
শেষ আপডেট: 14 June 2023 11:30
বাংলা ছবিতে তাঁকে (Satyajit Ray Actor Kamu Mukherjee) আমরা পেয়েছি ছোট ছোট প্রায় অতিথি শিল্পীর চরিত্রে অথচ তুচ্ছ চরিত্রেও তিনি রয়ে গেছেন আমাদের মনের মণিকোঠায়। বিশেষত সত্যজিৎ রায়ের ছবিতে অভিনয় করেই তাঁর নাম, যশ, খ্যাতি। কিন্তু সত্যজিৎ-ছবিতেও তিনি অতিথি শিল্পী গোছের রোলেই বেশিরভাগ। জীবনে বড় রোল খুব বেশি পাননি এই বলিষ্ঠ অভিনেতা। আফসোস করে তিনি সত্যজিৎ রায়কে বলেছিলেন যে তাঁকে কেন সবসময় ছোট চরিত্রেই কাস্ট করেন মানিকদা। সত্যজিৎ রায় তাঁকে বোঝান ছোট চরিত্রে নিজেকে ফুটিয়ে তোলার মধ্যেই অভিনেতার আসল পরিচয়।
ভুল বলেননি সত্যজিৎ। মন্দার বোসের উপস্থিতি ছাড়া পুরো ‘সোনার কেল্লা’ ছবিটাই ফিকে। সেই অভিনেতাটি হলেন কামু মুখোপাধ্যায় (Kamu Mukherjee)।
বাংলা সিনেমার মন্দার বোস তিনি বা 'জয় বাবা ফেলুনাথ'-এ মগনলাল মেঘরাজের সার্কাসের ছোরা খেলোয়াড় অর্জুন। এর বাইরে তাঁকে দর্শক সেভাবে চেনেনা। তাঁর মতো প্রতিভাধর অভিনেতাকে সত্যজিৎ রায় ইউনিটের বাইরে আর কোনও পরিচালক সে অর্থে ব্যবহার করেননি। এমন একজন বলিষ্ঠ অভিনেতার অভিনয়-জীবন সীমাবদ্ধ হয়ে রইল তুচ্ছ খলনায়ক গুন্ডা গোছের রোলের মধ্যেই।
[caption id="attachment_2313918" align="aligncenter" width="390"]
নিমাই ঘোষের ক্যামেরায় মানিক-কামু[/caption]
সত্যজিৎ রায়ের 'নায়ক'-এ কামু মুখোপাধ্যায়কে দেখলে বোঝা যায় সফিস্টিকেটেড রোলও তিনি কত ভাল করতে পারেন, অথচ তাঁর পথচলা থমকে রইল ডাকাত গুন্ডার রোলের মাঝেই। শুধু নায়ক বা নায়িকা দিয়ে একটি সিনেমা সম্পূর্ণ হয় না, চরিত্রাভিনেতাদেরও ভাল রকমের দান থাকে ছবিতে। যদিও আমরা মনে রাখি না। নায়ক নায়িকা পরিচালক নিয়ে বেশি চর্চা হয় আর এঁরা আড়ালেই চিরকাল রয়ে যান।
কামু মুখোপাধ্যায়ের জন্ম ১৪ জুন ১৯৩১ সালে। আজ তিনি বেঁচে থাকলে ৯২ বছর বয়সি হতেন। কামু এমন এক শিল্পী যিনি সত্যজিৎ রায়ের বাড়ি নিজেই চলে গেছিলেন অডিশন দিতে। তার আগে অবশ্যি কামু মুখোপাধ্যায় করে ফেলেছেন উত্তম কুমারের সঙ্গে একটি ছবি 'সোনার হরিণ'। ১৯৫৯ সালে উত্তম-সুপ্রিয়া অভিনীত ‘সোনার হরিণ’ ছবিতে কামু ছিলেন আবদাল্লার চরিত্রে। গুন্ডা গোছের চরিত্র দিয়েই তাঁর চলচ্চিত্র জীবন শুরু। আবদাল্লার চরিত্র বেশ আলোচিত হয়েছিল। ছবি বিশ্বাস, উত্তম কুমার, সুপ্রিয়া দেবী, নমিতা সিংহ, কালী বন্দ্যোপাধ্যায়, ভানু বন্দ্যোপাধ্যায়ের পাশাপাশি নজর কেড়ে নিয়েছিলেন নবাগত কামু।
[caption id="attachment_2313919" align="aligncenter" width="518"]
'সোনার হরিণ' ছবিতে আবদাল্লা[/caption]
