Date : 14th Apr, 2026 | Call 1800 452 567 | info@thewall.in
ভোটের ডিউটিতে কড়া নিয়ম! প্রিসাইডিং ও সেক্টর অফিসারদের জন্য একগুচ্ছ নির্দেশিকা কমিশনের'বন্ধু' মোদীকে ফোন ট্রাম্পের! ৪০ মিনিট ধরে হরমুজ প্রণালী নিয়ে কী আলোচনা হল?লোকাল ট্রেনের টিকিটে বিরাট ছাড়! ৫ টাকার টিকিট এখন কত পড়বে? জেনে নিন বিস্তারিতTB Vaccine: যক্ষ্মা প্রতিরোধে কতটা সফল নতুন টিকা? ট্রায়ালের রিপোর্টে আশার আলোর পাশাপাশি উদ্বেগের সুর বিজ্ঞানীদের'বাঙালি ব্রিটিশদের সামনে মাথা নত করেনি, আর এই বহিরাগতরা আমাদের কী করবে?' বিজেপিকে তোপ অভিষেকেরসাইলেন্ট লাং ডিজিজ: কাশি মানেই কি ক্যানসার? দূষণে ফুঁসছে ফুসফুস, কখন দরকার ট্রান্সপ্লান্ট?'ইগো সরিয়ে রাখুন', নিজেদের মধ্যে মতভেদ সরিয়ে এক হয়ে লড়ার নির্দেশ অভিষেকেরভাইরাল ভিডিও হাতিয়ার করে শাহের তোপ! হুমায়ুনকে ‘দিদির এজেন্ট’ বলে কটাক্ষ স্বরাষ্ট্রমন্ত্রীরগরমে মেজাজ হারালেন কর্মীরা! চুঁচুড়ায় নিজের দলের লোকেদেরই বিক্ষোভের মুখে দেবাংশুবার্নল-বোরোলিন বিতর্ক, ‘লুম্পেনদের’ হুঁশিয়ারি দিয়ে বিপাকে ডিইও, কমিশনকে কড়া চিঠি ডেরেক ও’ব্রায়েনের

'কোর্টের রায়ে আমার প্রপিতামহের মাথা উদ্ধার হয়নি!' সমপ্রেমের সুপ্রিম রায় নিয়ে সরব টলিপাড়া

'কোর্টের রায়ে আমার প্রপিতামহের মাথা উদ্ধার হয়নি!' সমপ্রেমের সুপ্রিম রায় নিয়ে সরব টলিপাড়া

শেষ আপডেট: 17 October 2023 19:53

শুভদীপ বন্দ্যোপাধ্যায়


জীবনসঙ্গী নির্বাচনের ক্ষেত্রে তাঁদের জীবনে বেশিরভাগ ক্ষেত্রেই উত্তর আসে 'না'। বরাতজোরে জীবনসঙ্গী পেলেও সেই সম্পর্ককে সামাজিক স্বীকৃতি দেওয়া যায় না। সেই সম্পর্কে নেই বিয়ের মতো প্রাতিষ্ঠানিক বন্ধন, নেই কোনও আইনি বৈধতা। আড়ালেই রয়ে যায় যে ভালবাসা, চোখের জল চোখেই শুকিয়ে যায়। সমাজের বিদ্রুপ আর হেনস্থার মাঝে পড়ে যৌবনের পালক একে একে খসে পড়তে থাকে। সেই ভালবাসার বিয়েতে আইনি স্বীকৃতি দেওয়ার লড়াইয়েরই 'সুপ্রিম' দিন ছিল মঙ্গলবার। 

সমলিঙ্গ বিবাহ নিয়ে কী রায় দেবে দেশের শীর্ষ আদালত, সেইদিকেই তাকিয়ে ছিল সারা দেশ, বিশেষ করে সমপ্রেমী মানুষরা। আজ সমকামীদের সম্পর্ক এবং অধিকারকে স্বীকৃতি দিলেও, সমলিঙ্গ বিবাহে এখনই আইনি স্বীকৃতি দিল না দেশের শীর্ষ আদালত। সমলিঙ্গের বিবাহ বৈধ হবে কিনা, তা আইন সংসদই ঠিক করবে, জানিয়ে দিয়েছে শীর্ষ আদালত। তবে রায় পুরোপুরি পক্ষে না হলেও আশার প্রদীপ একেবারেই নিভে যায়নি। বরং বিচারপতিদের এই সংক্রান্ত পর্যবেক্ষণ এবং নির্দেশ বহু ক্ষেত্রেই ক্যুইয়ার সমর্পযায়ের প্রতিই সোচ্চারে সমর্থনা প্রকাশ করেছে। জেনে নেওয়া যাক আজকের রায় নিয়ে কী বলছেন টলিউডের গ্ল্যামার জগতের সমপ্রেমী তারকারা। 

অভিনেতা এবং বাচিকশিল্পী প্রশিক্ষক সুজয়প্রসাদ চট্টোপাধ্যায় 'দ্য ওয়াল' কে জানালেন তাঁর প্রতিক্রিয়া। "লড়াইটা একটা দিকে এগোল। সে জন্য আমি সুপ্রিম কোর্টকে ধন্যবাদ জানাই। রায় চূড়ান্ত না হলেও একেবারে স্থবির থাকার থেকে কিছুটা হলেও তো এগোল। চূড়ায় ওঠা এখনও বাকি। সার্বিক জয় না হলেও জয়ের দিকে এগোনো। আমাদের দেশে সংসদে যাঁরা রয়েছেন তাঁরা বিবাহের বৈধতা ঠিক করবেন সেটা তো খুবই গোলমেলে ব্যাপার। 

