
সলমন খান
শেষ আপডেট: 25 July 2024 16:21
দ্য ওয়াল ব্যুরো: কুখ্যাত গ্যাংস্টার লরেন্স বিষ্ণোইয়ের নজরে সলমন খান। বহুদিন ধরেই লরেন্স বিষ্ণোই গ্যাংয়ের কাছে হত্যার হুমকি পাচ্ছেন সুপারস্টার। তবে শুধু খুন নয়, 'সলমন খানকে ভয় দেখাতে হবে', গত ১৪ এপ্রিল অভিনেতার বাড়িতে গুলি চালানোর আগে বিষ্ণোইয়ের ভাই আনলোল শ্যুটারদের এমনটাই বলেছিলেন।
সলমনের বাড়িতে গুলি চালানোর ঘটনায় বিশেষ আদালতে ১৭৩৫ পৃষ্ঠার চার্জশিট পেশ করা হয়েছে। যেখানে শ্যুটার এবং আনমোল বিষ্ণোইয়ের মধ্যে কথোপকথনের অডিও ক্লিপগুলির বিষয়ে উল্লেখ করেছে ক্রাইম ব্রাঞ্চ। চার্জশিট অনুযায়ী, শ্যুটার ভিকি গুপ্তা এবং সাগর পালকে নির্ভীক দেখানোর জন্য হেলমেট না পরতে এবং ধূমপান করতে বলেছিলেন বিষ্ণোই।
এখানেই শেষ নয়, চার্জশিটে সলমনের বিবৃতিও উল্লেখ করা হয়েছে। যেখানে অভিনেতা জানিয়েছেন, আনমোল বিষ্ণোইয়ের হামলার পর তাঁর পরিবার আতঙ্কে রয়েছে। সংশ্লিষ্ট কথোপকথনে আনমোল বিষ্ণোই অভিনেতার বাড়িকে লক্ষ্য করে শ্যুটারদের একাধিক গুলি চালানোর নির্দেশ দেয়। শ্যুটারদের উদ্দেশে স্পষ্ট বলা হয়, "এমনভাবে গুলি চালাতে হবে যেন ভাই (সলমন) ভয় পেয়ে যায়। শরীরী ভাষায় যেন না থাকে ভয়। ধূমপান করতে হবে যাতে সিসিটিভি ক্যামেরায় দেখতে নির্ভীক লাগে।
সলমনের বাড়িতে গুলি চালানোর ঘটনায় এখনও পর্যন্ত প্রায় রোজই মুম্বই পুলিশের হাতে এসেছে নানা চাঞ্চল্যকর তথ্য। কিন্তু চার্জশিটে ঘটনাটির আরও নতুন তথ্য সামনে এসেছে। আনমোল বিষ্ণোই শুটিংয়ের আগে গুপ্তা এবং পালের সঙ্গে অনবরত যোগাযোগ করতে থাকেন। এমনকী পুলিশ এমনও জানিয়েছে যে গ্যাংস্টার লরেন্স বিষ্ণোই বর্তমানে জেলে থাকলেও তিনি শ্যুটারদের সঙ্গে কথা বলেছেন। চার্জশিট অনুযায়ী, আনমোল শ্যুটারদের বলেন, সফল হলে তাঁরা 'ইতিহাস তৈরি করবে' এবং তাদের নাম মিডিয়ায় আসবে।
মুম্বইয়ে সলমনের বাড়ি গ্যালাক্সিতে আচমকাই গুলি চালিয়ে পালিয়ে গিয়েছিল দুষ্কৃতীরা। এরপরেই ঘটনায় অভিযুক্ত সন্দেহে দু'জনকে গ্রেফতার করা হয়। ২৪ বছর বয়সি ভিকি গুপ্ত ও ২১ বছরের সাগর পালকে তুলে দেওয়া হয় ক্রাইম ব্রাঞ্চের হাতে। জেরার মুখে তারা স্বীকার করে, গুলি চালিয়ে নদীতে ফেলে দিয়েছে বন্দুক ও গুলি। সেই মতো নদী থেকে উদ্ধারও করা হয় দু'টি বন্দুক ও তিনটি ম্যাগাজিন।
এর ক'দিন পরেই এই ঘটনায় পাঞ্জাব থেকে সোনু কুমার বিষ্ণোই ও অনুজ থাপনকেও গ্রেফতার করা হয়। এই অনুজ থাপনের আবার মৃত্যুও হয় জেলে। সে আত্মহত্যা করেছে বলে জানায় পুলিশ, তবে তা মানতে নারাজ অনুজের পরিবার। ছেলের মৃত্যুর তদন্তে সিবিআই চেয়ে বম্বে হাইকোর্টে যায় তারা। তাদের দাখিল করা পিটিশনে ছেলের মত্যুর জন্য দায়ী হিসেবে সলমন খানের নামও ছিল। যদিও সেই নাম সরানোর নির্দেশ দেয় আদালত।