কিন্তু কামু (Satyajit Ray Actor Kamu Mukherjee) ভাল চরিত্রের আশায় নিজেই সরাসরি ছুটে গেলেন সত্যজিৎ রায়ের কাছে। নিজের পরিচয় দিয়ে জানান তিনি সত্যজিতের ছবিতে কাজ করতে চান। ব্যস, এইটুকু বলেই তিনি উধাও। সত্যজিৎ কৌতুহলবশে খোঁজ নিয়ে জানতে পারেন, আগন্তুক টালিগঞ্জ পাড়ায় যাতায়াত করেন, ছোটখাটো যে কোনও চরিত্র পেলে কাজ করে থাকেন।
সত্যজিতের সঙ্গে কামুর প্রথম কাজ করার সুযোগ মিলল ‘চারুলতা’ ছবিতে, ভূপতির বন্ধুর চরিত্রে একটিমাত্র দৃশ্যে। ছোট চরিত্র, কিন্তু অসম্ভব অভিজাত মেক-আপ। কিন্তু বেশিটাই ব্যাকসাইডে তিনি ধরা পড়লেন সত্যজিতের 'চারুলতা'য়। ভূপতির বাড়িতে এক ঘরোয়া পার্টির দৃশ্যে, চশমা ঠিক করতে-করতে 'বিশ্ববন্ধু' পত্রিকায় চারুলতার লেখা দেখার একটি শট দিয়েছিলেন কামু। জহুরী জহর চিনতে ভুল করেননি। ঐ দৃশ্যেই সত্যজিৎ বুঝে গেছিলেন কোন মাপের অভিনেতার সন্ধান পেয়েছেন তিনি।
'চারুলতা'য় ছোট্ট এক চরিত্রে কামুর উপস্থিতি[/caption]
এরপরই 'নায়ক'-এ প্রীতিশ সরকারের চরিত্রে কামু মুখোপাধ্যায়। এক উচ্চাকাঙ্ক্ষী মধ্যবিত্ত বাঙালি যে উচ্চবিত্ত সার্কেলে যাবার মোহে সব করতে পারে। তাঁর স্ত্রীকেও নিজের উন্নতির স্বার্থে এগিয়ে দিতে পারে পরপুরুষের মনোরঞ্জন করতে। এই প্রীতিশ সরকার চরিত্রটি ছিল কামু মুখোপাধ্যায়ের নিজের কাছেও খুব পছন্দের চরিত্র।
তাঁর বিপরীতে তাঁর সুন্দরী স্ত্রী মলির চরিত্রে অভিনয় করেছিলেন সুস্মিতা মুখোপাধ্যায়। সুস্মিতা ঐ একটিই বাংলা ছবি করেছেন। সুস্মিতার ফ্যামিলি ব্যাকগ্রাউন্ড ছিল বড়। সেই সূত্রেই সত্যজিৎ-সংযোগ। সুস্মিতার পিতা সুধীররঞ্জন মুখোপাধ্যায় ছিলেন উদয়শঙ্করের জীবনীকার, যে জীবনী তিনি সত্যজিৎ রায়কে উৎসর্গ করেন। সার্কাসের উপর প্রথম বাংলা সাহিত্য তারই রচনা। বইটির নাম 'রাতের খেলা'। সুস্মিতার মা কল্যাণী মুখোপাধ্যায় হলেন বিখ্যাত অভিনেত্রী ললিতা চট্টোপাধ্যায়ের বোন। কল্যাণী দেবীও সাহিত্যিক, তিনি সুজাতা ছদ্মনামে লিখতেন। নিউ থিয়েটার্সে চিত্রনাট্যকারও ছিলেন। সুস্মিতা দেবীর ডাক নাম ছিল খুকু। খুকু নামেই সত্যজিৎ রায় তাঁকে ডাকতেন। খুকু-কামুর স্ক্রিন-দাম্পত্য আজও ভীষণভাবে আইকনিক, কারণ স্বামীর স্বার্থে স্ত্রীর এই টানাপড়েন আজও বাস্তবে প্রতি মুহূর্তে ঘটছে।
সত্যজিৎ রায়ের ছবিতেই কামু মুখোপাধ্যায়ের অভিনয়-প্রতিভা সবথেকে বেশি ব্যবহৃত হয়েছে। কাজ করেছেন ‘নায়ক’, ‘গুপি গাইন বাঘা বাইন’, ‘সোনার কেল্লা’, ‘শতরঞ্জ কে খিলাড়ি’, ‘হীরক রাজার দেশে’, ‘জয় বাবা ফেলুনাথ’, ‘শাখাপ্রশাখা’ ছবিতে।
[caption id="attachment_2313955" align="aligncenter" width="567"]
'শাখাপ্রশাখা'তে বৃদ্ধ কর্তার পরিচর্যাকারী[/caption]
'জয় বাবা ফেলুনাথ' ছবিতে একটিমাত্র দৃশ্যে অর্জুনের ভূমিকায় তাঁর নাইফ থ্রোয়িং-এর খেল। কামুর তখন স্বাস্থ্যবান চেহারা। কিন্তু সত্যজিৎ তাঁকে দিয়ে অভিনয় করালেন এক বৃদ্ধের ভূমিকায়। কী অসাধারণ অভিনয় ফুটিয়ে তুললেন কামু!
