২৫ জুন ২০২৫। ভারতীয় বায়ুসেনার গ্রুপ ক্যাপ্টেন শুভাংশু শুক্লা ইতিহাস গড়লেন। প্রায় ৪১ বছর পর, কোনও ভারতীয় মহাকাশে পা রাখলেন।

শেষ আপডেট: 25 June 2025 17:05
দ্য ওয়াল ব্যুরো: ২৫ জুন ২০২৫। ভারতীয় বায়ুসেনার গ্রুপ ক্যাপ্টেন শুভাংশু শুক্লা ইতিহাস গড়লেন। প্রায় ৪১ বছর পর, কোনও ভারতীয় মহাকাশে পা রাখলেন। নাসা-সমর্থিত অ্যাক্সিয়ম-৪ অভিযানে পাইলট হিসেবে মহাকাশযানে যাত্রা শুরু করলেন শুভাংশু। আর সেই ঐতিহাসিক মুহূর্তে, যাত্রা শুরুর দিন তাঁর প্লে-লিস্টে বাজছিল এক বিশেষ গান—‘ইউঁ হি চলে চল’।
এই গানটি শাহরুখ খানের ‘স্বদেশ’ ছবির। এক বিজ্ঞানীর নিজের দেশ এবং শিকড়ে ফিরে আসার গল্প এই সিনেমার কেন্দ্রে, আর শুভাংশু শুক্লার নিজেই যেন সেই চরিত্রের রূপ। গানটি গেয়েছেন উদিত নারায়ণ, কৈলাশ খের এবং হরিহরণ। সুর দিয়েছেন অস্কারজয়ী এ আর রহমান এবং কথা লিখেছেন কবি ও গীতিকার জাভেদ আখতার।
যাত্রার আগে গাইলেন কেন?
এই প্রশ্নের উত্তর অনেক সময় নিজেই গান দিয়ে মেলে। ‘ইউঁ হি চলে চল’—এই গান শুধু একটি সুর নয়, বরং এক ধরনের আত্মবিশ্বাস, যাত্রা শুরুর উৎসাহ, নিজের লক্ষ্য ছুঁয়ে ফেলার এক অনুপ্রেরণা। সম্ভবত এই কারণেই শুভাংশুর মত এক নভোচরের যাত্রার শুরুতে এই গানকেই বেছে নিয়েছিলেন তিনি।
বাকি নভোচারীদের পছন্দ?
শুধু শুভাংশু নন, অ্যাক্সিয়ম-৪ মিশনের বাকি তিন নভোচারীরও ছিল নিজেদের পছন্দের গান।
* মিশনের কমান্ডার পেগি হুইটসনের পছন্দ ছিল ইম্যাজিন ড্রাগনস-এর ‘Thunder’
* পোল্যান্ডের নভোচারী স্লাওস উজনানস্কি-উইসনিয়েস্কি বেছে নিয়েছিলেন ‘Supermoce’
* হাঙ্গেরির টিবর কাপু শুনেছেন ‘Búvóhely’ গানটি
ফ্লোরিডার কেনেডি স্পেস সেন্টার থেকে বহু প্রতীক্ষিত অ্যাক্সিয়ম-৪ মিশন উৎক্ষেপণ হয় ২৫ জুন দুপুর ১২টা ১ মিনিটে। মহাকাশযাত্রার এই দিনটি শুধু শুভাংশুর জন্য নয়, ভারতের জন্যও এক ঐতিহাসিক দিন হয়ে উঠল। ১৯৮৪ সালে রাকেশ শর্মার পর এই প্রথম কোনও ভারতীয় নভোচর মহাকাশে পা রাখলেন।
স্পেসএক্স-এর ড্রাগন ক্যাপসুলে চার নভোচর পাড়ি দেন আন্তর্জাতিক মহাকাশ কেন্দ্রে (ISS)। যাত্রা শুরুর কিছুক্ষণের মধ্যেই শুভাংশু পৃথিবীকে কেন্দ্র করে ঘুরছিলেন প্রতি সেকেন্ডে ৭.৫ কিমি বেগে। তখন তিনি পৃথিবীতে পাঠান এক বার্তা: “নমস্কার, আমার প্রিয় দেশবাসী। ৪১ বছর পর আমরা আবার মহাকাশে এসেছি। আমার কাঁধে আজ ভারতের তেরঙা। এই তেরঙা আমাকে মনে করিয়ে দেয়, আমি আপনাদের সঙ্গেই আছি। এটা শুধু আমার ISS যাত্রার শুরু নয়, এটা ভারতের হিউম্যান স্পেসফ্লাইট প্রোগ্রামের শুরু। আসুন, এই যাত্রায় আমরা সবাই একসঙ্গে হই।”