দেবাঙ্ক পেশায় সফটওয়্যার ইঞ্জিনিয়ার আর ভালবেসে নেশায় থিয়েটার করেন।
.jpeg.webp)
গ্রাফিক্স - দিব্যেন্দু দাস
শেষ আপডেট: 13 July 2025 15:45
'শুভদৃষ্টি' ছবির কনে বউ দীপালিকে মনে পড়ে? কোয়েল মল্লিকের দিদি দীপালির ভূমিকায় অভিনয় করেছিলেন রূপা ভট্টাচার্য। সেই রূপার গতকাল সত্যিসত্যি ছাদনাতলায় শুভদৃষ্টি হল। কার সঙ্গে গাঁটছড়া বাঁধলেন অভিনেত্রী? দ্য ওয়াল-এ বিয়ের পর এই প্রথম মুখ খুললেন রূপা ভট্টাচার্য।
মধ্যবিত্ত পরিবারের মেয়ে রূপা ভট্টাচার্য। পরিবারের সাহচর্য একেবারেই পাননি অভিনেত্রী হয়ে উঠতে। বাংলা মাধ্যম স্কুলে পড়া মেয়ে নিজেকে ঘষেমেজে হয়ে ওঠেন গ্ল্যামারাস অভিনেত্রী। প্রথম শুরু হয়েছিল তারা বাংলার ননফিকশন শো 'অঙ্গনা' তে সঞ্চালিকা হিসেবে। তারপরই ডাক পান প্রভাত রায়ের কাছ থেকে 'শুভদৃষ্টি' ছবিতে। এরপর একের পর এক সিরিয়ালে অভিনয় করে তিনি হয়ে ওঠেন দাপুটে অভিনেত্রী। রূপা আজকাল অবশ্য নিজের নাম রূপালি ব্যবহার করেন সোশ্যাল মিডিয়ায়। আর সোশ্যাল মিডিয়া থেকেই রূপালি খুঁজে পেলেন তাঁর মনের মানুষ। প্রেমিক হল বর। পাত্র সফটওয়্যার ইঞ্জিনিয়ার দেবাঙ্ক ভট্টাচার্য।

অভিনেত্রীর প্রেম মফস্বলের ছেলের সঙ্গে। রূপকথা মনে হলেও সেটাই বাস্তব। সত্যিকারের সীমন্তিনী হয়ে ওঠার পর দ্য ওয়ালকে রূপা ভট্টাচার্য জানালেন 'বন্ধুত্ব থেকেই আমাদের বিয়ে। ফেসবুকে চ্যাট করতে করতে আমাদের বন্ধুত্ব। আমার যেহেতু একটা রাজনৈতিক মতামত আছে তাই সেইসময় সামাজিক রাজনৈতিক নানা ঘটনা নিয়ে দেবাঙ্কর সঙ্গে খুব আলোচনা হত। আর আমাদের দুজনের ভালবাসার বিষয় যেহেতু সিনেমা তাই আরওই ভাল লাগা বাড়ল। ওঁর সিনেমা দেখা আমার থেকেও বেশি।দু'জনেই আমরা খুব মুক্তমনা, ডিসিপ্লিনড জীবনযাপন করি , এক্সারসাইজ করি রোজ।'

রূপা আরও বললেন 'দেবাঙ্ক পেশায় সফটওয়্যার ইঞ্জিনিয়ার আর ভালবেসে নেশায় থিয়েটার করে। সুদীপ্তা চক্রবর্তীর ছাত্র দেবাঙ্ক। সুদীপ্তা চক্রবর্তী অ্যাক্টিং অ্যাকাডেমির স্টুডেন্ট। কাল আমাদের বিয়েতেও টুম্পাদি সুদীপ্তা চক্রবর্তী এসেছিলেন। তবে আমার বরকে তো অফিস সামলে থিয়েটার করতে হয়। চাকরি সূত্রে ব্যাঙ্গালোরে যখন থাকত তখন ওখানেও দেবাঙ্ক নাটক করত। আমার শ্বশুরবাড়ি হচ্ছে কাকিনাড়া কিন্তু সেটা তো অনেক দূরে। এখন আমার আর দেবাঙ্কর সংসার শুরু হল পাটুলিতে। '

রূপার কথায় 'এই বয়সে এসে বিয়েতে বন্ধুত্ব টিকিয়ে রাখতেই মানুষ চায়। আমাদের এতো আর টিনএজ লাভস্টোরি নয়। আমরা কিন্তু পার্টি পার্সন নই। চাঁদ,তারা, ফুল প্রেম আমাদের নয়। আমরা খুবই ভাল বন্ধু। সেই বন্ধুত্ব অক্ষয় হোক বলে বিয়ে করে নিলাম আমরা'। রূপা একজন চেনামুখ অভিনেত্রী হলেও বরের পেশাকে সবসময় শ্রদ্ধার চোখে দেখেন। বরকে কখনও বলেন না নিজের অফিসের মিটিং ফেলে কোনও ছবির প্রিমিয়ারে চলে আসতে। অভিনেত্রী পুত্রবধূকে পেয়ে খুশি শ্বশুরবাড়ির সকলে।

গতকাল একদমই কয়েকজন কাছের বন্ধুর উপস্থিতিতে সামাজিক মতে বিয়ে সারলেন রূপা-দেবাঙ্ক। ইন্ডাস্ট্রির থেকে সুদীপ্তা চক্রবর্তী, কাঞ্চনা মৈত্র, সঙ্ঘশ্রী সিনহা মিত্র, দেবপ্রতিম দাশগুপ্তর মতো কাছের মানুষেরা হাজির ছিলেন এই বিয়েতে। কনের সাজে সেজে অপরূপা লাগছিল রূপাকে। গোলাপি রঙকেই বরকনে বেছে নিয়েছিলেন বিয়ের মিলনের রং হিসেবে। চুপিসারে খুব প্রাইভেট বিয়ে সারলেন অভিনেত্রী। তাঁদের দ্বৈত জীবনে রইল একরাশ শুভ কামনা।