[caption id="attachment_2313935" align="aligncenter" width="557"]
মগনলালের নাইফ-থ্রোয়ার অর্জুন[/caption]
'সোনার কেল্লা' ছবির শ্যুটিং-এ সত্যি সত্যি বিছে ধরেছিলেন কামু মুখোপাধ্যায়। কিন্তু পরে তা বাদ চলে যায় সম্পাদকের কাঁচিতে। কারণ সত্যজিৎ রায়ের মনে হয়েছিল, ওই দৃশ্য ছবিতে থাকলে ফেলুদার তুলনায় মন্দার বোসকে বেশি সাহসী মনে হবে। মানিক দা’র এই সিদ্ধান্তে কিছুটা হলেও মনক্ষুণ্ণ হয়েছিলেন কামু। কিন্তু তাঁর আঁচ পড়তে দেননি সম্পর্কে। সত্যজিৎ রায়ের কাছে কামু চিরকাল ছিলেন একজন বিশ্বস্ত, আস্থাভাজন, ভরসাযোগ্য মানুষ।
আউটডোরে সত্যজিতের ইউনিটের সঙ্গে কামু যাচ্ছেন মানে সত্যজিৎ রায় নিশ্চিন্ত। 'জয় বাবা ফেলুনাথ'-এর শ্যুটিং বেনারসের অলিগলিতে। শ্যুট হবে ষাঁড়ের সেই বিখ্যাত দৃশ্য। ষাঁড় আগলে রেখেছে বেনারসের সরু গলি। ফেলুদা আর তোপসে ষাঁড়কে পাশ কাটিয়ে বেরিয়ে গেলেও জটায়ু পারছেন না। কিন্তু সেদিন বেনারসে ষাঁড়ের অভাব পড়েছে। কী হবে? মুশকিল আসান কামু মুখোপাধ্যায় সেই দায়িত্ব নিজেই নিলেন। গোটা শুটিং ইউনিট অপেক্ষা করছে কিন্তু না আসছে ষাঁড়, না দেখা যাচ্ছে কামু মুখোপাধ্যায়কে। অবশেষে তিনি এলেন। কিন্তু ষাঁড় কই? কামু জানালেন, সবজি-আনাজের লোভ দেখিয়ে ষাঁড়কে আনছেন। ষাঁড়ও এল, ষাঁড়ের মালিকও এল। শ্যুট হল দৃশ্য।
[caption id="attachment_2313964" align="aligncenter" width="562"]
'হীরক রাজার দেশে'তে কোষাগার রক্ষী কামু[/caption]
মন্দার বোসের চরিত্র ছাড়া কামুর জীবনের সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ অভিনয় সন্দীপ রায়ের ‘ফটিকচাঁদ’ ছবিতে, যেখানে তিনি ছিলেন মুখ্য ভূমিকায়। হারুন-অল-রশিদের ভূমিকায় দক্ষ বাজিকরের চরিত্রে কামু দুরন্ত। বাংলা ছবির ইতিহাসে একদম ব্যতিক্রমী এই চরিত্রে অসামান্য রূপদান করেছিলেন কামু। তাঁর জীবনে অবশ্যই একটি শ্রেষ্ঠ চরিত্র এবং মুখ্য ভূমিকায় সুযোগ পাওয়া। সন্দীপের 'গুপী বাঘা ফিরে এল'তেও ছিলেন কামু।
