‘দেবদাস’-এর ‘ডোলা রে ডোলা’ কোরিওগ্রাফি করতে গিয়ে প্রচণ্ড অসুস্থ ছিলেন সরোজ খান। মাটিতে শুয়েই নির্দেশ দিয়েছিলেন মাধুরী ও ঐশ্বর্যাকে।

সরোজ খান
শেষ আপডেট: 22 November 2025 12:48
দ্য ওয়াল ব্যুরো: নয়ের দশক থেকে শুরু করে বলিউড সিনেমার গান-নাচের অবিচ্ছেদ্য অংশ হয়ে উঠেছিলেন কিংবদন্তী কোরিওগ্রাফার সরোজ খান। 'এক দো তিন', 'চোলি কে পিছে', 'নিম্বুডা নিম্বুডা'-র মতো গান পপ কালচারে স্থান পেলেও, তাঁর কেরিয়ারের প্রথম জাতীয় পুরস্কার এনে দেয় সঞ্জয়লীলা বনসালি পরিচালিত 'দেবদাস' ছবির জনপ্রিয় গান "ডোলা রে ডোলা"।
এস. এল. বনসালির যুগে যুগে সমাদৃত ছবিগুলির মধ্যে অন্যতম ছিল 'দেবদাস' (৫০ কোটি টাকা বাজেটের)। তবে সরোজ খান এই গানটিকে তাঁর কেরিয়ারের সবচেয়ে কঠিন কাজ বলে উল্লেখ করেছিলেন, যা তাঁর অন্যতম সেরা প্রাপ্তি।
গানটির প্রধান আকর্ষণ ছিল মাধুরী দীক্ষিত এবং ঐশ্বর্যা রাই বচ্চন-এর নাচের দ্বৈরথ। দু'জনেই শীর্ষ অভিনেত্রী এবং অত্যন্ত পারদর্শী নৃত্যশিল্পী হওয়ায়, পুরো মিউজিক ভিডিওজুড়ে দর্শকদের মধ্যে একটি তুলনা করার প্রবণতা ছিল।
সরোজ খান এই বিষয়ে অত্যন্ত সচেতন ছিলেন। ২০১২ সালে মুম্বই মিরর-কে দেওয়া সাক্ষাৎকারে তিনি বলেছিলেন, "মাধুরী দীক্ষিত ও ঐশ্বর্যা রাই দু'জনেই অসাধারণ নৃত্যশিল্পী এবং আমি কাউকেই এটা অনুভব করাতে পারি না তিনি ভালো স্টেপ পাননি। আমি ভয় পাচ্ছিলাম, কেউ একজন হয়তো নিজেকে বঞ্চিত মনে করবেন, কিন্তু সৌভাগ্যক্রমে কিছুই হয়নি।" তিনি জানান, মাধুরী কয়েকদিন রিহার্সালের পর সেটে পৌঁছাতেন, আর ঐশ্বর্যা সেটেই রিহার্সাল করতেন। দুই তারকার প্রস্তুতির ধরন ছিল সম্পূর্ণ আলাদা।
বনসালি 'কুইন্ট'-কে দেওয়া এক সাক্ষাৎকারে প্রকাশ করেন যে, শ্যুটিংয়ের সময় সরোজ খান ছিলেন অত্যন্ত অসুস্থ। পরিচালক বনসালি বলেন, "তিনি মাটিতে শুয়ে নির্দেশ দিতেন। টানা ১৫ দিন শুট করেছিলেন।"
পরিচালক জানান, শুটিং চলাকালীন সরোজ খান প্রচণ্ড যন্ত্রণায় রীতিমতো কাতরাচ্ছিলেন। পরিস্থিতি এতটাই কঠিন ছিল যে, তিনি মাটিতে শুয়েই নাচের নির্দেশ দিচ্ছিলেন। তবে পর্দায় কিন্তু এই যন্ত্রণার ছাপ পড়তে দেননি সরোজ খান। গানটি মুক্তির পর ১৭টি পুরস্কার জিতেছিল।
এমনকি, 'দেবদাস' মুক্তির সময় সরোজের শারীরিক অবস্থা আরও খারাপ হলে বনসালি ও ঐশ্বর্যা তাঁকে হাসপাতালে দেখতে গিয়েছিলেন। তখনও তিনি প্রায় অচেতন অবস্থায় জানতে চেয়েছিলেন, দর্শক গানের প্রশংসা করেছে কিনা।
বনসালি মনে করতেন কোরিওগ্রাফিতে সরোজ খানের অবদান চিত্রনাট্যকার সেলিম-জাভেদের মতোই গুরুত্বপূর্ণ ছিল। তবে পরবর্তীতে তাঁদের পেশাগত সম্পর্কের অবনতি ঘটে। সরোজ খান টকিং সিনেমা-তে দেওয়া এক সাক্ষাৎকারে অভিযোগ করেছিলেন, 'রাম চাহে লীলা' গানের জন্য তাঁর কোরিওগ্রাফি ব্যবহার করা হলেও তাঁকে পারিশ্রমিক বা কৃতিত্ব কোনওটাই দেওয়া হয়নি।
প্রসঙ্গত, ইসমাইল দরবারের সুরে, নুসরত বদরের কথায় এবং শ্রেয়া ঘোষাল-কবিতা কৃষ্ণমূর্তির কণ্ঠে তৈরি এই গানটি ২১ বছর পরেও করণ জোহরের 'রকি অউর রানি কি প্রেম কাহিনি'-তে শ্রদ্ধা জানানো হয়েছিল।