আরেকটা বড় ব্যাপার, সম্পর্কের বৈধতা বা সম্পর্কের স্বীকৃতি, সেটা সুপ্রিম কোর্ট কেন ঠিক করবে আমি জানি না। এটাতে আমি বিশ্বাস করি না। দুজন মানুষের যখন প্রেম হয় সেটার স্বীকৃতি আদালত দেবে বলে অপেক্ষা করব? বিবাহ আলাদা জিনিস। বিয়ে হল সামাজিক চুক্তি। আর একটা কথা বলি, দেশের শীর্ষ আদালত সমলিঙ্গের সম্পর্ককে স্বীকৃতি দিলেও তাতে আমার বৃদ্ধ প্রপিতামহের মাথা উদ্ধার হয়নি। যে দুজন মানুষ ভালবাসায় আছেন তাঁদের রায়ই চূড়ান্ত।
 
রাজনীতিবিদরা ভোট ব্যাঙ্ক বাড়ানোর সময় এই নিয়ে যদি একটু সচেতন হন, তাহলে ভালই হয়। সমলিঙ্গের বিবাহ তো বৈধই, অবৈধ তো নয়।
যাঁরা অবৈধ বলেন, তাঁদের বলি সমকাম বন্ধ করতে হলে তাহলে খাজুরাহো দর্শন করা উচিত নয়। সমকাম ভারতের সনাতন ঐতিহ্যের অঙ্গ।" 

টলিপাড়ার গ্ল্যামার জগতের বিখ্যাত ফ্যাশন ডিজাইনার ইন্দ্রনীল মুখোপাধ্যায় জানাচ্ছেন "এই রায়ে আরও বিশদে দেখলে কিছুটা হলেও রূপান্তরকামী মানুষেরা বেশি উপকৃত হয়েছেন। ট্রান্সজেন্ডার নারী, হেটেরোসেক্সুয়াল পুরুষকে বিয়ে করলে বা ট্রান্সজেন্ডার পুরুষ যদি জন্মগত লিঙ্গপরিচয় অনুযায়ী কোনও নারীকে বিয়ে করেন সেটা স্বীকৃত হবে। রূপান্তরকামীরা অনেকটাই জিতেছেন। তবে আমাদের গে বা লেসবিয়ানদের জন্য খুব একটা কিছু এগোল না। কিন্তু এটা তো একটা লম্বা লড়াই, তাই এক ধাপ হলেও আমরা এগোলাম।

একসময় সমাজ বলত সমকামিতা মানসিক অসুখ, অস্বাস্থ্যকর যৌনতা, পশ্চিমের নোংরামি এদেশে এসেছে, এগুলো তো এখন আর বলছে না। এলজিবিটি মানুষরা আজ স্বীকৃত সব জায়গাতেই। আমরা যেটা চেয়েছিলাম সেটা পাইনি, কিন্তু আলোর দিকে এগিয়েছি। আমাদের লড়াইতে সংখ্যাগরিষ্ঠতা বাড়াতে রামধনু ছাতার তলায় গে লেসবিয়ান ট্রান্সজেন্ডার সবাইকেই আনা খুব দরকার। ছোট ছোট বিভাগ হলে আমরা কিছুই পাব না। একদিকে আমি বলব ভাল হয়েছে।"

শহরের বিখ্যাত কোরিওগ্রাফার ও নৃত্যশিল্পী সুদর্শন চক্রবর্তী জানালেন  আমাদের " রায় জয়ের দিকে এগোলেও সেটা খুবই ধীর গতিতে। আমাদের প্রজন্ম এই লড়াই অনেক বছর ধরে লড়ছে। রায় যদি এত ধীর গতিতে আসে আমরা যারা লড়াই করছি আমরা কিন্তু শেষ অবধি জয় দেখে যেতে পারব না। আরও দ্রুত রায়দান দরকার। শুধু তাই নয়, এমন রায় দেওয়া হোক যা অন্যদের ক্ষতি না করে। শুধু গ্ল্যামার জগৎ বা শিক্ষিত জগৎ নয়, সমাজের প্রান্তিক মানুষেরাও যেন উপকৃত হন। সমলিঙ্গের বিবাহ আইনেও পরিবর্তন আনা দরকার। সেটা এখনও বিশ বাঁও জলে।

এত ধীর গতিতে এগোলে লড়াইয়ের কোনও মানে থাকে না। বিয়ের পরই আসে সন্তান দত্তক নেওয়ার আইনি জটিলতা। সমলিঙ্গের বিয়ের বৈধতা শুধু নয়, ব্যাঙ্কের হিসাব খাতে মনোনয়ন করতে গেলে দুজন সমলিঙ্গের দম্পতির সম্পর্কের পরিচয় লাগে। সেগুলো কতটা আইনসিদ্ধ সেটা দেখা দরকার। গে-লেসবিয়ান কাপলরা বাচ্চা দত্তক নিলে সেই বাচ্চার মানসিক স্বাস্থ্যের দিকেও খেয়াল রাখতে হবে। তাকে যেন এই নতুন পন্থায় সুরক্ষিত রাখা যায়। বিধবা বিবাহেও আগে পাত্র পাওয়া যেত না। সমলিঙ্গের বিবাহে আইনি স্বীকৃতি এমন ভাবে আসুক যেন সেটা পরিপূর্ণ স্বীকৃতি হয়। দ্রুত, একটু দ্রুত। বেলা যে ফুরিয়ে আসছে।"


```