[caption id="attachment_2313961" align="aligncenter" width="496"]
ফটিকচাঁদের হারুন-অল-রশিদ[/caption]
সত্যজিতের ছবির বাইরেও কামু মুখোপাধ্যায় অভিনয় করেছেন 'কখনও মেঘ', 'হংসরাজ', 'পাকা দেখা',' ‘কমললতা’, ‘মৌচাক’, ‘স্বয়ংসিদ্ধা’,'কবিতা',' মর্জিনা আবদাল্লা' প্রভৃতি ছায়াছবিতে। এর মধ্যে ‘হংসরাজ’ ছবিতে দালালের চরিত্রে তাঁর অভিনয় মনে রাখার মতো।
[caption id="attachment_2313950" align="aligncenter" width="470"]
'হংসরাজ' এর দালাল[/caption]
কামু মুখোপাধ্যায় আশির দশকে বিশ্বজিতের পরিচালনায় 'শোরগোল' এবং নব্বইয়ের শুরুতে স্মরণ দে পরিচালিত 'পলাতকা' ছবিতে কাজ করেছিলেন। যদিও ছবি দুটি নিয়ে সে অর্থে আলোচনা হয়না। কিন্তু সেকালে চলেছিল।
[caption id="attachment_2313952" align="aligncenter" width="547"]
অরবিন্দ মুখার্জীর 'মৌচাক' এ দারোয়ান চরিত্রে কামু[/caption]
সত্যজিতের বাইরে ভালো পরিচালকদের যেসব ছবি কামু করেছেন তা হল গৌতম ঘোষের 'পার' এবং বুদ্ধদেব দাশগুপ্তর 'বাঘ বাহাদুর', 'ফেরা' ছবিতে তাঁর অসামান্য অভিনয়।
[caption id="attachment_2313954" align="aligncenter" width="571"]
'পার' ছবিতে সর্দারের ভূমিকায় কামু[/caption]
সত্যজিৎ রায়ের সঙ্গে কামুর একটা পারিবারিক সম্পর্ক ছিল। আমুদে রসিক কামু মুখোপাধ্যায় তাঁর রসিকতা থেকে ছাড় দিতেননা রায়-দম্পতিকেও। একবার বিস্কুটে কামড় দিয়ে বিজয়া রায়কে কামুর প্রশ্ন ছিল, ‘‘বৌদি, বিস্কুটে কি সাইলেন্সর লাগিয়েছেন, নাকি?’’ হতভম্ব বিজয়া রায়। বিজয়া রায়কে হাসি থামিয়ে সত্যজিত্ রায় বুঝিয়ে দিয়েছিলেন বিস্কুট মিইয়ে গেছে। তাই মুচমুচে শব্দ ভ্যানিশ করেছে কামু।
https://youtu.be/100pXk6GMcU
কামুর চেহারা ছিল চিরকাল স্বাস্থ্যবান। বিশাল চেহারা ধরে রাখতে কী কী খেতেন কামু?
