
শকুন্তলা বড়ুয়া, আশিস বিদ্যার্থী
শেষ আপডেট: 22 April 2025 14:15
আজ টলিপাড়ার সুনয়নীর জন্মদিন। সুন্দর চোখের অধিকারিণী হওয়ায় সরাসরি প্রথম ছবিতেই উত্তমকুমারের নায়িকা হওয়ার সুযোগ পান এক বাড়ির বউ। ডিগ্ল্যামারাইজড রোলেই তিনি জায়গা করে নেন বাংলা ছবির আঙিনায়। সেই সুন্দর চোখের অভিনেত্রীর নাম শকুন্তলা বড়ুয়া (Shakuntala Barua)।
জীবনের অনেক ঘাত-প্রতিঘাত পেরিয়ে টলিউডের দাপুটে অভিনেত্রী হিসেবে নিজের জায়গা প্রতিষ্ঠা করেছেন তিনি। শকুন্তলা বড়ুয়া নামকরা তারকা মুখ হলেও তিনি রোজ বাজারে গিয়ে বাজার করেছেন, রান্নায় তাঁর জুড়ি মেলা ভার, তেমনই গানেও তিনি অদ্বিতীয়া। দুই মেয়েকে মানুষ করা থেকে মেয়েদের সন্তানদেরও একা হাতে মানুষ করেছেন শকুন্তলা।
সব দায়িত্ব সেরে, ঝাড়া হাত-পায়ে এখন নিজের মতো জীবন কাটাচ্ছেন বর্ষীয়ান চিত্রাভিনেত্রী।
জন্মদিনে সকাল সকাল শকুন্তলা বড়ুয়া দ্য ওয়ালকে বললেন, 'সত্যিই আজ জন্মদিনটা খুব উপভোগ করছি। কাল থেকেই এনজয় করছি। আমার বড় মেয়ে মুম্বই থেকে উপহার নিয়ে কালকেই কলকাতা চলে এসেছে। কাল আমার বোন তিলোত্তমা আমার জন্য অনেক রান্না করেছিল। আজ এখন সকাল সকাল বেরিয়ে পড়েছি বোন আর বড় মেয়ের সঙ্গে, ডায়মন্ড হারবারের পথে। ওখানে পুণ্যলক্ষ্মী রিসর্টে আজ সারাটা দিন থাকব, খাওয়া-দাওয়া করব।'
এরই মাঝে অভিনেত্রী হারিয়েছেন তাঁর স্বামীকে। এমনকী বড় মেয়ে পিলু বিদ্যার্থীর সংসারও ভেঙে গেছে বলিউডের খলনায়ক অভিনেতা আশিস বিদ্যার্থীর (Asish Vidyarthi) সঙ্গে। কিন্তু তার মাঝেও আজ শকুন্তলা বড়ুয়ার জন্মদিনে বাজল বিরল সুর। যে সুরে মন ভাল হয়ে গেছে সুনয়নীর।
শকুন্তলার কথায়, 'আমার প্রাক্তন জামাই আশিস আমায় জন্মদিনের শুভেচ্ছা জানাল। জয়পুর থেকে আনা দুর্দান্ত একটা উপহারও পাঠিয়েছে। আমাদের এই ব্যাপারটা খুবই ইন্টারেস্টিং। কেউ বুঝতে পারবে না, আশিস আমার প্রাক্তন বড় জামাই। আমার বড় মেয়ের প্রাক্তন স্বামী আশিস। তবে আমাদের শাশুড়ি-জামাইয়ের সম্পর্কটা একই আছে। শুধু তাই নয়, ফোনে কনফারেন্স কলে আমি, পিলু আর আশিস একসঙ্গে কথাও বললাম কাল। আশিস নিজেই ফোন করেছিল। শুধু তিনজনে কেন? চার জনে! আশিসের বর্তমান বউও আমাকে উইশ করল। আশিসের বউয়ের ২১ তারিখ জন্মদিন আর আমার আজ ২২ তারিখ জন্মদিন। সবাই মিলে ফোনে গল্প করলাম। খুব ভাল লাগছে ব্যাপারটা। ডিভোর্সের পর প্রথম পক্ষের শাশুড়ির সঙ্গে এমন ভাল সম্পর্ক খুব বিরল।’
