
শেষ আপডেট: 1 June 2022 04:25
দ্য ওয়াল ব্যুরো: কো-ইনসিডেন্ট কি একেই বলে? নিয়তি কি এভাবেই হাওয়ায় ভাসিয়ে দেওয়া কথার সঙ্গে বাস্তবকে মুখোমুখি দাঁড় করিয়ে দেয়? ঠারেঠোরে এভাবেই কি সে বুঝিয়ে দেয়, কথাটা তুমি ভাল বলোনি, এটা তোমার বলা উচিত হয়নি (Rupankar Bagchi)?
তা না হলে কেন বাংলার গায়ক রূপঙ্কর বাগচী (Rupankar Bagchi) ঠিক মঙ্গলবারই বলিউড খ্যাত শিল্পী কৃষ্ণকুমার কুন্নাথকে (KK) নিয়ে অমন মন্তব্য করবেন! আর কেনই বা সেই মঙ্গলবারেই দেশজোড়া শোক রেখে হঠাৎ চলে যাবেন কে কে? নিয়তির অমোঘ খেলা ছাড়া আর কীই বা বলা যায় একে?
আরও পড়ুন: কেউ রূপঙ্করকে দুষলেন, কেউ ভাসলেন আবেগে, কে কে-র হঠাৎ মৃত্যুতে উত্তাল সোশ্যাল মিডিয়া
রূপঙ্কর বাগচী যখন থেকে কে কে-র মৃত্যুসংবাদ পেয়েছেন, হয়তো নিজেকে ক্ষমা করতে পারছেন না (Rupankar Bagchi)। তিনি পারলেও রূপঙ্করকে ক্ষমা করছেন না বাংলায় কে কে-র অগণিত ভক্ত। সোশ্যাল মিডিয়ায় সমালোচনার বন্যা বইছে। অজস্র আঙুল একযোগে উঠছে রূপঙ্করের দিকে। কেন তিনি ওভাবে কে কে-র বিরুদ্ধচারণ করলেন? কে কে তো চলে গেলেন, এবার তবে শান্তি পেলেন রূপঙ্কর?
ক্ষোভ, বিদ্রুপ আর অভিযোগের শত শত তর্জনীর মাঝে কে কে-র মৃত্যু নিয়ে অবশেষে মুখ খুলেছেন রূপঙ্কর বাগচী। বলেছেন, ‘কষ্ট হচ্ছে। কে কে-র বিরুদ্ধে আমি কিছুই বলতে চাইনি। বাংলা গান, বাংলা সাহিত্যের পক্ষে কথা বলতে চেয়েছিলাম। মানুষ এটা বুঝতে না পারলে আমার খারাপ লাগবে।’
রূপঙ্কর আরও বলেছেন, কে কে-র মৃত্যুতে তিনি শোকাহত। বড় মাপের শিল্পী ছিলেন কে কে। বড় অসময়ে চলে গেলেন। এর আগে অনেক শিল্পী পৃথিবীর মায়া কাটিয়ে চলে গেছেন বটে, তবে কে কে-র তো যাওয়ার বয়সই হয়নি!
রূপঙ্কর জানিয়েছেন, তিনি নিজেই কে কে-র ভক্ত। ব্যক্তিগতভাবে ভদ্রলোককে তিনি চেনেন না। তাঁর উপর তাই কোনও ব্যক্তিগত রাগের প্রশ্নই নেই। রূপঙ্করের বক্তব্য নিয়ে কেউ অন্যরকম কিছু ভেবে থাকলে তাঁরা ভুল করছেন।
কী বলেছিলেন রূপঙ্কর? কোন কথাটা নিয়ে এত বিতর্ক, এত শোরগোল?
রূপঙ্কর বাগচী মঙ্গলবার কে কে-র মৃত্যুর কয়েকঘণ্টা আগেই ফেসবুক লাইভে এসে বলেছিলেন, ‘হু ইজ কে কে? আমরা ওঁর থেকেও ভাল গান করি।’ কলকাতায় কে কে-র কনসার্ট নিয়ে মানুষের যে উত্তেজনা, তাকেই কটাক্ষ করে রূপঙ্কর বলেন, আমার তো মনে হল সোশ্যাল মিডিয়ায় আমার, মনোময়, সোমলতা, ইমন, রাঘব, উজ্জয়িনী বা রূপমেরও এমন গানের ভিডিও আছে। আমরা সবাই কে কে-র চেয়েও ভাল গান গাই। কেন আপনারা আমাদের গানে এমন উত্তেজিত হন না?’
বাংলা গানের চেয়ে বলিউডের শিল্পীদের প্রতি কেন বাংলার দর্শকদের ঝোঁক বেশি, সেই প্রশ্ন তুলেছিলেন রূপঙ্কর। বলা বাহুল্য, তাঁর সেই মন্তব্য অনেকেই ভাল চোখে দেখেননি। তখন থেকেই চর্চা শুরু হয়েছিল। পরে কলকাতার কনসার্ট শেষেই কে কে-র মৃত্যু যেন আগুনে ঘি ঢেলেছে। সোশ্যাল মিডিয়ায় রূপঙ্করের মুণ্ডপাত চলছে। তার মাঝেই নিজের বক্তব্যের ব্যাখ্যা দিলেন রূপঙ্কর বাগচী।