ব্রেকফাস্টে থাকত কর্নফ্লেক্স, দুধ, কলা, ডিম। তারপর লাঞ্চ থেকে ডিনারে মুরগী, ডিম, পাঁঠা সবই থাকত। এমনকি এই নিয়ম জারি থাকত সত্যজিতের ইউনিটেও কামুর জন্য। অনেকেই পুরোটা খেতে পারতেন না শ্যুটিংয়ের খাবার। বাকিটা চলে যেত কামুর প্লেটে। তাঁর আগাম নির্দেশমতো। কামু নাকি অনায়াসে দু’লিটার দুধ, ছ’টা কলা বা চারটে ডিম খেয়ে ফেলতে পারতেন।
অথচ এই আমোদপ্রিয়, স্বাস্থ্যবান, ভোজনরসিক মানুষটার শেষ জীবন কেটেছিল উপার্জনহীন, পক্ষাঘাতে পঙ্গু, প্রায় নির্বাক হয়ে। একসময়ের দাপুটে খলনায়ক কামুর চেহারার সঙ্গে মেলানো যেতনা তাঁর শেষবয়সের জীর্ণ চেহারাকে।
প্রথম আঘাত পান সত্যজিৎ রায়ের মৃত্যুতে। নন্দনে যখন সত্যজিৎ রায়ের মরদেহ শায়িত সেখানে একপাশে টাক মাথার, বড় ফ্রেমের কালো চশমা পরা, কাঁচাপাকা চুলের কামু কেঁদে চলেছেন। কান্না থামেনি প্রিয় মানিকদা শ্মশানে চুল্লিতে দাহ হওয়ার পরও। শ্মশানে এত কেঁদেছিলেন লাইভ টেলিকাস্টে দূরদর্শনের পর্দায় কামুকে দেখে সবাই বলেছিল "কামু মুখার্জী শিশুর মতো কাঁদছেন"। সত্যি তো অভিভাবকহারা হলেন কামু সেদিন। সত্যজিৎ রায়ের প্রয়াণের পর প্রায় উপার্জনহীন হয়ে পড়েন কামু। কেউ তাঁকে ছবিতে ডেকে কাজ দেয়নি। অজস্র সত্যজিৎ স্মরণসভা হয়েছে সেখানে কেউ কামু মুখোপাধ্যায়কে আমন্ত্রণ জানায়নি। অবসাদে একাকীত্বে ছবির জগত থেকে নিজেই মুখ ফিরিয়ে নেন। চলে যান প্রায় লোকচক্ষুর আড়ালে। কিন্তু অভাব! তার থেকে তো নিস্তার নেই। কাজ না পেয়ে রসিক কামু দুঃখেও মজা করে বলতেন “মন্দার বোসের বাজার মন্দা”! বেঁচে ছিলেন অনেক বছর কর্মহীন হয়ে।
বেলেঘাটা সিআইটি রোডের বাড়িতে শয্যাশায়ী হয়ে পড়ে থাকতেন পঙ্গু কামু মুখোপাধ্যায়। ছোটরা যে লোকটিকে ছেলেধরা ভেবে ভয় পেত, সে এইবুঝি ঝুলিতে পুরে নিয়ে পালিয়ে যাবে, সেই ভয়ংকর মন্দার বোস শীর্ণ দেহে শুয়ে থাকতেন। সারা শরীর পাতলা চাদরে ঢাকা কারণ পাখার হাওয়াও সহ্য করতে পারত না শরীর। অস্ট্রিও আর্থারাইটিস রোগে জীবন্মৃত হয়ে গেছিলেন কামু। শুয়েই মনে করতেন মানিকদার সঙ্গে, সন্দীপের সঙ্গে কাজের সোনালী দিনগুলো। মঞ্চেও কিন্তু তাঁর নাট্যজীবন খুব স্মরণীয়। 'বিষ', 'অনন্যা', 'বেণী সংহার' নাটকে দাপিয়ে স্টেজ কাঁপিয়ে ছিলেন কামু। মৃত্যু আর অভাবের সঙ্গে পাঞ্জা লড়তে লড়তে শেষ হয়ে গেছিলেন কামু মুখোপাধ্যায় ২০০৩ সালে ৬ই ডিসেম্বর ৭২ বছর বয়সে। নীরবেই শেষযাত্রা করেছিলেন তাঁর ছেলে। তবে রূপা গঙ্গোপাধ্যায়, প্রয়াত অভিনেতা রমেন রায়চৌধুরীর মতো কিছু শিল্পী কামু মুখোপাধ্যায়কে সাহায্যের হাত বাড়িয়েছিলেন। কিন্তু কামু বাবুর পরিবার সেই সাহায্য প্রত্যাখান করেছিলেন।
মিডিয়া কোনদিনই এই শিল্পীর প্রতি বদান্যতা দেখায়নি, ইন্ডাস্ট্রিও একইভাবে দূরে ঠেলে দিয়েছে এই অভিনেতাকে। সত্যজিৎ রায়ের ছবিতে কাজ করেও শেষ জীবন কেটেছে ভয়াবহ অর্থকষ্টে (Miserable)। মরে গিয়ে বেঁচে গেছেন তিনি নিজে নিজের কাছে।
কিন্তু কামু মুখোপাধ্যায়ের অবদান বাংলা ছবির সিনেপ্রেমী দর্শকরা মনে রাখবে আজীবন।
সত্যজিতের বায়োপিক জায়গা পেল না তাঁরই স্বপ্নের নন্দনে! কারণ জানেন না ‘অপরাজিত’ অনীক