দ্য ওয়াল ব্যুরো: পর্নোগ্রাফিক কন্টেন্ট তৈরি, অ্যাপের মাধ্যমে স্ট্রিমিংয়ের অভিযোগে গ্রেফতার রাজ কুন্দ্রা। কিন্তু স্বামীকে নির্দোষ বলে সার্টিফিকেট দিচ্ছেন শিল্পা শেট্টি। মুম্বই পুলিশ সূত্রে সংবাদ সংস্থা এএনআইকে জানানো হয়েছে, শিল্পা দাবি করেছেন, ইরোটিকা অর্থাত যৌন কামনার উদ্রেক ঘটানো কনটেন্ট আর পর্নোগ্রাফি এক নয়। রাজ পর্নোগ্রাফিক ছবি তৈরিতে জড়িত নন বলে জানিয়েছেন বলিউড অভিনেত্রী। শুক্রবার সন্ধ্যায় শিল্পা, রাজের বাসভবনে গিয়ে তাঁকে জিজ্ঞাসাবাদ করে মুম্বই পুলিশ। রাজের পর্নোগ্রাফি কনটেন্ট নির্মাণে জড়িত থাকার অভিযোগ সম্পর্কে শিল্পা কিছু জানেন কিনা, খতিয়ে দেখতেই তাঁকে জিজ্ঞাসাবাদ করা হয় বলে সূত্রের খবর। শিল্পা নাকি জেরায় বলেছেন, রাজের হটশটস মোবাইল অ্যাপে ঠিক কী ধরনের কনটেন্ট বেরয়, সে ব্যাপারে তাঁর কিছু জানা নেই। ওই অ্যাপের মাধ্যমেই রাজ পর্নোগ্রাফি সম্প্রচার করতেন বলে অভিযোগ। পুলিশ জানিয়েছে, শিল্পা বলেছেন, আরেক অভিযুক্ত লন্ডন-নিবাসী প্রদীপ বক্সি হটশটস অ্যাপের সঙ্গে যুক্ত। বক্সি সম্পর্কে রাজের শ্যালক।
গতকাল চলতি সপ্তাহে গ্রেফতার রাজকে ২৭ জুলাই পর্যন্ত পুলিশ হেফাজতে পাঠানো হয়েছে। এ ব্যাপারে ৪৮ টিবি ছবি, ভিডিও বাজেয়াপ্ত করেছে, যার অধিকাংশই প্রাপ্তবয়স্কদের কনটেন্ট। তাদের হাতে রাজের নামে নথিভুক্ত ইয়েস ব্যাঙ্কের একটি অ্যাকাউন্ট থেকে ইউনাইটেড ব্যাঙ্ক অব আফ্রিকার অ্যাকাউন্টে লেনদেনের নথি আছে। তারা এপর্যন্ত সাড়ে সাত কোটি টাকা বাজেয়াপ্ত করেছে। পর্নোগ্রাফিক কনটেন্ট বিক্রির অর্থ অনলাইন বেটিংয়ে খাটত বলে সন্দেহের কথাও বলেছে পুলিশ।
গতকালের শুনানিতে রাজের কৌঁসুলি আবাদ পন্ডা বাজেয়াপ্ত কনটেন্টকে পর্নোগ্রাফি বলে মানতে চাননি। তাঁর সওয়াল, ওই কনটেন্ট তথ্যপ্রযুক্তি আইনের ৬৭ ধারার আওতায় আসতে পারে না কেননা একই ধরনের কনটেন্ট নেটফ্লিক্সের মতো ওটিটি প্ল্যাটফর্মেও পাওয়া যায়। প্রসঙ্গত, ৬৭ ধারায় জামিন মেলে না। এমন কনটেন্ট আসতে পারে কেবলমাত্র ভারতীয় দণ্ডবিধির ২৯২ ধারায়,যা ‘কামলালসাপূর্ণ’ পণ্যের মোকাবিলা করে। রাজকে আর হেফাজতে রাখার দরকার নেই বলে সওয়াল করেন তিনি।
রাজ কোনও অন্যায় করেছেন, মানতে রাজি হননি। তিনিও প্রদীপ বক্সিকেই মূল মাথা বলে উল্লেখ করেন। কিন্তু পুলিশ জানিয়ছে, রাজকে অ্যাপের মাধ্যমে আর্থিক প্রাপ্তির ব্যাপারে নিয়মিত আপডেট দেওয়া হয়েছে। তিনি কনটেন্ট তৈরি, বিতরণ, বিক্রির ব্যাপারে আলোচনার জন্য একটি হোয়াটসঅ্যাপ গ্রুপও খোলেন।
রাজ বম্বে হাইকোর্টে নিজের গ্রেফতারিকে চ্যালেঞ্জ করেন, পুলিশি হেফাজতের মেয়াদ বৃদ্ধির নিম্ন আদালতের আদেশও খারিজ করার আবেদন করেন। তাঁর পিটিশনে বলা হয়েছে, তাঁকে বক্তব্য নথিভুক্ত করতে থানায় ডেকে পাঠানোর নাম করে গ্রেফতার করা হয়েছে। পাল্টা পুলিশের দাবি, রাজই মামলার মুখ্য চক্রী, তাঁর বিরুদ্ধে পর্নোগ্রাফিক ক্লিপ, তাঁর অফিসে পাওয়া ইমেল সহ তাদের হাতে যথেষ্ট তথ্যপ্রমাণ আছে।