
ওটিটি প্ল্যাটফর্ম এবং সোশ্যাল মিডিয়ায় সহজলভ্য ‘অশ্লীল’ কনটেন্ট?
শেষ আপডেট: 28 April 2025 12:51
দ্য ওয়াল ব্যুরো: ওটিটি প্ল্যাটফর্ম এবং সোশ্যাল মিডিয়ায় সহজলভ্য ‘অশ্লীল’ কনটেন্টের উপর নিষেধাজ্ঞা আরোপের দাবিতে দায়ের হয়েছিল এক পিটিশন। আদালতের কজ লিস্ট অনুযায়ী, বিচারপতি বি. আর. গাভাই এবং বিচারপতি অগাস্টিন জর্জ মাসিহের বেঞ্চ এই মামলাটি শোনা হল। মামলাটির মূল দাবি—ওটিটি প্ল্যাটফর্ম এবং সোশ্যাল মিডিয়া যেন নিয়মের আওতায় আসে এবং খোলামেলা বা যৌন উত্তেজক দৃশ্যের ওপর যেন কঠোরভাবে নিয়ন্ত্রণ আরোপ করা হয়। আদালতের এই পদক্ষেপ বেশ চর্চার বিষয় হয়ে ওঠে, বিশেষ করে যারা মনে করেন পরিবার নিয়ে ওটিটি কনটেন্ট দেখা দিন দিন কঠিন হয়ে পড়ছে।
আজ, সুপ্রিম কোর্ট ওটিটি ও সোশ্যাল মিডিয়া প্ল্যাটফর্মে যৌনভাবে উদ্দীপক কনটেন্ট স্ট্রিমিং নিষিদ্ধ করার দাবিতে দায়ের করা আবেদনের ওপর কেন্দ্রীয় সরকার ও অন্যান্য পক্ষের কাছ থেকে জবাব চায়।
SC seek responses from Centre, others on plea to prohibit streaming of sexually explicit content on OTT, social media platforms
— Press Trust of India (@PTI_News) April 28, 2025
সূত্রে মারফত জানা গেছে, পিটিশনকারীরা দেশের শীর্ষ আদালতের কাছে অনুরোধ করেছেন, যেন কেন্দ্রীয় সরকারকে নির্দেশ দেওয়া হয় একটি 'ন্যাশনাল কনটেন্ট কন্ট্রোল অথরিটি' গঠনের জন্য। এর মূল লক্ষ্য হবে অনলাইনে পর্নোগ্রাফি ও অশ্লীল সামগ্রী নিয়ন্ত্রণ এবং প্রতিরোধ করা। পিটিশনকারীদের অভিযোগ, এখন কোনও কঠোর নিয়ম না থাকায় অনলাইন দুনিয়ায় অবাধে ছড়িয়ে পড়ছে এ সব কনটেন্ট, আর কিছু ওটিটি প্ল্যাটফর্ম তো এমন কনটেন্টও দেখাচ্ছে, যা শিশু পর্নোগ্রাফির পর্যায়ে পড়তে পারে।
পিটিশনে বলা হয়েছে, ‘এ ধরনের বিকৃত যৌন কনটেন্ট তরুণ, শিশু, এমনকি প্রাপ্তবয়স্কদের মনও বিষিয়ে তুলছে। এর ফলে সমাজে বিকৃত ও অস্বাভাবিক যৌন প্রবণতার বৃদ্ধি ঘটছে এবং ক্রাইম রেটও বেড়ে যাচ্ছে।’ পিটিশনকারীদের সতর্কবার্তা, এখনই যদি ব্যবস্থা না নেওয়া হয়, তবে তা সমাজের মূল্যবোধ, মানুষের মানসিক স্বাস্থ্য এবং জননিরাপত্তার উপর মারাত্মক প্রভাব ফেলবে।
পিটিশনকারীরা দাবি করেছেন, বিভিন্ন সময়ে প্রশাসনের কাছে অভিযোগ জানানো হলেও কার্যকর কোনও পদক্ষেপ নেওয়া হয়নি। তাদের বক্তব্য, সংবিধান অনুযায়ী সরকারকে জনগণের নৈতিকতা রক্ষা এবং দুর্বল গোষ্ঠীগুলিকে সুরক্ষিত রাখার দায়িত্ব পালন করতে হবে, যাতে ডিজিটাল প্ল্যাটফর্ম অপরাধপ্রবণতার আঁতুড়ঘর না হয়ে ওঠে।
সবচেয়ে বড় উদ্বেগ প্রকাশ করা হয়েছে শিশু-কিশোরদের সহজে অশ্লীল কনটেন্টে প্রবেশাধিকার পাওয়া নিয়ে।
পিটিশনে আরও দাবি করা হয়েছে, যতক্ষণ না পর্যন্ত একটি কার্যকর ব্যবস্থা গড়ে তোলা হচ্ছে, ততদিন সাময়িকভাবে সোশ্যাল মিডিয়া ও ওটিটি প্ল্যাটফর্মগুলির অ্যাক্সেস বন্ধ রাখা হোক। তারা আরও দুটি বিশেষ কমিটি গঠনের প্রস্তাব দিয়েছেন — একটি কমিটি হবে একজন প্রাক্তন সুপ্রিম কোর্টের বিচারপতি এবং অন্যান্য বিশেষজ্ঞদের নিয়ে, যাঁরা ওটিটি কনটেন্ট স্ক্রিনিং ও সার্টিফিকেশনের কাজ করবেন (ঠিক সিনেমার জন্য যেভাবে সিবিএফসি কাজ করে)। আরেকটি কমিটি থাকবে মানসিক স্বাস্থ্য বিশেষজ্ঞ এবং রিহ্যাবিলিটেশন কাউন্সিল অফ ইন্ডিয়া স্বীকৃত মনোবিদদের নিয়ে, যারা দেশজুড়ে অশ্লীল কনটেন্টের মানসিক ও সামাজিক প্রভাব নিয়ে গবেষণা করবেন।