
শেষ আপডেট: 29 October 2023 13:21
দ্য ওয়াল ব্যুরো: নয়ের দশকে যে ক’জন গায়ক মৌলিক বাংলা গানে নবজোয়ার এনেছিলেন, তাঁদের মধ্যে অন্যতম শিলাজিৎ মজুমদার। কবির সুমন, অঞ্জন দত্ত, নচিকেতা চক্রবর্তীর পাশাপাশি নিজের আলাদা শ্রোতা, অনুরাগীর দল তৈরি করে নিয়েছিলেন তিনি। শুধু গান নয়, অভিনয় জগতেও তিনি সমানভাবে সাবলীল। এবার সেই গায়ক ফেসবুকে তাঁর গানচুরির মতো অভিযোগ আনলেন। কেরিয়ারের শুরু থেকেই তাঁর গান অন্যরা নিজেদের নামে চালানোর চেষ্টা করেছেন বলেও জানান শিলাজিৎ।
গায়কের ক্ষোভ মূলত নতুন প্রজন্মের একাংশ সঙ্গীতশিল্পীকে নিয়ে। যাঁরা ‘লাল মাটির সরানে’ নামের একটি গানকে প্রচলিত বলে কভার করে তা নিজেদের ইউটিউব চ্যানেল বা ফেসবুক পেজে পোস্ট করছেন। আর সেই রাগই শনিবার রাতে বিস্ফোরণের আকারে আছড়ে পড়েছে ফেসবুকে। শিলাজিৎ লিখেছেন, “আমি অবাক হয়ে গেলাম দেখে কেউ কেউ এই গানটা গেয়ে প্রচলিত বলে ছাপ মেরে পাবলিশ করছে নিজের চ্যানেল থেকে। মেমোরিসাইড? নাকি গুরুদেবদের কাছে শেখা, ঝেঁপে দাও তারপর ধরা পড়লে বলো জানতাম না।”
এখানেই থামেননি তিনি। এরপর শিলাজিৎ আরও লেখেন, “এই গানটার মধ্যে সাঁওতালি ভাষাতে যে দু’লাইন—এ দুলৌর মায়না আমা ওরা ওকারে, এ দুলোর ময়না তিগুন মেসেনা’টুকু লিখে দিয়েছিল নরেন হাঁসদা। সেটাও প্রচলিত নয়।” তবে এখনই কোনও আইনি পদক্ষেপ করতে চান না গায়ক। তিনি হুঁশিয়ারি দিয়ে বলেছেন, এরপর শুভবুদ্ধির উদয় হলেই ভাল। তবে শিলাজিৎ লিখেছেন, “কোনও গান, যার সঠিক কাগজপত্র রয়েছে আমার নামে, সেটা থেকে যদি আমার অধিকার কেউ কেড়ে নিতে চায়, তাঁকে তো গান চোরও বলতে পারবো না, এ তো ডাকাতি!”
শিলাজিতের এই পোস্ট শেয়ার করে রূপম ইসলাম লিখেছেন, “এ আবার কী? লাল মাটির সরানে শিলাজিৎ মজুমদারের অরিজিনাল গান। একে প্রচলিত ছাপ দেওয়া অত্যন্ত অন্যায়। অনুরোধ— শিলাদার পোস্টটি পড়ুন। ছড়িয়ে দিন।” অন্যদিকে সঙ্গীতশিল্পী তমালকান্তি হালদার বহুদিন যাবৎ শিলাজিতের সঙ্গে গানবাজনা করেছেন। তাঁর গান এভাবে দিনদুপুরে ‘চুরি’ হওয়া নিয়ে বেজায় ক্ষুব্ধ তিনিও। ফেসবুক পোস্টটি শেয়ার করে তমাল লেখেন, “লাল মাটির সরানে শিলুদার লেখা-সুর। এইরকম একটা গান এক এবং একমাত্র শিলুদাই বানাতে পারে! সেরকম ‘পিঁদারে পলাশের বন’ গানটিও প্রচলিত নয়। যাঁরা জানেন না, তাঁরা আর একটু চোখ-কান খোলা রাখুন।”