শকুন্তলা আরও বলেন, ‘কে কেন আলাদা থাকছে, বিয়ে ভেঙে গেছে, এসব বিশ্লেষণ করার কোনও দরকারই নেই। যে যেমন যার মতো ভাল থাকতে চায়, থাকুক। আশিস আমায় কোনওদিন মা ডাকেনি। চিরকাল দেবীদি বলে ডাকে। মুম্বইতে আশিস সবার সঙ্গে আমার আলাপ দেবীদি বলেই করিয়ে দিয়েছে। তাই এখন টলিউড বা বলিউড দুই ইন্ডাস্ট্রির লোকেরাই ভাবেন, আমার ডাক নাম দেবী। কিন্তু আমার পৈতৃক ডাকনাম খুকু। আশিস নতুন নাম দেয় আমার, দেবী। সেই নামই চারদিকে চাউর হয়ে গেছে। একবারও মনে হয় না আমার জামাই দূরে চলে গেছে। সবাই কাছের।'
জন্মদিনে নিজের প্রথম হিরো উত্তমকুমারের কথাও বললেন শকুন্তলা। সুন্দর চোখ বলেই বিবাহিতা দুই কন্যা সন্তানের মা শকুন্তলা বড়ুয়াকে উত্তমকুমারের নায়িকা করেছিলেন পরিচালক সুখেন দাস। যদিও প্রথম শকুন্তলাকে প্রথম পছন্দ করেন শচীন অধিকারী। উনি ছবিটা সুখেন দাসকে দিয়ে দেন। প্রথমে ছবির নাম ছিল 'গান্ধারী'। পরে সুখেন দাস নাম বদলে 'সুনয়নী' করে দেন। 'জানি না কেন যে আলো নেই' এই ছবির টাইটেল সঙ আশা ভোঁসলের কণ্ঠে শকুন্তলার লিপে বিশাল হিট করেছিল।
উত্তমকুমারের কথা বলতে গিয়ে শকুন্তলা আরও বললেন, 'আমার মতো একটা নতুন মেয়ের সঙ্গে উত্তমকুমার যে ভাবে সহযোগিতা করেছিলেন, তা ভোলার নয়। প্রথম শট আমার যাতে ওকে হয়, কী দারুণ ভাবে সাহায্য করেছিলেন দাদা। আমি প্রথম দিন থেকেই উত্তমকুমারের যত্ন পেয়েছি। কোনও নতুন মেয়ের জন্য উত্তমকুমারের বাড়ি থেকে সুপ্রিয়া দেবী রান্না করে পাঠাতেন। আমার আর দাদার জন্য দুটো টিফিন কৌটো পাঠাতেন বেণুদি। এমনকী দাদা আমাকে বলেছিলেন, 'আমি একটা ছবি পরিচালনা করতে চাই তাতে একটাই ডিগ্ল্যামারাইজড অভিনেত্রীর রোল। সেই বিধবার রোলে তুমি কি করবে শকুন্তলা?' আমি বলেছিলাম 'নিশ্চয়ই করব দাদা'। তখন ছবির নাম হওয়ার কথা ছিল, 'হব ইতিহাস'। তারপর তো উত্তমকুমার প্রয়াত হলেন। 'হব ইতিহাস' পরিচালনা করার দায়িত্ব তার আগেই চলে গেছিল শুভেন্দুদার (চট্টোপাধ্যায়) কাছে। উনিও করলেন না। এরপর ওই ছবি পরিচালনা করলেন অঞ্জন চৌধুরী। ছবির নাম বদলে হল 'শত্রু'। বাকি সব চরিত্রের কাস্টিং বদলে গেলেও, বিধবার রোলে অঞ্জন চৌধুরী কিন্তু আমাকেই নিয়েছিলেন। উনি বলেছিলেন, এই রোল উত্তমকুমারের চয়েস করে দেওয়া। এই ঘটনার কথা আজও অনেকে জানেন না। আমার জন্মদিনে আজ বললাম।'