহুল্য, বাকিটা ইতিহাস... শুধু সত্যজিৎ রায়ের সঙ্গেই কাজ করেছেন নয় নয় করে ১৪টা সিনেমায়। এর পাশাপাশি তৎকালীন বাংলা ছায়াছবিতে উত্তম কুমারের প্রতিদ্বন্দ্বী নায়ক হিসাবেও তাঁর জয়যাত্রা শুরু। একসঙ্গে কাজও করেছেন ঝিন্দের বন্দি, দেবদাস, স্ত্রী সহ আটটি সিনেমায়। অবশ্য নায়ক নয়, নিজেকে বরাবর চরিত্রাভিনেতা ভাবতেই ভালোবাসতেন সৌমিত্র৷ নায়ক সুলভ ম্যানারিজমে বিশ্বাস রাখেননি কখনও। চরিত্রের গহনে ডুব দিয়ে তাকে জীবন্ত করে তুলতেই চেয়েছেন আজীবন। ভাবলেও অবাক লাগে কী সব চরিত্রে অভিনয় করেছেন! 'অরণ্যের দিনরাত্রি'র শহুরে যুবক 'অসীম' থেকে 'অশনিসংকেত' এর গ্রাম্য মাঝবয়েসী গঙ্গাচরণ; 'ঝিন্দের বন্দি'র সুদর্শন অথচ ক্রূর যুবরাজ 'ময়ূরবাহন' থেকে 'তিন ভুবনের পারে'র নিখাদ প্রেমিক; 'অভিযান'এর ট্যাক্সি ড্রাইভার 'নরসিং' থেকে 'হীরক রাজার দেশে'র উদয়ন পণ্ডিত। আর 'ফেলুদা'র কথা নাই বা বললাম! অমন আইকনিক গোয়েন্দা চরিত্রে বাংলা সিনেমার দর্শকেরা আজও মজে আছে। শোনা যায় প্রথমে ফেলুদা চরিত্রে সৌমিত্রকে ভাবেনইনি সত্যজিৎ। কিন্তু সোনার কেল্লা প্রকাশের পর সত্যজিৎ রায় স্বীকার করে নিয়েছিলেন, সৌমিত্র চট্টোপাধ্যায়ের চেয়ে ভালো আর কেউ এই চরিত্রটি নির্মাণ করতে পারতেন না। প্রভাব কতটা তীব্র, সেটা বোঝা যায় ১৯৭০এর পর প্রকাশিত ফেলুদা সিরিজের বইগুলোতে সত্যজিৎ রায়ের ইলাস্টেশন থেকে। ফেলুদা আর সৌমিত্র স্রষ্টার কলমেও এক হয়ে গেছে ততদিনে। শুধু বাংলাতেই তাঁর অভিনীত ছায়াছবির সংখ্যা দুশো ছাড়িয়েছে অনেক দিন আগেই। সত্যজিৎ রায় ছাড়াও অভিনয় করেছেন তপন সিংহ, মৃণাল সেন, তরুণ মজুমদার, অজয় করের মতো পরিচালকদের সঙ্গে। আসুন চোখ বুলিয়ে নিই তাঁর অভিনীত কিছু বিশেষ সিনেমায়- ১৯৫৯   অপুর সংসার ১৯৬০    ক্ষুধিত পাষাণ ১৯৬০    দেবী ১৯৬১    স্বরলিপি ১৯৬১    সমাপ্তি তিনকন্যা ১৯৬১    স্বয়ম্বরা ১৯৬১    পুনশ্চ ১৯৬১   ঝিন্দের বন্দি ১৯৬২   শাস্তি ১৯৬২   অতল জলের আহ্বান ১৯৬২   আগুন ১৯৬২   বেনারসী ১৯৬২   অভিযান ১৯৬৩   সাত পাকে বাঁধা ১৯৬৩   শেষ প্রহর ১৯৬৩   বর্ণালী ১৯৬৪   প্রতিনিধি ১৯৬৪   চারুলতা ১৯৬৪   কিনু গোয়ালার গলি ১৯৬৪   অয়নান্ত ১৯৬৫   বাক্স বদল ১৯৬৫   কাপুরুষ ১৯৬৫   একই অঙ্গে এত রূপ ১৯৬৫  একটুকু বাসা ১৯৬৫   আকাশ কুসুম ১৯৬৬   মনিহার ১৯৬৬   কাচ কাটা হীরে ১৯৬৬   অঙ্গীকার ১৯৬৬   জোড়া দিঘির চৌধুরী পরিবার ১৯৬৭   হঠাৎ দেখা ১৯৬৭   