
দাদার বিয়ে, কী বলছেন রুদ্রনীল?
শেষ আপডেট: 18 April 2025 20:43
বিহঙ্গী বিশ্বাস
নিউটাউনের আবাসনে সকাল থেকেই সাজো সাজো রব। বিকেল সাড়ে ৫টায় পাত্রী রিঙ্কু মজুমদারের সঙ্গে বিয়ের বন্ধনে আবদ্ধ হতে চলেছেন বিজেপি নেতা দিলীপ ঘোষ। ৫৯ বছর বয়সে কৌমার্য ভেঙে বিবাহিত তকমা গায়ে উঠছে এক ঘোষের। ওদিকে তাঁর চেয়ে কিছু বছরের ছোট আর এক ঘোষ এখনও 'সিঙ্গল'! কথা হচ্ছে রুদ্রনীল ঘোষের। একই দল তাঁদের, চিন্তনেও রয়েছে মিল, 'দিলীপদা' বিয়ে করে নিচ্ছেন, রুদ্রনীলের সানাই বাজবে কবে?
বৃষ্টিভেজা দিনে খোশমেজাজে রুদ্রনীল দ্য ওয়াল ফোন করতেই 'দাদা'র জন্য জানালেন এক আকাশ শুভেচ্ছা। সমাজের বেঁধে দেওয়া বিয়ের বয়স বহু আগেই পার করেছেন দিলীপ। 'এই বয়সে বিয়ে'! শুনতে হচ্ছে কটাক্ষও। ব্যাপারটা কানে এসেছে রুদ্রনীলেরও। তাঁর কথায়, "গতানুগতিক পদ্ধতিতে বিয়ের বয়স সম্পর্কে আমাদের এক প্রচলিত পুরনো ধারণা ছিল। কিন্তু বহু বছর ধরে এই আধুনিকতায় তা ভেঙেচুরে তছনছ হয়ে গিয়েছে। দিলীপ ঘোষের মতো মানুষ, যিনি প্রচারক হিসেবে জীবনযাপন করেছেন,জীবনের এতগুলো বছর দিয়ে দিয়েছেন অন্য মানুষের জন্য। নিজের দিকে তাকানোর সময় পাননি। তার ক্ষেত্রে এই দেরিটা অত্যন্ত স্বাভাবিক। আমাদের পরিবারের বেশ কিছু মানুষের দাবি থাকে। সেটাকে মান্যতা দিতে হয়। সব কথা তো রাজনৈতিক হতে পারে না। সাংসারিক, ব্যক্তিগত... সেগুলো ভাগ করে নেওয়ারও মানুষ চাই। এতে সমস্যা কোথায়?"
শোনা গিয়েছিল, ২৬-এর ভোটের আগে দিলীপের এই বিয়ের সিদ্ধান্ত নিয়ে নাকি বিরোধিতা জানিয়েছেন কেন্দ্রীয় বিজেপি নেতৃত্বের একটা অংশ। সত্যিই কি তাই? রুদ্রনীল বললেন, "আমি এই ব্যাপারে জানি না। ওঁর বিয়ের খবরটা তো আমি মিডিয়ার বন্ধুদের কাছ থেকে জেনেছি। দিলীপদার কাছের মানুষ বলে যাদের জানতাম, তাঁদের কাছেও এই বিষয়ে স্পষ্ট ধারণা নেই। কী কারণে কেন্দ্রীয় নেতৃত্ব অখুশি হবেন সে বিষয়ে আমার ধারণা নেই। রাজনৈতিক কারণ থাকতে পারে। কিন্তু বিবাহিত মানুষেরা কি রাজনীতি করছেন না? মানুষের হয়ে কাজ করছেন না? তা তো নয়।"
একেবারেই ঘরোয়া ভাবে বিয়ে সারছেন দিলীপ ঘোষ। এক্কেবারে কাছের মানুষদের নিয়ে আইনি মতে বিয়ে হবে বলেই জানা গিয়েছে। সেই বিয়েতে যদিও হাজির থাকবেন না রুদ্রনীল। তাতে অবশ্য তাঁর আফসোস নেই। হাসতে হাসতেই বললেন, "আসলে দিলীপদা খবরটা আগে থেকে বলেননি, তাই লোকজনের নিমন্ত্রণের ক্ষেত্রে অনেক খরচ বেঁচে গেল। ওঁকে এত মানুষ পছন্দ করেন, উনি এত জনের পাশে থেকেছেন, তিনি যদি কার্ড পাঠিয়ে পাঠিয়ে নেমতন্ন করতে যেতেন তবে বিরাট একটা খরচ হয়ে যেত। একে এই রাজ্য অর্থনৈতিক সঙ্কটে ভুগছে, এই কাণ্ড আরও একটি অর্থনৈতিক ধস নেমে যেত। শোনা যাচ্ছে, কাছের লোকজনদের পরে আনন্দ অনুষ্ঠানের আয়োজন করে ডাকবেন।"
৫০ পেরিয়ে বিয়ে এখন নতুন কিছু নয়। ভাল থাকার অধিকার সব বয়সীদের রয়েছে। রুদ্রনীল ৫০ পার করেছেন। সদ্য বসন্ত পার হয়েছে। দিলীপ ঘোষের বিয়ে কি 'চিরকুমার' ট্যাগ ঘোচাতে খানিক সহায়তা করবে রুদ্রনীলকে? একচোট হাসলেন অভিনেতা-নেতা। তারপর খানিক মস্করা করেই অভিনেতাকে বলতে শোনা গেল, "ছোটবেলা থেকে আমার ঘনিষ্ঠ বন্ধুরা যেমন রাজ (চক্রবর্তী) , কাঞ্চন (মল্লিক), পরমব্রত (চট্টোপাধ্যায়) কেউ প্রথম বার, কেউ দ্বিতীয় বার, কেউ তৃতীয় বার বিয়ে করে আমাকে অনুপ্রেরণা জোগান দিতে পারল না, সেখানে দিলীপ ঘোষ কী করে আমায় বিয়েতে ইনস্পায়ার করবেন, বলুন তো?"