
মহাদেবের উপাসক দিব্যজ্যোতি
শেষ আপডেট: 26 February 2025 21:21
মহাশিবরাত্রি (Maha Shiv Ratri) পালন বা না পালন করার হাজারটি ইতিবাচক ও নেতিবাচক মন্তব্যে সকাল থেকেই ছয়লাপ সামাজিক মাধ্যম। শিবলিঙ্গে দুধ ঢালা নিয়ে রঙ্গ-রসিকতারও বিরাম নেই। পাল্টা আক্রমণও চলছে জোরকদমে। এই সব হ্যাঁ-না -এর মাঝেই সকাল থেকেই শুটিংয়ে ব্যস্ত অভিনেতা দিব্যজোতি চৌধুরী।
দরাজ গলায় বহু আগেই অভিনেতা ঘোষণা করেছেন তিনি শিবভক্ত। শুধু তাই নয়, ব্যস্ততার মধ্যে মন্দিরে যাবেন, পুজো করবেন সেই শক্তি যে শক্তির উপাসক তিনি বহু বছর ধরে! মহাশিবরাত্রি উদযাপন করলে নাকি মেলে শিবের মতো বর! আর পুরুষদের ক্ষেত্রে? শিবের মতো বউ? ঠিক কী কারণে এই বিশেষ দিন পালন করেন তিনি? দ্য ওয়ালের সঙ্গে কথা বলতে গিয়ে এক চরম আত্মোপলব্ধির কথা উঠে এল টলিপাড়ার 'ডাক্তারবাবুর' কথায়।
"শিবরাত্রি আমার কাছে আবেগ। অনেক বছর ধরে করে আসছি। এ বছরও করছি। এই শিবরাত্রিকে জড়িয়ে আমার আস্থা আমার বিশ্বাস। কে বলেছে শিবরাত্রি শুধু মেয়েরাই ভাল স্বামী পালন করার জন্য করে থাকেন। শিব তো সবার। তিনি লিঙ্গ ভেদাভেদ কিছুই দেখেন না।", একটানা কথাগুলো বলে চলেন দিব্য। গলায় ঝরে পড়তে থাকে আবেগ। জেন-জি'র নো-কেয়ার অ্যাটিটিউড নয়, অভিনেতা টেনে আনলেন গীতা-পুরাণ প্রসঙ্গও।" বলছিলেন, "যদি গীতা অনুসরণ করি, সেখানে বলা আছে, 'আমি আত্মা, আমি সবকিছু'। প্রশ্ন হল, এই পরআত্মা কে? শ্রীকৃষ্ণ কিন্তু নিজেকে বলছেন না, আমি সব কিছু। এখানে আমি মানে পরআত্মা। মানে যিনি কৃষ্ণ, তিনিই মহাদেব। তিনিই সব কিছু। দিনের শেষে সব কিছুই এক। আমাদের এই বিশ্ব তৈরি হয় পদার্থ ও শক্তি দিয়ে। পদার্থ হল বাইরের আবরণ। আর ভিতরে যা লুকিয়ে আছে তা হল আমাদের শক্তি।"
শিবলিঙ্গে জল অথবা দুধ ঢালা নিয়ে হাসাহাসিরও শেষ নেই। দিব্যজ্যোতি মনে করেন না বুঝেই এই সব নিয়ে মতামত দিয়ে থাকেন এক শ্রেণীর মানুষ। যোগ করলেন, "অনেকেই শিবলিঙ্গ নিয়ে নানা কুমন্তব্য করেন, ব্যঙ্গ করে থাকেন। বাহ্যিক মানে নিয়ে অনেক সময়ে হাসাহাসি করেন। আমার কাছে শিবলিঙ্গের অর্থ হল স্বরূপ। আমি যেমন 'M' , পুংলিঙ্গ। তেমন শিবলিঙ্গ হল তাঁর স্বরূপ, কসমিক এনার্জি। আমরা সেই শক্তির পূজারি। যারা শিবলিঙ্গ নিয়ে উলটোপালটা কথা বলে, মানে তৈরি করে, তাদের আমার কিছুই বলার নেই। যে শিবলিঙ্গকে আমরা পূজা করি তা হল পদার্থ। সেখান থেকে যে স্বর্গীয় শক্তি নির্গত হয় তা হল উর্জা।" বরাহনগর অঞ্চলের বছর ২৩-এর জনৈক রোহিত আজই তাঁর বন্ধুদের বাড়িতে ডেকেছে গঞ্জিকা সেবনের কারণে। আইনত তা নিষিদ্ধ হলেও এখন নাকি ট্রেন্ড এটাই। তাঁর উপর শিবরাত্রি।
খানিক যেন উত্তেজিতই শোনাল দিব্যজ্যোতিকে। বলছিলেন, "এটি একদম ভুল কথা। কোনও পুরাণে উল্লেখ নেই শিবঠাকুর গাঁজা খেতেন। শিবঠাকুর বিষ পান করেছিলেন। তিনি নিজেই তো একটা নেশা। যাকে দেখে কত দেব-দেবী-প্রাণী মোহিত হয়েছেন তাঁর আলাদা করে নেশার কী দরকার। প্রশ্ন উঠতেই পারে, কালভৈরবের মন্দিরে কেন মদ চড়ানো হয়? ঠাকুরকে মদ পান করতে দেওয়া হয় না। ওটা একটা রূপক। এটাই বলা, 'ঠাকুর আমার মধ্যে যাবতীয় নেতিবাচকতাকে তুমি নিয়ে নাও। আমায় তুমি সুমতি দাও।" ভোলানাথকেই আদর্শ মনে করেন দিব্যজ্যোতি। পার্টিতে তাঁর আসক্তি। পরিবার তাঁর কাছে সবার আগে। ভালবাসতে জানেন। ভালবাসার মানুষকে সম্মান দিতেও জানেন যথাযথ। তাঁর কথায়, "শিবঠাকুর ত্যাগের ঠাকুর, তিনি রাজবেশ ছেড়ে তিনি সারাদিন জপ করেন। এই ভারসাম্য রক্ষা করতেই শিব শিখিয়েছেন আমায়। শিখিয়েছেন কীভাবে বিষ ও অমৃত দুই শরীরে ধারণ করা যায়।" শেষ কথাগুলো বলতে বলতেই কেমন যেন গলা কেঁপে গেল তাঁর। পিছন থেকে ডাক পড়ল শটে যাওয়ার।