কথায় বলে চল্লিশে চালশে, আর পঞ্চাশে? পানসে? ফিকে জীবন, পছন্দের রঙ ধূসর, রোম্যান্স যেন পর্ণমোচী! শত্তুরের মুখে ছাই দিয়ে পঞ্চাশ বছরের মিস, থুড়ি, মিসেস জোজো পার করেছেন বিবাহিত জীবনের ৩১টা বছর।

শেষ আপডেট: 28 May 2025 20:14
দ্য ওয়াল ব্যুরো: কথায় বলে চল্লিশে চালশে, আর পঞ্চাশে? পানসে? ফিকে জীবন, পছন্দের রঙ ধূসর, রোম্যান্স যেন পর্ণমোচী! শত্তুরের মুখে ছাই দিয়ে পঞ্চাশ বছরের মিস, থুড়ি, মিসেস জোজো পার করেছেন বিবাহিত জীবনের ৩১টা বছর। তাঁর রোম্যান্স যেন দুরন্ত এক্সপ্রেস। এর ভাল সম্পর্ক, এত সুন্দর প্রেম, তবু কেন স্বামীর সঙ্গে তথাকথিত সংসার নেই তাঁর?
তা নিয়ে প্রশ্ন নেহাত কম নয়, মাঝেমধ্যেই রটে বিচ্ছেদের গুঞ্জনও। দ্য ওয়ালের প্রশ্নেই এবার সেই 'লং ডিস্ট্যান্স সম্পর্ক' নিয়ে অকপট জোজো। একই সঙ্গে জানালেন, কেন স্বামীর সঙ্গে থাকা হয় না তাঁর?
জোজোর ভালবাসার মানুষের নাম কিংশুক মুখোপাধ্যায় ওরফে বাবলু। ছোটবেলাতেই আলাপ দু'জনের। জোজো গান গাইতেন আর ওই একই গ্রুপে কি-বোর্ড বাজাতেন কিংশুক। জোজোর কথায়, "সেখান থেকেই আমাদের প্রেমে পড়া। জীবনে হিসেবে মেনে কিছু করিনি। সেরকম এই হিসেব না মানার গল্প হল আমাদের বিয়ে। শো-য়ে গিয়েছি। হঠাৎ করেই ঠিক করি বিয়ে করব! বাবাকে চিঠি লিখি। বাবা খুব একটা খুশি হননি। আমি সটান কিংশুকের বাড়ি গিয়ে ওর মাকে বলে দিই ইচ্ছের কথা! ওনার তো মাথায় হাত! বিয়ের মতো এত বড় জিনিস, সময় তো লাগবেই। কিন্তু আমি যে, ওঠ জোজো , তোর বিয়ে! এক সপ্তাহের মধ্যেই প্রণামীর সব শাড়ি নিজেই আয়োজন করে ফেললাম। মাসি শাশুড়ির বাড়িতেই হয়ে গেল আমাদের বিয়েটা।" তিনি যোগ করেন, "মা আসেননি। রেগে ছিলেন। বাবারও একই গল্প। আমরা যদি বিয়ে করে তখন বেজায় খুশি। বেশ কিছু বছর পর আমাদের পরিবার বাড়ল। এল আমাদের ছোট্ট সোনা বাজো, আমাদের মেয়ে।"

সব কিছু ভালই চলছিল। এক শীতের সকালে মেয়েকে নিয়ে চিড়িয়াখানা বেড়াতে গিয়েছিলেন জোজো ও বাবলু। সেখানেই পশুপাখির সমাগম দেখে মেয়ের কী আনন্দ।
জোজোর কথায়, "বলতে থাকে, এমন একটা জায়গায় থাকতে চায় যেখানে হাত বাড়ালেই প্রকৃতি, পাখির ডাক আর রকমারি পশুর সমাগম। মেয়ের ইচ্ছে পূর্ণ করতে কিংশুকের মাথায় খেলে যায় এক অভাবনীয় আইডিয়া। একটা ফার্মহাউজ করলে কেমন হয়! কোথায়? উত্তরবঙ্গে।জায়গা ঠিক হয় গরুমারা। কেনা হয় জমি হয়। তৈরি হয় রিসোর্ট। জোজো-কিংশুকের স্বপ্ন, বাজোর ইচ্ছে উড়াল দেয় এক নতুন পথে।"

কলকাতা থেকে গরুমারা-- গন্তব্য খুব একটা দূরে না হলেও বারবার যাতায়াত করা সম্ভব নয়। তাই ঠিক হয়, মেয়ের ছুটিতে, মায়ের ছুটিতে তাঁরা দৌড়ে যাবে বাবার কাছে। ছুঁয়ে দেখবে প্রকৃতি। পশুর দেখাও মিলবে অহরহ। শাশুড়ি থাকেন মাইসোর। সময় পেলে তিনিও চলে আসবেন। সেই প্র্যাক্টিস এখনও চলছে।
গায়িকা বলছিলেন, "এরকম ভাবেই ৩১ টা বছর কেটে গেল আমাদের। চুপিচুপি জানিয়ে রাখি, চিলাপাতাতেও নতুন রিসর্ট-এর কাজ শুরু হয়েছে আমাদের। গসিপ করতে চাইলে সেখানেও আসতে পারেন কিন্তু। আমি-কিংশুক অপেক্ষা করব। এর বেশি আর কিচ্ছু বলার নেই। কে বলেছে লং ডিস্টেন্স শুধু প্রেমের সম্পর্কেই হয়? আমাদেরটা ধরে নিন 'লং ডিসটেন্স ম্যারেজ'।