
শেষ আপডেট: 1 April 2022 10:14
দ্য ওয়াল ব্যুরো: অস্কারের মঞ্চে দাঁড়িয়ে সঞ্চালককে সপাটে চড় মেরেছেন উইল স্মিথ। তারপর থেকেই চর্চায় উঠে এসেছে অ্যালোপেশিয়া। শুধু তো স্মিথের স্ত্রী জাডা পিঙ্কেটই নন, এই অস্বস্তিকর রোগের শিকার হতে হয়েছে অনেককেই। নিজের অ্যালোপেশিয়ার অভিজ্ঞতা ভাগ করে নিয়েছেন প্রাক্তন অভিনেত্রী সমীরা রেড্ডিও (Sameera Reddy)।
বলিউডের একাধিক ছবি তো বটেই, দক্ষিণ ভারতের ফিল্ম ইন্ডাস্ট্রিতেও একটা সময় চুটিয়ে কাজ করেছেন সমীরা। আজকাল বড়পর্দায় আর তাঁকে দেখা যায় না। সম্প্রতি তিনি সকলের সঙ্গে ভাগ করে নিয়েছেন তাঁর অ্যালোপেশিয়ার অভিজ্ঞতার কথা। জানিয়েছেন, একটা সময় তাঁর মাথায় ২ ইঞ্চি টাক পড়ে গিয়েছিল।
আরও পড়ুন: অ্যামাজন আমাদের ধ্বংস করতে চেয়েছিল, সুপ্রিম কোর্টে অভিযোগ ফিউচার রিটেলের
ইনস্টাগ্রামে সমীরা লিখেছেন, প্রত্যেকের জীবনেই নিজের নিজের সংগ্রাম রয়েছে। প্রতি মুহূর্তে তার সঙ্গে যুঝতে হচ্ছে আমাদের সকলকেই। তাই আমাদের সবার উচিত বাকিদের জন্য ইতিবাচক পরিসর তৈরি করা। অ্যালোপেশিয়া এমন একটা রোগ যে এটা হলে তোমার দেহের কোষগুলো সব চুলের গোড়ায় আক্রমণ করে। এতে চুল পড়তে শুরু করে, ধীরে ধীরে মানুষ ন্যাড়া হয়ে যায়।
২০১৬ সালে সমীরার অ্যালোপেশিয়া ধরা পড়েছিল বলে জানিয়েছেন তিনি। হঠাৎ দেখেছিলেন তাঁর মাথার পিছনের দিকে টাক পড়তে শুরু করেছে। প্রায় ২ ইঞ্চি মতো টাক পড়ে গিয়েছিল সামিরার মাথায়। মাস খানেকের মধ্যে আরও দু’জায়গায় তেমনই টাক দেখা দিয়েছিল। চুল হারিয়ে ফেলার এই যন্ত্রণা সহ্য করা সহজ ছিল না।
সমীরা আরও জানিয়েছেন, অ্যালোপেশিয়াতে রোগীর শরীরে অন্য কোনও দুর্বলতা বা বেদনা থাকে না। এটা ছোঁয়াচেও নয়। কিন্তু মানসিকভাবে এতে রোগী প্রচণ্ড ভেঙে পড়ে। চিকিৎসক এক্ষেত্রে সমীরাকে ভরসা জুগিয়েছিলেন। বেশিরভাগ ক্ষেত্রেই চুল ফের গজিয়ে উঠতে পারে। একটি বিশেষ ইঞ্জেকশন নেওয়ার পর তিন জায়গায় নতুন করে চুল গজাতে শুরুও করেছিল সমীরার। কিন্তু এই রোগের পুরোপুরি কোনও সমাধান নেই, কোনও চিকিৎসা নেই। হারানো গোছা গোছা চুল আর কখনও আগের মতো করে ফিরে পাওয়া যায় না, সমীরা তা ভাল করেই জানেন।
অভিনেত্রী সমীরা যে ধরনের অ্যালোপেশিয়ায় আক্রান্ত হয়েছিলেন তা এখন অনেকটাই সেরে গেছে, তাঁর মাথায় চুলও রয়েছে ভরা। তবে ডাক্তাররা বলেছেন এটা আবার ফিরে আসতে পারে। মানুষের প্রতি মানুষের সংবেদশীল হওয়া দরকার, সব শেষে এই বার্তাই দিয়েছেন সমীরা।