পুরীর সমুদ্রতটে গোধূলির শান্ত আলোয় শেষ হল সৃজিত মুখোপাধ্যায়ের ‘লহ গৌরাঙ্গের নাম রে’-র শুটিং। শেষ ক্ল্যাপ পড়ল নরম বালিতে, নিঃশব্দে থেমে গেল ক্যামেরা, কিন্তু যেন থামল না আবেগের ঢেউ।

শুটিং শেষ
শেষ আপডেট: 18 July 2025 19:15
পুরীর সমুদ্রতটে গোধূলির শান্ত আলোয় শেষ হল সৃজিত মুখোপাধ্যায়ের ‘লহ গৌরাঙ্গের নাম রে’-র শুটিং। শেষ ক্ল্যাপ পড়ল নরম বালিতে, নিঃশব্দে থেমে গেল ক্যামেরা, কিন্তু যেন থামল না আবেগের ঢেউ।
সকালের শুরুটা ছিল শুভশ্রী গাঙ্গুলির শেষ অভিনীত দৃশ্য দিয়ে। সবুজ বালুচরী শাড়ি, গলায় ভারী গয়না, চোখে-মুখে যেন বিদায়ের ছায়া—সে মুহূর্তে তিনি যেন নটী বিনোদিনী হয়ে উঠলেন সত্যি। ব্রাত্য বসুর গিরীশচন্দ্র ঘোষের (ব্রাত্য বসু) সঙ্গে অন্তিম সাক্ষাতের দৃশ্যে মিশে গিয়েছিল বাস্তব আর অভিনয়ের সীমারেখা।
‘কাট’ বলার পর শুভশ্রীর চোখের জল যেন সেই মিশে যাওয়ার প্রমাণ হয়ে রইল...
দুপুর গড়িয়ে বিকেল। ইউনিটে ছিল কাজের ব্যস্ততা, তবুও যেন সবার মনে একটা চাপা আবেগ—আজ যে বিদায়ের দিন। পুরীতে চলা ‘লহ গৌরাঙ্গের নাম রে’ ছবির শুটিংয়ের শেষ দিন। দিনের আলো নিভে আসছিল ধীরে ধীরে, আর সেই সঙ্গে যেন সৃজিত মুখার্জির মনের ভেতরও জমছিল এক নীরব ভালোবাসার অনুভব—যার নাম ‘সিনেমা’।
বিকেলের শুটিং শুরু হল একটু ধীর লয়ে, যেন কেউই তাড়াহুড়ো করতে চাইছিলেন না। কারণ, এটিই যে শেষ সিকোয়েন্স। আর সেই দৃশ্যেই ইন্দ্রনীল সেনগুপ্ত এলেন মহাপ্রভুর রূপে। বৈদিক সাজ, সোমনাথ কুণ্ডুর মেক আপ—সব মিলিয়ে যেন ফ্রেমজুড়ে ছড়িয়ে পড়ল এক অপার্থিব ছায়া। গৌরাঙ্গ অবতারে তাঁর উপস্থিতি শুধু ক্যামেরার চোখ নয়, ছুঁয়ে গেল সবার হৃদয়ও।
সেই মুহূর্তের সাক্ষী ছিলেন ইশা সাহা, সুস্মিতা চট্টোপাধ্যায়, দেবদূত ঘোষ আর সুরজিৎ বন্দ্যোপাধ্যায়। প্রত্যেকেই দাঁড়িয়ে রইলেন চুপচাপ, যেন নিজের ভেতরে ধারণ করছিলেন সেই আধ্যাত্মিক অনুভব, যা কেবল কিছু দৃশ্য নয়—একটি যাত্রার অন্তিম স্পর্শও।

শেষ শটে ক্ল্যাপবোর্ড বন্ধ হতেই সৃজিতের চোখেও জল। মৃদু হেসে বললেন, “এটা এক রকম postpartum depression... সিনেমা আমার সন্তান।” কথার পরেও খানিকক্ষণ নীরবতা।
যেন ছবির অন্তিম মুহূর্তেও আবেগের ঢেউ ছড়িয়ে দিল গোটা ইউনিটে।
পুরীর সৈকতে নীল জলরেখার দিকে তাকিয়ে দু’হাত জোড় করলেন পরিচালক। এক নিঃশব্দ কৃতজ্ঞতা—প্রকৃতির, চরিত্রদের, আর এই অনুভবের। ছবির পোস্ট-প্রোডাকশনের কাজ এখনও বাকি, বড়দিনে মুক্তি পাবে ‘লহ গৌরাঙ্গের নাম রে’, কিন্তু এই মুহূর্তটা থেকে যাবে ইতিহাসে। এই ছবি শুধুমাত্র আর একটি সিনেমা নয়, হয়ে উঠল এক স্মৃতির দলিল।
আজ অভিনয় শেষ হল, শব্দ থেমেছে, ক্যামেরা বন্ধ—তবু বোধ হয় সৃজিতের মনের পর্দায় বাজতে থাকবে ‘বিনোদিনী’, ’গৌরাঙ্গ’, আর এক নিঃশব্দ ভালোবাসার অমোঘ রাগ।