
শেখর রাভজিয়ানি
শেষ আপডেট: 19 November 2024 17:06
দ্য ওয়াল ব্যুরো: সঙ্গীত পরিচালক হলেও তাঁর গাওয়া গানের সংখ্যা বলিউডে নেহাতই কম নয়। তাঁর নাম উঠলে আরেকজনের নামও সমানভাবে উঠে আসে। তিনি বিশাল দাদলানি। একসঙ্গে জুটি বেঁধে একের পর এক গান উপহার দিয়েছেন দু’জনে। কিন্তু সেই সম্পর্কে এখন আগের মতো নেই। বন্ধু হলেও পথ এখন আলাদা। ভাল করে ঘেঁটে দেখলেও কেউ মনে করতে পারবেন শেখর রাভজিয়ানির শেষ গাওয়া গান কোনটি বা শেষ কোন সিনেমায় সঙ্গীত পরিচালনা করেছেন তিনি? না, এ প্রশ্নের উত্তর ইন্টারনেট না ঘেঁটে বলা মুশকিল।
কিন্তু বিশাল-শেখর জুটির কাজ নিয়ে প্রশ্ন ওঠার অবকাশ কম। দু’জনে একসঙ্গে মিলে কাজ করলেও এমনও নিদর্শন ভুরিভুরি আছে যেখানে অন্য সঙ্গীত পরিচালকদের সুরে গানও গেয়েছেন। সেই তালিকায় বিশাল কিছুটা এগিয়ে শেখরের অনেক গানই দর্শকদের মণিকোঠায় জায়গা করে নিয়েছে। তার মধ্যে সবার প্রথমেই উঠে আসে স্টুডেন্টস অফ দ্য ইয়ার সিনেমার ‘ইশক ওয়ালা লাভ’। রয়েছে স্টুডেন্ট অফ দ্য ইয়ার-২-এর ‘দ্য হুক আপ সং’, 'জেহনসিব'। কিন্তু সময় যত গড়াতে থাকে ধীরে ধীরে গানের জগত থেকে সরে যাচ্ছিলেন শেখর। ২০২৪ সালে জানুয়ারি মাসে ফাইটার ছবিতে জুটি বেঁধেছিলেন বিশালের সঙ্গে।
এবার নিজের জীবনের এক অন্ধকার অধ্যায় সোশ্যাল মিডিয়ায় শেয়ার করেছেন জনপ্রিয় এই সঙ্গীত পরিচালক। তাঁর গল্প শুনে রীতিমতো চোখ কপালে উঠেছে অনুরাগীদের। শেখর জানিয়েছেন, দু’বছর আগে কণ্ঠস্বর হারিয়ে ফেলেছিলেন। হ্যাঁ, শুনতে অবাক লাগলেও এটাই সত্যি।
কী হয়েছিল শিল্পীর?
সোমবার ইনস্টাগ্রামে একটা পোস্ট করেছেন তিনি। সেখানেই নিজের জীবনের একটি অধ্যায় তুলে ধরেছেন। বিশাল জানিয়েছেন, রোগটির নাম ‘লেফট ভোকাল কর্ড পেরেসিস। চিকিৎসক নূপুর নেরুকারের নাম মনে করিয়ে তিনি লেখেন, উনিই আমার রোগ ধরতে পেরেছিলেন। যখন আমি আমার রোগের কথা জানতে পারি আমার সামনে সবকিছু অন্ধকার হয়ে গেছিল। আমি ভেবে নিয়েছিলাম, আর হয়তো কখনও আমি গান গাইতে পারব না। এই রোগটি নির্ণয় করেন বিশেষজ্ঞ ডঃ নূপুর নেরুকার। আর এটা জানার পরই আমি ধ্বংস হয়ে গিয়েছিলাম। সত্যি বলতে, আমি হতাশ ছিলাম... ভেবেছিলাম আর কখনো গান গাইতে পারব না।’
View this post on Instagram
শেখর আরও মনে করিয়ে দেন, পরিবারের লোকেদের পাশাপাশি আমিও একেবারে ভেঙে পড়েছিলাম। শুধু ভগবানের কাছে প্রার্থনা করতাম। কিন্তু গান না গাইলেও কাজ বন্ধ করে বসে থাকিনি। মাঝে কয়েক সপ্তাহের জন্য সান দিয়েগো গেছিলাম। সেখানে জেরেমি নামে একজনের সঙ্গে আমার দেখা হয়। সেখানেই তিনি আমাকে একজন দেবদূতের সঙ্গে দেখা করিয়ে দেন। তাঁর নাম ডঃ এরিন ওয়ালশ। পরে কখনও তাঁর সম্পর্কে বিস্তারিত জানাব।
ডঃ ওয়ালশ কীভাবে তাঁর জীবনে মোড় ঘুরিয়ে দিলেন সে গল্প শুনিয়েছেন বিশিষ্ট এই সঙ্গীত পরিচালক। তিনি বলেন, কোভিডের কারণে আমাদের সামনাসামনি দেখা না হলেও আমি ওঁর সঙ্গে জুম কলে কথা বলতাম। আমি কেঁদে জানিয়েছিলাম, আমি গান গাইতে চাই। কিছু একটা করুন। চিকিৎসকের জোগানো আত্মবিশ্বাসের কারণে ধীরে ধীরে গলার সুর ফেরে তাঁর।
এখানেই থেমে না থেকে শেখর জানিয়েছেন, বর্তমানে তিনি সম্পূর্ণ সুস্থ। এখন আমার আত্মবিশ্বাস আরও বেড়ে গেছে। আগের থেকেও বেশি ভাল গান আমি গাইতে পারি। তবে গায়ক বা সঙ্গীত পরিচালক হিসাবে নন, অভিনেতা হিসাবেও তিনি প্রশংসিত হয়েছেন। ২০১৬ সালে নীরজা ছবিতে অভিনয় করেন শেখর।