প্রস্তর স্বাক্ষর ১৯৬৭   অজানা শপথ ১৯৬৭   মহাশ্বেতা ১৯৬৮   পরিশোধ ১৯৬৮   বাঘিনী ১৯৬৯   তিন ভুবনের পারে ১৯৬৯   পরিণীতা ১৯৬৯   অপরিচিত ১৯৬৯   চেনা অচেনা ১৯৬৯   বালক গদাধর ১৯৭০   অরণ্যের দিনরাত্রি ১৯৭০   আলেয়ার আলো ১৯৭০   পদ্ম গোলাপ ১৯৭০   প্রথম কদম ফুল ১৯৭১   মাল্যদান ১৯৭১   খুঁজে বেড়াই ১৯৭১   সংসার ১৯৭২   স্ত্রী ১৯৭২   জীবন সৈকতে ১৯৭২   অপর্ণা ১৯৭৩   নতুন দিনের আলো ১৯৭৩   বসন্ত বিলাপ ১৯৭৩   নিশিকন্যা ১৯৭৩   অশনি সংকেত ১৯৭৩   রক্ত (বিলেত ফেরত ) ১৯৭৩   শেষ পৃষ্ঠায় দেখুন ১৯৭৩   অগ্নি ভ্রমর ১৯৭৩   এপার অপার ১৯৭৪  সোনার কেল্লা ১৯৭৪   সঙ্গিনী ১৯৭৪   অসতী ১৯৭৪   যদি জানতেম ১৯৭৪   সংসার সীমান্তে ১৯৭৬   দত্তা ১৯৭৮   জয় বাবা ফেলুনাথ ১৯৭৯   নৌকাডুবি ১৯৭৯   দেবদাস ১৯৭৯   গণদেবতা ১৯৮০   হীরক রাজার দেশে ১৯৮১   খেলার পুতুল ১৯৮৩   অমর গীতি ১৯৮৪   কোণি ১৯৮৪   ঘরে বাইরে ১৯৮৬   শ্যাম সাহেব ১৯৮৭   একটি জীবন ১৯৮৮   লা ন্যুই বেঙ্গলি (Nuit Bengali, La) ১৯৮৯   গণশত্রু ১৯৯০   শাখাপ্রশাখা ১৯৯২   তাহাদের কথা ১৯৯২   মহাপৃথিবী ১৯৯৪   হুইল চেয়ার ১৯৯৪   উত্তরণ ১৯৯৪   সোপাণ ১৯৯৬   বৃন্দাবন ফিল্ম স্টুডিয়োজ (Vrindavan Film Studios) ১৯৯৯   অসুখ ২০০০   পারমিতার একদিন ২০০১   দেখা ২০০২   সাঁঝবাতির রূপকথারা ২০০২   আবার অরণ্যে ২০০৩  পাতালঘর ২০০৪   Schatten der Zeit (শ্যাডোস অফ টাইম ) ২০০৫   ফালতু ২০০৫   নিশিযাপন, ২০০৫   ১৫ পার্ক অ্যভিনিউ ২০০৬   দ্য বঙ কানেকশন ২০০৭   চাঁদের বাড়ি ২০০৯  অংশুমানের ছবি ২০১২   লাইফ ইন পার্ক স্ট্রিট ২০১৫   বেলাশেষে ২০১৫   অহল্যা (short film) রুপোলি পর্দায় অভিনয় করলেও শুরুর থিয়েটারের দিনগুলিকে ভোলেননি কখনো। মৃত্যুঞ্জয় শীল তখন অভিনয়ের মধ্যগগনে... ব্যক্তিগত কী এক কারণে একটি নাটকে অভিনয় করতে পারলেন না তিনি। পরিবর্তে এগিয়ে দিলেন অভিন্নহৃদয় বন্ধু সৌমিত্রকে৷ সেটা ১৯৫৮ সাল৷ রুপোলি পর্দায় প্রায় দুই দশকের ব্যস্ত অভিনয় জীবন পার করে ১৯৭৮ এ আবার মঞ্চে ফিরলেন সৌমিত্র চট্টোপাধ্যায়। বিশ্বরূপা থিয়েটারে শুরু করলেন দ্বিতীয় ইনিংস। তারপর একের পর এক মঞ্চসফল নাটকে আমরা দেখলাম তাঁকে - রাজকুমার (১৯৮২), ফেরা (১৯৮৭), নীলকণ্ঠ (১৯৮৮), ঘটক বিদায় (১৯৯০), দর্পণে শরৎশশী (১৯৯২), চন্দনপুরের চোর (১৯৯৪), টিকটিকি (১৯৯৫), প্রাণতপস্যা (১৯৯৮) থেকে এই দশকের হোমাপাখি (২০০৬), বা রাজা লিয়ার (২০১০)। সুমন মুখোপাধ্যায়ের নির্দেশনায় শেক্সপিয়রের 'কিং লিয়ার' এর অনুকরণে 'রাজা লিয়ার' নাটকে স্নেহান্ধ রাজা লিয়ারের ভূমিকায় তাঁর সেই চিরস্মরণীয় অভিনয় আজীবন মনে রাখবেন বাংলা থিয়েটারের দর্শকেরা। চুটিয়ে কাজ করার পাশাপাশি মিলেছে স্বীকৃতিও। দেশে বিদেশে পেয়েছেন একের পর এক সম্মাননা। ১৯৭০ এ পদ্মশ্রী নিতে অস্বীকার করেন। ফরাসি পরিচালক ক্যাথেরিন বার্জ সৌমিত্রকে বিষয় করে তৈরি করেছেন এক পূর্ণদৈর্ঘ্যের ডকুমেন্টরি, নাম 'গাছ'। ফ্রান্স সরকারের তরফ থেকে পেয়েছেন লাইফ টাইম এচিভমেন্ট অ্যাডওয়ার্ড 'officers des Arts et Metiers'. কলাক্ষেত্রে এটিই ফ্রান্সের সর্বশ্রেষ্ঠ সম্মাননা। ১৯৯৮ এ পেয়েছেন সঙ্গীত নাটক একাডেমি পুরস্কার। ২০০৪ এ ভারত সরকারের পক্ষ থেকে তাঁকে দেওয়া হল 'পদ্মভূষণ' সম্মাননা। ২০০৭ এ ন্যাশনাল ফিল্ম এওয়ার্ড পেলেন 'পদক্ষেপ'এর সেরা অভিনেতা হিসাবে। 'অংশুমানের ছবি(২০০৯)তে সেরা পার্শ্বচরিত্র হিসাবে ২০১০ এ 'এশিয়া-প্যাসেফিক' চলচ্চিত্র উৎসবে সম্মানিত করা হল সৌমিত্র চট্টোপাধ্যায়কে। চলচ্চিত্রে সারাজীবনের অবদানের জন্য ২০১২ তে পেলেন 'দাদাসাহেব ফালকে' পুরস্কার। ২০১৪য় 'রূপকথা নয়' সিনেমায় সেরা পুরুষ চরিত্র হিসবে পেলেন ফিল্মফেয়ার অ্যাওয়ার্ড। অবশ্য এর আগে ১৯৯৪ এও আঞ্চলিক বিভাগে ফিল্মফেয়ার জিতেছিলেন তিনি। পেয়েছেন ফ্রান্সের সেরা নাগরিক সম্মান 'লেজিয়ন অফ অনার'ও। গত ৫ অক্টোবর আচমকা অভিনেতার কোভিড-১৯ রিপোর্ট পজিটিভ আসে। পরের দিনই অতি দ্রুত হাসপাতালে ভর্তি করা হয় সৌমিত্র চট্টোপাধ্যায়। তাঁর চিকিৎসায় নিয়োজিত ছিল প্রায় ২৯ জন ডাক্তারের একটি দীর্ঘ টিম। দু-সপ্তাহে করোনা মুক্ত করা সম্ভব হলেও, কোভিড পরবর্তী শারীরিক জটিলতায় ভুগছিলেন সৌমিত্রবাবু। শেষ পর্যন্ত বাধ সাধল কো-মর্বিডিটি ফ্যাক্টর। দিনে দিনে নিভে আসছিল আলো। গত তিনদিন তাঁর শারীরিক পরিস্থিতি ঘোরতর সংকটজনক হয়ে যায়। কোনোরকম চিকিৎসাতেই আর সাড়া দিচ্ছিল না তাঁর স্নায়ু। ডাক্তারদের সব প্রচেষ্টা, এত এত মানুষের প্রার্থনা সব ব্যর্থ করে অবশেষে সব লড়াই শেষ হল রবিবার। সবাইকে চোখের জলে ভাসিয়ে বাঙালির চোখের মণি সৌমিত্র চট্টোপাধ্যায় সত্যি সত্যিই হাঁটা দিলেন 'তিন ভুবনের পারে'।  

*চিত্রঋণ -- (ছোটোবেলার ছবি) - শ্রীমান রজত চক্রবর্তী  

(কলেজ জীবনের ছবি )- শ্রী সম্রাট মুখোপাধ্যায়

পড়ুন দ্য ওয়ালের সাহিত্য পত্রিকা 'সুখপাঠ'

```